সড়ক-রেল-শিল্পে সিলেটের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঘোষণা

আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০১:০৫:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৬ ০১:০৫:১০ অপরাহ্ন
সিলেট, ২৭ সেপ্টেম্বর : আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। তিনি বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই মহাসড়কটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১৪ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা স্থাপন, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগতির কার্গো ট্রেন চালু এবং সিলেটে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং সিলেট অঞ্চলের শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিগত সরকারের আমলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে নানা পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার মহাসড়কটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরোনো সড়কটি নতুন ৪ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেল যোগাযোগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ইতোমধ্যে ডুয়েলগেজ রেললাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সকালে সিলেট থেকে ট্রেনে ঢাকায় গিয়ে দাপ্তরিক কাজ শেষে সন্ধ্যায় সিলেটে ফিরে আসা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান রেলপথের গ্যাপ দূর করে উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি এবং মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি খোলাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সময়সীমা আগের ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে (দুই সপ্তাহ) নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে।
সিলেটের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতকে এগিয়ে নিতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। চলতি বছরই এর উন্নয়নকাজ শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী।
নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ উদ্যোগে পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথাও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com