লিভোনিয়া, ২৬ সেপ্টেম্বর: লিভোনিয়াভিত্তিক মাসকো কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এমেরিটাস, বিশিষ্ট শিল্পকর্ম সংগ্রাহক ও সমাজহিতৈষী রিচার্ড ম্যানুগিয়ান ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন।
মাসকো কর্পোরেশনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যানুগিয়ান। গৃহসজ্জা ও নির্মাণশিল্পের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য নকশা, উৎপাদন ও বিতরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মাসকো। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাতার সন্তান হিসেবে ম্যানুগিয়ান প্রতিষ্ঠানের “অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধিতে” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মাসকোর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, গ্রস পয়েন্ট পার্কের বাসিন্দা ম্যানুগিয়ান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পকর্ম সংগ্রাহক। তিনি বিভিন্ন নাগরিক, সাংস্কৃতিক, দাতব্য ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
মাসকো কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নুডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “রিচার্ড ম্যানুগিয়ানের আজীবন অর্জন, অবদান ও প্রভাবকে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি দীর্ঘ ও সফল জীবন অতিবাহিত করেছেন। মাসকোতে তাঁর অবদান এবং সমাজহিতৈষী, বিশিষ্ট শিল্পকর্ম সংগ্রাহক ও সমাজনেতা হিসেবে তিনি যে অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” নুডি আরও বলেন, “তাঁর সততা, উৎকর্ষের প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্নের মূল্যবোধ চিরকাল মাসকোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।”
ম্যানুগিয়ান ছিলেন আর্মেনীয় অভিবাসী অ্যালেক্স ও মেরি ম্যানুগিয়ানের সন্তান। মাসকোর তথ্যমতে, অ্যালেক্স ম্যানুগিয়ান ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাত ধরেই বাজারে আসে ‘ডেল্টা’ (Delta) ব্র্যান্ডের সিঙ্গেল-হ্যান্ডেল কল। তাঁর ছেলে রিচার্ড ১৯৫৮ সালে মাসকোতে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট ও চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) হিসেবে দায়িত্ব নেন।
কোম্পানিটি জানায়, ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ম্যানুগিয়ানের নেতৃত্বে মাসকো নির্মাণ ও গৃহ-সংস্কার শিল্পে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এবং ১০০টিরও বেশি কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। ১৯৮৫ সালে তিনি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিযুক্ত হন।
২০০৭ সালে ম্যানুগিয়ান সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে মাসকোর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
সে সময় ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে ম্যানুগিয়ান বলেছিলেন, “৫০ বছর পর সম্ভবত কিছুটা পরিবর্তন বা রদবদল হওয়া উচিত।” তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তখনও তিনি পূর্ণকালীন কাজ চালিয়ে যেতে এবং কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
২০১২ সালে ম্যানুগিয়ানকে মাসকোর ‘চেয়ারম্যান এমেরিটাস’ বা সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এ ছাড়া ম্যানুগিয়ান ‘ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস’-এর চেয়ারম্যান এমেরিটাস ছিলেন। তিনি ‘ম্যাকিনাক আইল্যান্ড স্টেট পার্ক কমিশন’-এও ২৫ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনী থেকে জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকে ‘ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস’-এর ট্রাস্টি হওয়ার পর ম্যানুগিয়ান আমেরিকান শিল্পকর্ম সংগ্রহের প্রতি গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি শিল্পকর্ম সংগ্রহকে নিজের “নাগরিক দায়িত্ব” হিসেবে বিবেচনা করতেন। অন্যান্য শিল্পসংগ্রাহকের আগ্রহ ও উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই নিজস্ব সংগ্রহ গড়ে তুলতে শুরু করেন। তাঁর সংগ্রহের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রথম বড় প্রদর্শনী ‘আমেরিকান পেইন্টিংস ফ্রম দ্য মানুগিয়ান কালেকশন’ (American Paintings from the Manoogian Collection) যৌথভাবে আয়োজন করে ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস ও ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্ট। জীবনীতে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে মানুগিয়ান সংগ্রহের শিল্পকর্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘরেও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
মাসকোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রিচার্ড তাঁর দক্ষতা, সম্পদ ও সময় কাজে লাগিয়ে সমাজকে আরও উন্নত করার মাধ্যমে পারিবারিক ঐতিহ্যকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করেছিলেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুলের পরিবর্তে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এজিবিইউ (AGBU) অ্যালেক্স অ্যান্ড মেরি মানুগিয়ান স্কুল, সেন্ট জন’স আর্মেনিয়ান চার্চ এবং ম্যাকিনাক আইল্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘রিচার্ড অ্যান্ড জেন ম্যানুগিয়ান ফান্ড’-এ অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
মাসকো কর্পোরেশনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন ম্যানুগিয়ান। গৃহসজ্জা ও নির্মাণশিল্পের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য নকশা, উৎপাদন ও বিতরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মাসকো। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাতার সন্তান হিসেবে ম্যানুগিয়ান প্রতিষ্ঠানের “অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধিতে” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মাসকোর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, গ্রস পয়েন্ট পার্কের বাসিন্দা ম্যানুগিয়ান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পকর্ম সংগ্রাহক। তিনি বিভিন্ন নাগরিক, সাংস্কৃতিক, দাতব্য ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
মাসকো কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নুডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “রিচার্ড ম্যানুগিয়ানের আজীবন অর্জন, অবদান ও প্রভাবকে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি দীর্ঘ ও সফল জীবন অতিবাহিত করেছেন। মাসকোতে তাঁর অবদান এবং সমাজহিতৈষী, বিশিষ্ট শিল্পকর্ম সংগ্রাহক ও সমাজনেতা হিসেবে তিনি যে অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” নুডি আরও বলেন, “তাঁর সততা, উৎকর্ষের প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্নের মূল্যবোধ চিরকাল মাসকোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।”
ম্যানুগিয়ান ছিলেন আর্মেনীয় অভিবাসী অ্যালেক্স ও মেরি ম্যানুগিয়ানের সন্তান। মাসকোর তথ্যমতে, অ্যালেক্স ম্যানুগিয়ান ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাত ধরেই বাজারে আসে ‘ডেল্টা’ (Delta) ব্র্যান্ডের সিঙ্গেল-হ্যান্ডেল কল। তাঁর ছেলে রিচার্ড ১৯৫৮ সালে মাসকোতে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট ও চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) হিসেবে দায়িত্ব নেন।
কোম্পানিটি জানায়, ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ম্যানুগিয়ানের নেতৃত্বে মাসকো নির্মাণ ও গৃহ-সংস্কার শিল্পে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এবং ১০০টিরও বেশি কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। ১৯৮৫ সালে তিনি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিযুক্ত হন।
২০০৭ সালে ম্যানুগিয়ান সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে মাসকোর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
সে সময় ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে ম্যানুগিয়ান বলেছিলেন, “৫০ বছর পর সম্ভবত কিছুটা পরিবর্তন বা রদবদল হওয়া উচিত।” তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তখনও তিনি পূর্ণকালীন কাজ চালিয়ে যেতে এবং কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
২০১২ সালে ম্যানুগিয়ানকে মাসকোর ‘চেয়ারম্যান এমেরিটাস’ বা সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এ ছাড়া ম্যানুগিয়ান ‘ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস’-এর চেয়ারম্যান এমেরিটাস ছিলেন। তিনি ‘ম্যাকিনাক আইল্যান্ড স্টেট পার্ক কমিশন’-এও ২৫ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনী থেকে জানা যায়, ১৯৭০-এর দশকে ‘ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস’-এর ট্রাস্টি হওয়ার পর ম্যানুগিয়ান আমেরিকান শিল্পকর্ম সংগ্রহের প্রতি গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি শিল্পকর্ম সংগ্রহকে নিজের “নাগরিক দায়িত্ব” হিসেবে বিবেচনা করতেন। অন্যান্য শিল্পসংগ্রাহকের আগ্রহ ও উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই নিজস্ব সংগ্রহ গড়ে তুলতে শুরু করেন। তাঁর সংগ্রহের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রথম বড় প্রদর্শনী ‘আমেরিকান পেইন্টিংস ফ্রম দ্য মানুগিয়ান কালেকশন’ (American Paintings from the Manoogian Collection) যৌথভাবে আয়োজন করে ডেট্রয়েট ইনস্টিটিউট অব আর্টস ও ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্ট। জীবনীতে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে মানুগিয়ান সংগ্রহের শিল্পকর্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জাদুঘরেও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
মাসকোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রিচার্ড তাঁর দক্ষতা, সম্পদ ও সময় কাজে লাগিয়ে সমাজকে আরও উন্নত করার মাধ্যমে পারিবারিক ঐতিহ্যকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করেছিলেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুলের পরিবর্তে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এজিবিইউ (AGBU) অ্যালেক্স অ্যান্ড মেরি মানুগিয়ান স্কুল, সেন্ট জন’স আর্মেনিয়ান চার্চ এবং ম্যাকিনাক আইল্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘রিচার্ড অ্যান্ড জেন ম্যানুগিয়ান ফান্ড’-এ অনুদান দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com