মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে  মিশিগানে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০২:১৬:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০২:১৬:২০ পূর্বাহ্ন
ফার্নডেল, ট্রয়, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, ল্যান্সিং/ট্রাভার্স সিটি, ১৮ অক্টোবর : গতকাল শনিবার মিশিগানজুড়ে ‘নো কিংস’ বা ‘কোনো রাজা নয়’ স্লোগানে ডজনখানেক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই ছিল এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
আয়োজকদের মতে, এর আগের ‘নো কিংস’ বিক্ষোভগুলো মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত হলেও এবার কর্মসূচির লক্ষ্য ভিন্ন। এবারের বিক্ষোভের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবারের বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক সংগঠন ‘মিশিগান ফ্রিডম কোয়ালিশন’-এর এমিলি বুশ বলেন, “আমরা এখনও মিছিল করছি, তবে এখন সেই মিছিলের গন্তব্য ভোটকেন্দ্র। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে গ্যাস, ডিজেল ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আমাদের বাড়ির কাছেই ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে বিদ্যুতের বিলও বাড়ছে। এটি কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। আমাদের জীবন এমন হওয়ার কথা নয়, আর আমরা চাইলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারি। “আমরা যদি এই পরিবর্তনের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত থাকি, তবে মনে রাখতে হবে—এটি এখনও একটি গণতন্ত্র।”
আয়োজকদের তথ্যমতে, রাজ্যের ফার্নডেল, ট্রয়, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, ল্যান্সিং ও ট্রাভার্স সিটিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তবে পুরো মিশিগানজুড়ে এ ধরনের প্রায় ১০০টি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
‘নো কিংস’ (No Kings) একটি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ও নাগরিক অবাধ্যতার কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সংগঠনটি নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রচারসংগঠনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে অনলাইন রিসোর্স, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে।
শনিবার সকালে ফার্নডেলের উডওয়ার্ড অ্যাভিনিউ ও নাইন মাইল রোডের সংযোগস্থলে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তাঁদের অনেকের হাতে ছিল হাতে তৈরি প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটদানের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা লেখা ছিল।
‘দ্য নিউজ’-এর সঙ্গে আলাপকালে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি দূর করাই তাঁদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
ফার্নডেলের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট সমর্থক মেরি বেথ টেসি বলেন, “গণতন্ত্র এবং বর্তমান রাজনীতিতে চলমান দুর্নীতি নিয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে এসেছি, যাতে সবাই আগেভাগে ভোট দেন, তা নিশ্চিত করতে। বিশেষ করে, যাতে কোনো কারচুপি বা অনিয়ম না ঘটে। কারণ, অতীতে আমরা এমন ঘটনা দেখেছি।” টেসি ইতিমধ্যে তাঁর অনুপস্থিত ভোটের ব্যালট (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) জমা দিয়েছেন।
নর্থপোর্টের বাসিন্দা টিনা লেহম্যান জানান, মিশিগানের উত্তরাঞ্চল থেকে তিনি তাঁর ভাই টনির সঙ্গে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন। টনি থাকেন হান্টিংটন উডস এলাকায়। টিনা বলেন, “আমরা এত বেশি ভুল তথ্য, মিথ্যাচার, বিভ্রান্তি ও দুর্নীতির মধ্যে ডুবে আছি যে, আমি আর এসব সহ্য করতে পারছি না। পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। আর ওয়াশিংটনে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদেরই।”
তিনি আরও জানান, লেহম্যান পরিবারের দুজনই সিনেট নির্বাচনে আব্দুল আল-সায়েদের প্রচারণাকে সমর্থন করেন। টিনা বলেন, “আমরা মনে করি, তিনি অসাধারণ একজন মানুষ। তাঁর চিন্তাভাবনা নতুন ও সময়োপযোগী। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে নতুন ও সতেজ দৃষ্টিভঙ্গি।” টনি লেহম্যান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাবনতিশীল সম্পর্ক, বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক, তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তিনি বলেন, “মিশিগানের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের ওপরই এর প্রভাব সবার আগে পড়ে, যখন আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী কানাডার প্রতি দায়িত্বজ্ঞানহীন নীতি গ্রহণ করা হয়। তাই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমরা একা তা করতে পারব না। যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারে না, বিশ্বে একা চলতেও পারে না। এখন বিশ্বজুড়ে আমাদের ভালোবাসা, শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষের শক্তি হিসেবে নয়, বরং শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”
একটি ভাঁজ করা টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে ‘নো কিংস’ (No Kings) লোগোযুক্ত ব্যাজ বিতরণ করছিলেন ‘ইনডিভিজিবল ফাইটিং ৯’ (Indivisible Fighting 9) নামের অ্যাডভোকেসি সংগঠনের সদস্য কিম্বার বিশপ-ইয়াঙ্কি। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর আক্রমণ এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা ‘আইস’ (ICE)-এর কর্মকাণ্ডের ফলে কমিউনিটিতে যে ভীতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তাঁকে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছে।
বিশপ-ইয়াঙ্কি বলেন, “আমি এখানে আমার সন্তানদের এবং অন্য সবার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছি। আমি আমাদের অভিবাসী প্রতিবেশীদের জন্য এবং প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি। একই সঙ্গে লড়ছি সেই আদর্শের জন্য, যার ওপর আমেরিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা।”
তিনি আরও বলেন, “এই সমাবেশের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা। সবাইকে বোঝানো যে আমরা ঐক্যবদ্ধ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে একে অপরকে সহযোগিতা করতেই আমরা একসঙ্গে লড়ছি।”
আগামী ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে দেশজুড়ে কংগ্রেসের আসন, গভর্নর পদসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মিশিগানও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আসনকে ঘিরে ডেমোক্র্যাট আব্দুল আল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
মিশিগানের ভোটাররা অনুপস্থিত ভোটের ব্যালট (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) সংগ্রহ করে ডাকযোগে পাঠিয়ে অথবা স্থানীয় ক্লার্কের কার্যালয়ে জমা দিয়ে আগাম ভোট দিতে পারবেন। এ ছাড়া নির্বাচনের দিনের আগে নির্ধারিত কিছু কেন্দ্রে সশরীরে ভোট দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। আগাম ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে ভোটাররা Michigan.gov/Vote ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।
Source & Photo: 
http://detroitnews.com

 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com