সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপির পথচলা : জি কে গউছ

আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ ০২:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬ ০২:০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
নিউইয়র্ক, ১৩ অক্টোবর : দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রের পরও প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ। তিনি বলেন, তাঁকে সংসদে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। 
গত রোববার (১১ অক্টোবর) নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে গোল্ডেন প্যালেসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হবিগঞ্জবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মিয়া এম আছকির ও হুইপপুত্র লয়ার মঞ্জুরুল কিবরিয়া প্রিতম। অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মো. রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া ও মো. আবুল কালাম আজাদ টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এম এস স্কিল চৌধুরী, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আহবাব হোসেন চৌধুরী খোকন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াহেদ উজ জামান আগা, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মীর আবুল বাশার, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন এবং টিবিএন-২৪-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমুদুল বার ভূঁইয়া পুলক।
জি কে গউছ বলেন, রাজনৈতিক জীবনে ১ হাজার ৫১৭ দিন কারাভোগ করলেও তিনি ঈমান বিক্রি করেননি এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি সুনামগঞ্জে যুবলীগের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তাঁকে আসামি করা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হবিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, জেলার মানুষ অতীতের নানা ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। অতীতে পুলিশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং হবিগঞ্জের মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে রাষ্ট্র তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে উল্লেখ করে জি কে গউছ বলেন, তাঁর গাড়িতে জাতীয় পতাকাও দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পুলিশ ব্যবহার করেন না। নিজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমার নিরাপত্তার ফয়সালা আকাশ থেকেই আসবে।”
নিজের রাজনৈতিক ও আইনি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে আগের মতো নিয়মিত আদালতে যেতে হয় না। এর আগে মাসে প্রায় ২০ বার আদালতে যেতে হতো তাঁকে। কখনো সকালে হত্যা মামলায়, আবার বিকেলে বিস্ফোরক মামলায় আদালতে হাজির হতে হতো বলে জানান তিনি।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, তাঁর কাছে দলই বড়। হবিগঞ্জের উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভিন্নমত ও ভিন্ন পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের পাশে থেকে তাঁদের কল্যাণে রাজনীতি করতে চান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার প্রসঙ্গে জি কে গউছ বলেন, গত কয়েক মাসে তাঁদের জন্য তিনি বিভিন্ন বরাদ্দ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সব ধর্মের মানুষের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপির পথচলা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাজমুন হাসান কোবাদ, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড-১০-এর সদস্য ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বারভূঁইয়া রিজু, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ, জামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান খোকন, হবিগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মানিক, বৃন্দাবন কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আফছর সোহাগ, চুনারুঘাট উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আবেদীন মাসুম, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা দুলাল রহমান, মূলধারার রাজনীতিবিদ মো. হাসান আলী ও সাইফুর রহমান মুন্না।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি জকি উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মীর আব্দুল লতিফ দরবেশ, বানিয়াচংয়ের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া এবং সুজাতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আছকির মিয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম উদ্দিন আলমগীর, যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সোসাইটির সাবেক সভাপতি সামছুল আলম, যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ সদর সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম মানিক ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন তালুকদার, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির আলী, চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শাহ সাদিকুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সংবর্ধনায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী হবিগঞ্জবাসী অংশ নেন। উপস্থিত অনেকেই আয়োজনটিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।

 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com