‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড–ফার্মিংটন’-এর আয়োজক সারাহ ডেভিস ২১ অক্টোবর, বুধবার ফার্মিংটনের রাইলি পার্কে একদল নৃত্যশিল্পীকে নাচের মহড়া করাচ্ছেন। হ্যালোউইন সপ্তাহান্ত উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফার্মিংটনে প্রায় ৮০ জন নৃত্যশিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের কালজয়ী গান ‘থ্রিলার’-এর তালে নাচ পরিবেশন করবেন/Lon Horwedel, Special To Detroit News
ফার্মিংটন, ২৪ অক্টোবর : অক্টোবরের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সন্ধ্যায় ফার্মিংটন শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি পার্কে তখনো মধ্যরাত হতে অনেক দেরি। চারপাশে অন্ধকারের কোনো ছাপ নেই, নেই ভৌতিক পরিবেশও। তবু সেখানে যেন অনুভব করা যাচ্ছে পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের উপস্থিতি।
ফার্মিংটনের রাইলি পার্কে, যেখানে শহরের কৃষিপণ্যের বাজার (ফার্মার্স মার্কেট) বসে, সেখানেই ভেসে আসছে মাইকেল জ্যাকসনের হ্যালোউইন-উপযোগী কালজয়ী গান ‘থ্রিলার’-এর সুর। গানটির তালে নাচতে জড়ো হয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। কারও পরনে সোয়েটস্যুট, কেউ এসেছেন ব্যায়ামের পোশাকে, আবার কারও পরনে জিন্স। সবার প্রস্তুতি একসঙ্গে নাচের মঞ্চ মাতানোর।
তাঁদের এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ব্যতিক্রমী—মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও ‘থ্রিলার’-এর সেই আইকনিক নাচের মুদ্রাগুলো একসঙ্গে পরিবেশন করা। গানটি প্রকাশের প্রায় ৪৩ বছর পরও এর আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তা প্রমাণ করতেই যেন এই আয়োজন। ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) নামের একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটি নৃত্য প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মানুষ একই সময়ে ‘থ্রিলার’ গানের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নাচেন।
ফার্মিংটনে ২৪ অক্টোবর, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় গ্র্যান্ড রিভার অ্যাভিনিউয়ের রাইলি পার্কের প্যাভিলিয়নের সামনে জম্বির সাজে নাচবেন ৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রায় ৮০ জন নৃত্যশিল্পী। মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব অংশগ্রহণকারী আগস্টের শেষ দিক থেকেই এ পরিবেশনার জন্য মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
লিভোনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা জোডি কারুসো এবার প্রথমবারের মতো তাঁর স্বামী ব্যারির সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ভাই ও ভাইয়ের বান্ধবীকেও যুক্ত করেছেন এই নাচের দলে। জোডি কারুসো বলেন, “আমি মাইকেল জ্যাকসনকে খুব ভালোবাসি। আর আমি সব সময়ই ‘থ্রিলার’ নাচটি শিখতে চেয়েছিলাম।”
২০ বছরে পদার্পণ করা ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) আয়োজনটি বিশ্বজুড়ে ‘থ্রিলার’ ভক্তদের একত্রিত করছে। মিশিগানে ফার্মিংটনেই রয়েছে এই আয়োজনের একমাত্র দল। ওয়েবসাইট thrilltheworld.com-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কানাডা থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত ছয়টি মহাদেশের ৩২টি দেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি নৃত্যশিল্পী।
আয়োজক ও নৃত্য প্রশিক্ষক সারাহ ডেভিস জানান, তিন বছর আগে ফার্মিংটনে মাত্র ১২ জনকে নিয়ে ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর যাত্রা শুরু হয়। গত বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ জনে দাঁড়ায়। আর এ বছর তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৮০ জনে পৌঁছেছে। ডেভিসের মতে, এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হলো মানুষকে এক সুতোয় বাঁধার ক্ষমতা। সম্মিলিত নাচের আনন্দে অংশ নিতে মানুষ নিজেদের মতপার্থক্য ভুলে এক কাতারে শামিল হন।
ডেভিস বলেন, “পুরো পৃথিবীর মানুষ একই সময়ে, একই অনুভূতি নিয়ে নাচছে—এটি কোনো জাদুর চেয়ে কম নয়, এমনকি যদি তা মাত্র ছয় মিনিটের জন্যও হয়! একবার ভাবুন তো, পৃথিবীর প্রতিটি শহর যদি এতে অংশ নিত! এই ছয় মিনিটের জন্য আমরা রাজনীতি, তর্ক-বিতর্ক, সহিংসতা এবং আমাদের বিভক্ত করে এমন সবকিছু দূরে সরিয়ে রেখে শুধু জম্বিদের মতো একসঙ্গে নাচতাম।”
ফার্মিংটনে ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) আয়োজনের শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন কিম্বার্লি রাইলি। আগামী শনিবারের পরিবেশনাতেও অংশ নেবেন তিনি। ফার্মিংটন হিলসের ৬২ বছর বয়সী এই বাসিন্দার সঙ্গে ফার্মিংটনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। যে রাইলি পার্কে নাচের আয়োজন হচ্ছে, সেটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর বাবা জর্জ এফ. রাইলির নামানুসারে। ফার্মিংটন ফার্মার্স মার্কেটে প্রথম এই আয়োজনের কথা জানতে পারেন কিম্বার্লি। এরপর থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নাচের পরিচিত মুদ্রাগুলো ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে রাইলির পরামর্শ, নিজের ভেতরের ‘জম্বি’ সত্তাকে জাগিয়ে তুলুন, আর নাচ উপভোগ করুন। তিনি বলেন, “ভুল করে ফেললেও জম্বির মতো আচরণ করুন। আমি সবাইকে এ কথাই বলি—এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ফার্মিংটন, ২৪ অক্টোবর : অক্টোবরের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সন্ধ্যায় ফার্মিংটন শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি পার্কে তখনো মধ্যরাত হতে অনেক দেরি। চারপাশে অন্ধকারের কোনো ছাপ নেই, নেই ভৌতিক পরিবেশও। তবু সেখানে যেন অনুভব করা যাচ্ছে পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের উপস্থিতি।
ফার্মিংটনের রাইলি পার্কে, যেখানে শহরের কৃষিপণ্যের বাজার (ফার্মার্স মার্কেট) বসে, সেখানেই ভেসে আসছে মাইকেল জ্যাকসনের হ্যালোউইন-উপযোগী কালজয়ী গান ‘থ্রিলার’-এর সুর। গানটির তালে নাচতে জড়ো হয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। কারও পরনে সোয়েটস্যুট, কেউ এসেছেন ব্যায়ামের পোশাকে, আবার কারও পরনে জিন্স। সবার প্রস্তুতি একসঙ্গে নাচের মঞ্চ মাতানোর।
তাঁদের এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ব্যতিক্রমী—মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও ‘থ্রিলার’-এর সেই আইকনিক নাচের মুদ্রাগুলো একসঙ্গে পরিবেশন করা। গানটি প্রকাশের প্রায় ৪৩ বছর পরও এর আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তা প্রমাণ করতেই যেন এই আয়োজন। ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) নামের একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটি নৃত্য প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মানুষ একই সময়ে ‘থ্রিলার’ গানের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে নাচেন।
ফার্মিংটনে ২৪ অক্টোবর, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় গ্র্যান্ড রিভার অ্যাভিনিউয়ের রাইলি পার্কের প্যাভিলিয়নের সামনে জম্বির সাজে নাচবেন ৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রায় ৮০ জন নৃত্যশিল্পী। মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব অংশগ্রহণকারী আগস্টের শেষ দিক থেকেই এ পরিবেশনার জন্য মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
লিভোনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা জোডি কারুসো এবার প্রথমবারের মতো তাঁর স্বামী ব্যারির সঙ্গে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ভাই ও ভাইয়ের বান্ধবীকেও যুক্ত করেছেন এই নাচের দলে। জোডি কারুসো বলেন, “আমি মাইকেল জ্যাকসনকে খুব ভালোবাসি। আর আমি সব সময়ই ‘থ্রিলার’ নাচটি শিখতে চেয়েছিলাম।”
২০ বছরে পদার্পণ করা ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) আয়োজনটি বিশ্বজুড়ে ‘থ্রিলার’ ভক্তদের একত্রিত করছে। মিশিগানে ফার্মিংটনেই রয়েছে এই আয়োজনের একমাত্র দল। ওয়েবসাইট thrilltheworld.com-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে কানাডা থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত ছয়টি মহাদেশের ৩২টি দেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি নৃত্যশিল্পী।
আয়োজক ও নৃত্য প্রশিক্ষক সারাহ ডেভিস জানান, তিন বছর আগে ফার্মিংটনে মাত্র ১২ জনকে নিয়ে ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর যাত্রা শুরু হয়। গত বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০ জনে দাঁড়ায়। আর এ বছর তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৮০ জনে পৌঁছেছে। ডেভিসের মতে, এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হলো মানুষকে এক সুতোয় বাঁধার ক্ষমতা। সম্মিলিত নাচের আনন্দে অংশ নিতে মানুষ নিজেদের মতপার্থক্য ভুলে এক কাতারে শামিল হন।
ডেভিস বলেন, “পুরো পৃথিবীর মানুষ একই সময়ে, একই অনুভূতি নিয়ে নাচছে—এটি কোনো জাদুর চেয়ে কম নয়, এমনকি যদি তা মাত্র ছয় মিনিটের জন্যও হয়! একবার ভাবুন তো, পৃথিবীর প্রতিটি শহর যদি এতে অংশ নিত! এই ছয় মিনিটের জন্য আমরা রাজনীতি, তর্ক-বিতর্ক, সহিংসতা এবং আমাদের বিভক্ত করে এমন সবকিছু দূরে সরিয়ে রেখে শুধু জম্বিদের মতো একসঙ্গে নাচতাম।”
ফার্মিংটনে ‘থ্রিল দ্য ওয়ার্ল্ড’ (Thrill the World) আয়োজনের শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন কিম্বার্লি রাইলি। আগামী শনিবারের পরিবেশনাতেও অংশ নেবেন তিনি। ফার্মিংটন হিলসের ৬২ বছর বয়সী এই বাসিন্দার সঙ্গে ফার্মিংটনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। যে রাইলি পার্কে নাচের আয়োজন হচ্ছে, সেটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর বাবা জর্জ এফ. রাইলির নামানুসারে। ফার্মিংটন ফার্মার্স মার্কেটে প্রথম এই আয়োজনের কথা জানতে পারেন কিম্বার্লি। এরপর থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নাচের পরিচিত মুদ্রাগুলো ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে রাইলির পরামর্শ, নিজের ভেতরের ‘জম্বি’ সত্তাকে জাগিয়ে তুলুন, আর নাচ উপভোগ করুন। তিনি বলেন, “ভুল করে ফেললেও জম্বির মতো আচরণ করুন। আমি সবাইকে এ কথাই বলি—এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।”
Source & Photo: http://detroitnews.com