মিশিগানে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ১১ জন

আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০১:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০১:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
ল্যান্সিং, ১৫ সেপ্টেম্বর: ‘মিশিগান উইকলি আরবোভাইরাস সামারি’র হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মিশিগানে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ১১ জন শনাক্ত হয়েছেন।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের (MDHHS) ব্যুরো অব ইনফেকশাস ডিজিজ প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ওকল্যান্ড কাউন্টিতে মানুষের শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের একটি সম্ভাব্য সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ ঘটনাটি চলতি বছর ওই কাউন্টিতে প্রথম মানব সংক্রমণ।
হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, এমেট, কেন্ট, ম্যাকম্ব, নেওয়েগো, ওকল্যান্ড, অটোয়া ও ওয়েইন কাউন্টি এবং ডেট্রয়েট শহরে মোট ১১ জনের পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাকম্ব কাউন্টিতে দুজন এবং ওয়েইন কাউন্টিতে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে রসকমন কাউন্টিতে একজনের শরীরে ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (EEE) শনাক্ত হয়েছে। ২০২১ সালের পর মিশিগানে এটিই এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রথম ঘটনা।
আগস্টে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওয়েইন কাউন্টির এক বাসিন্দার শরীরে EEE শনাক্ত হয়েছে। মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকায় এটি ছিল চলতি বছরের প্রথম এবং রাজ্যে দ্বিতীয় মানব সংক্রমণ।
চলতি মাসে রাজ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, ক্লেয়ার কাউন্টিতে প্রাণীর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম EEE সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত প্রাণীটি ছিল এক বছর বয়সী কোয়ার্টার হর্স জাতের একটি ঘোড়ার বাচ্চা, যেটিকে পর্যাপ্ত টিকা দেওয়া হয়নি।

ভাইরাসটি যেভাবে ছড়ায়
মশা সংক্রমিত পাখিকে কামড়ানোর মাধ্যমে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহন করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সেই মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের অধিকাংশের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি মস্তিষ্কে প্রদাহ ও ফোলাভাব সৃষ্টি করে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের গুরুতর ও প্রাণঘাতী উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (EEE) একটি জুনোটিক রোগ, যা মশার কামড়ের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। মিশিগানে সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ থেকে শরতের শুরুর দিকে এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়।
EEE-তে আক্রান্ত হলে হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি এবং শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিতে পারে। পরে তা গুরুতর এনসেফালাইটিসে রূপ নিয়ে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, কাঁপুনি ও পক্ষাঘাতের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত হয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা ও মস্তিষ্কের ক্ষতি থেকে যেতে পারে। ১৫ বছরের কম এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (EPA) নিবন্ধিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা, যেমন DEET-যুক্ত রিপেলেন্ট।
জানালা ও দরজায় মশা প্রতিরোধী জাল ব্যবহার করা।
বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা, কারণ এসব স্থানে মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
পুরোনো টায়ার, টিনের ক্যান, মাটির পাত্রসহ পানি জমতে পারে এমন অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে ফেলা।
অচল সেপটিক সিস্টেম দ্রুত মেরামত করা।
বাড়ির আশপাশের ঘাস ও ঝোপঝাড় নিয়মিত ছেঁটে পরিষ্কার রাখা।
ছাদের পানি নিষ্কাশনের নালা পরিষ্কার রাখা, বিশেষ করে পাতার কারণে নালা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে।
পোষা প্রাণীর পানির পাত্রের পানি ঘন ঘন পরিবর্তন করা।
নিয়মিত সাজসজ্জার ফোয়ারা ও পাখির স্নানপাত্র পরিষ্কার করা। সাজসজ্জার পুকুরে পানির চলাচল নিশ্চিত করা অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী মশার লার্ভা খায় এমন মাছ রাখা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com