ওয়ারেন, ২১ অক্টোবর : শেকড়ের টানে, ঐতিহ্যের বন্ধনে মিশিগানে প্রবাসী বাঙালির দুর্গোৎসব পরিণত হয়েছিল এক মহামিলনমেলায়। মন্দিরে মন্দিরে হাজারো ভক্তের সমাগম, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতি, ঢাকের বাদ্য আর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনে কয়েক দিন ধরে মুখর ছিল মিশিগানের বাঙালি সম্প্রদায়। ধর্মীয় উৎসবের আবহ ছাপিয়ে দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে বাংলা সংস্কৃতি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধনের উপলক্ষ। কিন্তু বিজয়া দশমীতে আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে আসে বিদায়ের সুর। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সিঁদুর খেলা ও মাঙ্গলিক আচার শেষে ভালোবাসা আর প্রার্থনায় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা। এরপর মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন মণ্ডপে দেবীর পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতি ও প্রসাদ বিতরণে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক ভক্ত। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি গান, নৃত্য, ধামাইল, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে মিশিগানের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে।
এ বছর মিশিগানে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে প্রায় আটটি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল মিশিগান কালীবাড়ি, দুর্গা টেম্পল ডেট্রয়েট, রাধাকৃষ্ণ টেম্পল, বিচিত্রা মিশিগান, উদয়ন মিশিগান, শিব মন্দির, ওঁ শিবশক্তি-রাধামাধব মন্দির ও স্বজন গ্রেট লেকস। এসব মণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মিলনমেলা বসে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভারতীয় মন্দিরেও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।
মহাষ্টমীতে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল ও মিশিগান কালীবাড়িতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে প্রথম দফায় প্রায় ৩০০ ভক্ত পুষ্পাঞ্জলি দেন। অঞ্জলি প্রদানের অপেক্ষায় মন্দির দুটির বাইরেও অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত ভক্ত। অঞ্জলি ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে অসংখ্য মানুষকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রাধাকৃষ্ণ টেম্পলসহ অন্যান্য মন্দিরেও ভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন, পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের বাইরে এই কয়েকটি দিন যেন বাঙালিদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশব-কৈশোরের পূজার স্মৃতিতে। পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা, নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সম্মিলিতভাবে উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে মন্দিরগুলো হয়ে ওঠে প্রবাসী বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। মিশিগানে দুর্গোৎসব শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ছিল সংগীত, নৃত্য, ধামাইল, নাটক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রকাশিত হয়েছে শারদ সংকলনও। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস দেখা গেছে।
মহাসপ্তমীতে মিশিগান কালীবাড়িতে সংগীত পরিবেশন করেন কানাডার টরন্টোপ্রবাসী জনপ্রিয় দুই শিল্পী মহুয়া পারিয়াল ও শমিত বড়ুয়া। তাঁদের পরিবেশনা উপভোগ করতে উপস্থিত হন শত শত দর্শক-শ্রোতা। সংগীতের সুরে মন্দির প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের বাড়তি আমেজ।
রোববার রাতে অষ্টমী উপলক্ষে শিব মন্দিরের মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় শিল্পী দেয়াশিনী রায় ও তাঁর দল। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে সংগীতানুষ্ঠানটি দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে। বিভিন্ন মণ্ডপের এসব আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির চর্চাকেও প্রাণবন্ত করেছে।

সবগুলো মন্দিরে বিজয়া দশমীতে পূজার সমাপনী আনুষ্ঠানিকতায় দেবী দুর্গার চরণে শেষবারের মতো প্রণাম জানান ভক্তরা। পূজা শেষে শান্তির জল গ্রহণ ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় আচার। এ সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভক্তদের হাতে বাঁধা হয় দেবীর প্রশস্তিবন্ধন। লাল কাপড় ও অপরাজিতার ডাল দিয়ে তৈরি এই বন্ধন পুরুষেরা ডান হাতে এবং নারীরা বাম হাতে ধারণ করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বন্ধন অশুভ শক্তি ও গ্রহদোষ থেকে রক্ষা করে এবং সারা বছর রোগব্যাধি থেকে দূরে রেখে জীবনে সাফল্য ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।
এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলার পর্ব। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে দেবী বিদায়ের মুহূর্ত। ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে যায় আনন্দ ও বিষাদের অনুভূতি। সবশেষে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখ ও কোলাকুলির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার অনুযায়ী, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ দিনের মর্ত্যভ্রমণ শেষে দেবী দুর্গার কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। ভক্তদের বিশ্বাস, এক বছর পর আবারও শরতের স্নিগ্ধতায় তিনি ফিরে আসবেন ধরাধামে, ভক্তদের মাঝে।
মিশিগানের প্রবাসী বাঙালিদের কাছে দুর্গোৎসব তাই কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শেকড়ের কাছে ফেরার, আপনজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এবং নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। দেবী বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু রেখে গেছেন মিলন, সম্প্রীতি ও আনন্দের স্মৃতি—যার রেশ বয়ে যাবে আগামী শরতের অপেক্ষা পর্যন্ত।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষের ক্ষণগণনা। এরপর মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন মণ্ডপে দেবীর পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যা আরতি ও প্রসাদ বিতরণে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক ভক্ত। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি গান, নৃত্য, ধামাইল, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে মিশিগানের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে।
এ বছর মিশিগানে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে প্রায় আটটি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল মিশিগান কালীবাড়ি, দুর্গা টেম্পল ডেট্রয়েট, রাধাকৃষ্ণ টেম্পল, বিচিত্রা মিশিগান, উদয়ন মিশিগান, শিব মন্দির, ওঁ শিবশক্তি-রাধামাধব মন্দির ও স্বজন গ্রেট লেকস। এসব মণ্ডপে পূজা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মিলনমেলা বসে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভারতীয় মন্দিরেও দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।
মহাষ্টমীতে ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পল ও মিশিগান কালীবাড়িতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলে প্রথম দফায় প্রায় ৩০০ ভক্ত পুষ্পাঞ্জলি দেন। অঞ্জলি প্রদানের অপেক্ষায় মন্দির দুটির বাইরেও অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত ভক্ত। অঞ্জলি ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে অসংখ্য মানুষকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। রাধাকৃষ্ণ টেম্পলসহ অন্যান্য মন্দিরেও ভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন, পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের বাইরে এই কয়েকটি দিন যেন বাঙালিদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশব-কৈশোরের পূজার স্মৃতিতে। পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা, নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সম্মিলিতভাবে উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে মন্দিরগুলো হয়ে ওঠে প্রবাসী বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। মিশিগানে দুর্গোৎসব শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ছিল সংগীত, নৃত্য, ধামাইল, নাটক, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রকাশিত হয়েছে শারদ সংকলনও। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস দেখা গেছে।
মহাসপ্তমীতে মিশিগান কালীবাড়িতে সংগীত পরিবেশন করেন কানাডার টরন্টোপ্রবাসী জনপ্রিয় দুই শিল্পী মহুয়া পারিয়াল ও শমিত বড়ুয়া। তাঁদের পরিবেশনা উপভোগ করতে উপস্থিত হন শত শত দর্শক-শ্রোতা। সংগীতের সুরে মন্দির প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের বাড়তি আমেজ।
রোববার রাতে অষ্টমী উপলক্ষে শিব মন্দিরের মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় শিল্পী দেয়াশিনী রায় ও তাঁর দল। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে সংগীতানুষ্ঠানটি দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে। বিভিন্ন মণ্ডপের এসব আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির চর্চাকেও প্রাণবন্ত করেছে।

সবগুলো মন্দিরে বিজয়া দশমীতে পূজার সমাপনী আনুষ্ঠানিকতায় দেবী দুর্গার চরণে শেষবারের মতো প্রণাম জানান ভক্তরা। পূজা শেষে শান্তির জল গ্রহণ ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ধর্মীয় আচার। এ সময় পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে ভক্তদের হাতে বাঁধা হয় দেবীর প্রশস্তিবন্ধন। লাল কাপড় ও অপরাজিতার ডাল দিয়ে তৈরি এই বন্ধন পুরুষেরা ডান হাতে এবং নারীরা বাম হাতে ধারণ করেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বন্ধন অশুভ শক্তি ও গ্রহদোষ থেকে রক্ষা করে এবং সারা বছর রোগব্যাধি থেকে দূরে রেখে জীবনে সাফল্য ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।
এরপর শুরু হয় সিঁদুর খেলার পর্ব। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে দেবী বিদায়ের মুহূর্ত। ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে যায় আনন্দ ও বিষাদের অনুভূতি। সবশেষে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টিমুখ ও কোলাকুলির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার অনুযায়ী, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ দিনের মর্ত্যভ্রমণ শেষে দেবী দুর্গার কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। ভক্তদের বিশ্বাস, এক বছর পর আবারও শরতের স্নিগ্ধতায় তিনি ফিরে আসবেন ধরাধামে, ভক্তদের মাঝে।
মিশিগানের প্রবাসী বাঙালিদের কাছে দুর্গোৎসব তাই কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শেকড়ের কাছে ফেরার, আপনজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এবং নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ। দেবী বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু রেখে গেছেন মিলন, সম্প্রীতি ও আনন্দের স্মৃতি—যার রেশ বয়ে যাবে আগামী শরতের অপেক্ষা পর্যন্ত।