যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় উল্লম্ফন, ৬ সপ্তাহে ৪০ জন

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০১:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০১:৩৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে প্রতি রবিবার ফ্লোরিডার ওচোপিতে অবস্থিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রাজ’ অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা ‘ভিজিল’ আয়োজন করে আসছে ‘ওয়ার্কার্স সার্কেল’—জাতীয় পর্যায়ের একটি ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক সংগঠন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রার্থনা করেন, পরস্পরের কথা শোনেন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি, আটককেন্দ্রে বন্দী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন ঘটনার কথাও শোনেন/Provided By The Workers Circle 

নিউইয়র্ক, ৭ অক্টোবর: অপরাধের অভিযোগ ও অন্যান্য কারণে ৪০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের (Denaturalization) প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপরতা আরও বাড়ছে।
নাগরিকত্ব বাতিলের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, “আজকের ঘোষণা আধুনিক ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টার সূচনা। গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে নাবালকদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাও এই তালিকায় রয়েছেন। তারা মার্কিন সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন।”
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউএসএ টুডে-এর বরাতে দ্য ডেট্রয়েট নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।
যাদের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে, তাদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে গুরুতর বলাৎকার (aggravated sodomy), শিশু পর্নোগ্রাফি পরিবহন এবং নাবালকের ওপর যৌন নির্যাতন। 
তবে তালিকাভুক্ত সবাই সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বা অপরাধ স্বীকার করেছেন—এমন নয়। অন্তত ১৯ জনের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগকে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএইচএসের (DHS) দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াধীন মামলাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিয়ে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জন মেক্সিকোর নাগরিক। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে। বিভাগটি জানিয়েছে, এসব নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হয়েছে।
নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএইচএস জানায়, এ বিষয়ে মূল দায়িত্ব ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের (DOJ)। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইউএসএ টুডে বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
‘ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউস’ (TRACE) ডেটা প্রকল্পের গবেষকদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ছয় সপ্তাহে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি গত কয়েক বছরের সম্মিলিত সংখ্যাকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।
জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে TRACE-এর গবেষকরা বলেন, “ফেডারেল আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা আগে বিরল ছিল। তবে এখন এটি ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের গড় সংখ্যা ছিল বছরে ১১টি।
কাদের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে?
বিচার বিভাগের (DOJ) নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বয়স ও পটভূমিতে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। তালিকায় চীনের ২৬ বছর বয়সী জিনচাও ওয়েই রয়েছেন, যিনি চীনের কাছে সামরিক গোপন তথ্য বিক্রির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে রয়েছেন মেক্সিকোর ৭৬ বছর বয়সী রাউল সিসনেরোস, যিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে ‘অশ্লীল ও কামুক আচরণ’-এর অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় সিসনেরোস মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন যে তিনি কখনো কোনো অপরাধ করেননি।
তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সবাই সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাদেরই একজন মিশরের ৬২ বছর বয়সী নাগরিক ওয়ালিদ ওসমান। বিচার বিভাগের দাবি, তিনি নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।
তবে ওসমানের আইনজীবী সাইমন স্যান্ডোভাল-মোশেনবার্গ এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএসএ টুডে-কে বলেন, “বিচার বিভাগের নথিপত্রে প্রচুর ভুল ও অনুমাননির্ভর তথ্য রয়েছে। জনাব ওসমানের উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তিনি আদালতে জোরালোভাবে এই মামলা লড়বেন।”
ওসমান বর্তমানে আইসিই (ICE)-এর হেফাজতে আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর আইনজীবী বলেন, “না, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। তাঁর নাগরিকত্ব বজায় রাখার জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com