ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ, ১৪ অক্টোবর : হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ। তবে সম্ভাব্য হরিণ নিধনের এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
১২ অক্টোবর টাউনশিপের ট্রাস্টিরা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সঙ্গে যৌথভাবে হরিণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় ইউএসডিএর সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পরিকল্পিতভাবে হরিণ নিধন বা ‘কালিং’ (Culling) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। হরিণ নিধনের সম্ভাবনার কথা জানতে পেরে মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার প্রায় দুই ডজন বাসিন্দা টাউনশিপের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে সভায় উপস্থিত হন।
ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা এবং জৈন সোসাইটি অব ডেট্রয়েটের সদস্য ৬৩ বছর বয়সী নূতন শাহ বলেন, “আমরা বুঝতে পারি, হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শহরাঞ্চলে তীর-ধনুক দিয়ে শিকার (আরবান আর্চারি) কিংবা পরিকল্পিতভাবে হরিণ নিধন ছাড়াও এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জৈন ধর্মে অহিংসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ সব জীবের ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং অহিংসার চর্চাকে আত্মজ্ঞান ও মোক্ষলাভের পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের ‘হরিণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি’র একটি মেমো অনুযায়ী, বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হরিণের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ ঘটছে, হরিণ কুকুরকে আক্রমণ করছে এবং মানুষকে তাড়া করছে। এ ছাড়া বাড়ির আঙিনা ও বাগানের সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালার ক্ষতি এবং হরিণ তাড়ানোর ওষুধ ও বেড়া দিয়েও কার্যকর ফল না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।
উপদেষ্টা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসডিএর একজন জীববিজ্ঞানী নিয়োগে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় হবে। তবে এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সঙ্গে ব্যয় ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেমোতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর।
হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে নিধনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও টাউনশিপের বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, এর সীমানার মধ্যে শিকার করার অনুমতি নেই।
ট্রাস্টি মার্ক আন্তাকলি বলেন, “বিধিমালায় পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কোনো কিছুই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
সভায় বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন শিকারের বিকল্প হিসেবে হরিণের বন্ধ্যাকরণ বা স্টেরিলাইজেশন পদ্ধতির সুপারিশ করেন। ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা মিশেল ডিমারিয়া বলেন, হরিণের বন্ধ্যাকরণ করা হলে অন্য হরিণের ওই এলাকায় প্রবেশও ঠেকানো সম্ভব হয়।
ডিমারিয়া বলেন, “হরিণগুলোকে বন্ধ্যাকরণ করা হলে তারা ওই এলাকাতেই থেকে যায়। একই সঙ্গে তাদের প্রজননও বন্ধ রাখা সম্ভব হয়।”
ডিমারিয়া ও অন্য কয়েকজন বক্তা হরিণ বন্ধ্যাকরণে ‘হোয়াইট বাফেলো ইনকর্পোরেটেড’-এর সেবা নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রতিষ্ঠানটি হরিণ ব্যবস্থাপনায় অ্যান আরবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। তবে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জন সার্ভেনাক বলেন, অ্যান আরবারে এ পদ্ধতি সফল হয়নি এবং এটি ব্যয়-সাশ্রয়ীও ছিল না।
সার্ভেনাক আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আইনসভা হরিণের বন্ধ্যাকরণে অস্ত্রোপচার ও ওষুধ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ট্রাস্টি মার্ক আন্তাকলি বলেন, “মিশিগান অঙ্গরাজ্য যদি কোনো নির্দিষ্ট বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতিকে বৈধতা দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করে দেখতে পারি। কিন্তু বর্তমানে কোনো বিকল্প না থাকলে আমাদের কী করার আছে?”
ফার্মিংটন হিলস কর্তৃপক্ষ হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিধন কর্মসূচি অনুমোদনের প্রায় দেড় বছর পর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করলেন। ফার্মিংটন ও সাউথফিল্ডের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ওই কর্মসূচির আওতায় তিনটি শহর থেকে ৭০টি হোয়াইট-টেইলড হরিণ অপসারণ করা হয়েছিল।
এদিকে, দক্ষিণ ওকল্যান্ড কাউন্টিতে হরিণ নিধন কর্মসূচির সমালোচকেরাও কর্মকর্তাদের প্রতি প্রাণঘাতী নয়—এমন বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
১২ অক্টোবর টাউনশিপের ট্রাস্টিরা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সঙ্গে যৌথভাবে হরিণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিকল্পনায় ইউএসডিএর সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পরিকল্পিতভাবে হরিণ নিধন বা ‘কালিং’ (Culling) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। হরিণ নিধনের সম্ভাবনার কথা জানতে পেরে মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার প্রায় দুই ডজন বাসিন্দা টাউনশিপের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে সভায় উপস্থিত হন।
ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা এবং জৈন সোসাইটি অব ডেট্রয়েটের সদস্য ৬৩ বছর বয়সী নূতন শাহ বলেন, “আমরা বুঝতে পারি, হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, শহরাঞ্চলে তীর-ধনুক দিয়ে শিকার (আরবান আর্চারি) কিংবা পরিকল্পিতভাবে হরিণ নিধন ছাড়াও এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, জৈন ধর্মে অহিংসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ সব জীবের ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং অহিংসার চর্চাকে আত্মজ্ঞান ও মোক্ষলাভের পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের ‘হরিণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি’র একটি মেমো অনুযায়ী, বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হরিণের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ ঘটছে, হরিণ কুকুরকে আক্রমণ করছে এবং মানুষকে তাড়া করছে। এ ছাড়া বাড়ির আঙিনা ও বাগানের সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালার ক্ষতি এবং হরিণ তাড়ানোর ওষুধ ও বেড়া দিয়েও কার্যকর ফল না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।
উপদেষ্টা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইউএসডিএর একজন জীববিজ্ঞানী নিয়োগে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় হবে। তবে এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সঙ্গে ব্যয় ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেমোতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর।
হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে নিধনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও টাউনশিপের বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, এর সীমানার মধ্যে শিকার করার অনুমতি নেই।
ট্রাস্টি মার্ক আন্তাকলি বলেন, “বিধিমালায় পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কোনো কিছুই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
সভায় বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন শিকারের বিকল্প হিসেবে হরিণের বন্ধ্যাকরণ বা স্টেরিলাইজেশন পদ্ধতির সুপারিশ করেন। ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা মিশেল ডিমারিয়া বলেন, হরিণের বন্ধ্যাকরণ করা হলে অন্য হরিণের ওই এলাকায় প্রবেশও ঠেকানো সম্ভব হয়।
ডিমারিয়া বলেন, “হরিণগুলোকে বন্ধ্যাকরণ করা হলে তারা ওই এলাকাতেই থেকে যায়। একই সঙ্গে তাদের প্রজননও বন্ধ রাখা সম্ভব হয়।”
ডিমারিয়া ও অন্য কয়েকজন বক্তা হরিণ বন্ধ্যাকরণে ‘হোয়াইট বাফেলো ইনকর্পোরেটেড’-এর সেবা নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রতিষ্ঠানটি হরিণ ব্যবস্থাপনায় অ্যান আরবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে। তবে উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জন সার্ভেনাক বলেন, অ্যান আরবারে এ পদ্ধতি সফল হয়নি এবং এটি ব্যয়-সাশ্রয়ীও ছিল না।
সার্ভেনাক আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আইনসভা হরিণের বন্ধ্যাকরণে অস্ত্রোপচার ও ওষুধ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ট্রাস্টি মার্ক আন্তাকলি বলেন, “মিশিগান অঙ্গরাজ্য যদি কোনো নির্দিষ্ট বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতিকে বৈধতা দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করে দেখতে পারি। কিন্তু বর্তমানে কোনো বিকল্প না থাকলে আমাদের কী করার আছে?”
ফার্মিংটন হিলস কর্তৃপক্ষ হরিণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিধন কর্মসূচি অনুমোদনের প্রায় দেড় বছর পর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করলেন। ফার্মিংটন ও সাউথফিল্ডের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ওই কর্মসূচির আওতায় তিনটি শহর থেকে ৭০টি হোয়াইট-টেইলড হরিণ অপসারণ করা হয়েছিল।
এদিকে, দক্ষিণ ওকল্যান্ড কাউন্টিতে হরিণ নিধন কর্মসূচির সমালোচকেরাও কর্মকর্তাদের প্রতি প্রাণঘাতী নয়—এমন বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com