মিশিগানে ভোটের প্রচারে ট্রাম্পের নিশানায় ডেমোক্র্যাটরা

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৮:৪৫:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৮:৪৫:০১ অপরাহ্ন
পোর্ট হিউরনের ম্যাকমরান প্লেস স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/John T. Greilick, The Detroit News

পোর্ট হিউরন, ২৫ অক্টোবর : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেন তাঁরা তাঁকেই ব্যালটের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন। সেন্ট ক্লেয়ার কাউন্টিতে আয়োজিত এক জনসভায় নিজের আরোপ করা শুল্কনীতির পক্ষে সাফাই গাওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে জ্বালানির উচ্চমূল্য মেনে নেওয়া প্রয়োজন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের নয় দিন আগে পোর্ট হিউরনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘ম্যাকমরান প্লেস’ অ্যারেনায় প্রায় দুই ঘণ্টা বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ, বড়দিনের ছুটি ও অর্থনৈতিক নীতিসহ নানা প্রসঙ্গ। এ সময় উপস্থিত র‍্যাপার নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে তাঁদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে জনসভায় পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মানুষের আয় বাড়ছে, শেয়ারবাজারের অবস্থা চমৎকার, মিশিগানে অটোমোবাইল শিল্পে কর্মসংস্থান ফিরছে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
সাধারণত হকি খেলার জন্য ব্যবহৃত ওই অ্যারেনায় উপস্থিত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে তাঁর কোনো ‘দ্বিধা বা সংশয়’ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত আট মাস ধরে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালন চার ডলারের ওপরে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, তেলের দাম হয়তো দ্বিগুণ বা তিন গুণ হয়ে যাবে। তবে উন্মাদদের হাত থেকে পারমাণবিক অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার বিনিময়ে এটি খুব সামান্য মূল্য।”
‘এএএ মিশিগান’ (AAA Michigan)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর মিশিগানজুড়ে আনলেডেড গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এ দাম ৩৩ সেন্ট বেশি। আর এক বছর আগে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ০৮ ডলার থেকে বেড়ে তা ৫৭ শতাংশ বেশি হয়েছে।
অন্য একপর্যায়ে জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “আপনারাই এই দেশ গড়ে তুলেছেন। আমরা কাউকে এটি ধ্বংস করতে দেব না। তাই আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, মনে করুন, ব্যালট পেপারে আমার নামও রয়েছে।”
এর আগের দিন ডেট্রয়েটে আয়োজিত এক জনসভায় ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করেন।
ওবামা বলেন, “বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো, একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত।”
পোর্ট হিউরনের জনসভায় ট্রাম্প বারবার রিপাবলিকান দলের মার্কিন সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর পদপ্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন। এমনকি মার্কিন সিনেট কক্ষে প্রবেশের আগে এল-সায়েদের মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প একপর্যায়ে বলেন, “যেসব ইহুদি এই ব্যক্তিকে সমর্থন করেন, তাঁদের নিজেদের লজ্জিত হওয়া উচিত। তাঁদের সঙ্গে আর কখনো কথা বলা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ। তাই কোনো ইহুদি কীভাবে এই ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন, তা আমার বোধগম্য নয়।”
মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসনকে নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বেনসন অন্য সবার চেয়ে বেশি ‘কারচুপি’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে মিশিগানে ১ লাখ ৫৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে মিশিগানে নির্বাচনী জালিয়াতির কারণে তিনি হেরেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
বেনসন ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মিশিগানের সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্পের দাবি, গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বেনসনের পাওয়া উচিত নয়।
মিশিগানের বৃহত্তম শহর ডেট্রয়েটের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “ডেট্রয়েটের সব ভোটের ওপর আপনাদের নজর রাখতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে ডেট্রয়েটে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে রিপাবলিকান দল।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, সেখানে আপনারা ভালো সমর্থন পাবেন। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ভোটগুলো যেন সঠিকভাবে গণনা করা হয়।”

অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য
মিশিগানে কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পোর্ট হিউরন সফর হিসেবে ট্রাম্পের এই আয়োজনটি ছিল প্রথম। বর্তমানে তিনি হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বছরে রয়েছেন।
ট্রাম্পকে একনজর দেখতে লাইনে দাঁড়ানো হাজারো মানুষের মধ্যে ছিলেন আলগোনাকের ৬৫ বছর বয়সী বাসিন্দা ও তাঁর সমর্থক ডোয়েন বোরোউইচ। তাঁর ধারণা, মিশিগানে প্রেসিডেন্টের জনসভাগুলোর মধ্যে এটি সম্ভবত শেষ কয়েকটির একটি।
২০২৬ সালের নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় অর্থনীতি প্রসঙ্গে বোরোউইচ বলেন, নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি।
বোরোউইচ বলেন, “আমি হিসাব করে চলি। মুদি দোকানে গেলে কোন পণ্যে ছাড় চলছে কিংবা বিশেষ অফার রয়েছে, তা খেয়াল করি। দুই দিন আগের স্টেক যদি বিশেষ অফারে মাত্র ৮ ডলারে পাওয়া যায়, তাহলে আমি কেন ২৫ ডলার খরচ করে স্টেক কিনব?”
তিনি আরও বলেন, “এসব বিষয়ে কী ঘটছে, কেন যুদ্ধ শুরু হলো—তা বুঝতে হবে। এখন দৈনন্দিন জীবন চালাতে সাধারণ বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগাতে হবে।”
বোরোউইচের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ফলাফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।”
এমমেটের ৬৮ বছর বয়সী বাসিন্দা বিল সামারস ট্রাম্পের ভাষণ শোনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে কোনো কোনো সময়ে জ্বালানির দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানের তুলনায় বেশি ছিল।
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে সামারস বলেন, “তারা এ বিষয়ে কিছুই বলেনি। সুতরাং, এটি কেবল অভিযোগ করা বা অসন্তোষ প্রকাশের বিষয় মাত্র।”
ট্রাম্প ভোটারদের নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার আগে নিজেদের অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাব পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের আয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন অটোমোবাইল কারখানা চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তাঁর প্রশাসন বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “কেবল রিপাবলিকানরাই এটি করতে পারে, ডেমোক্র্যাটরা পারবে না।”
তবে মিশিগানের উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে, বাইডেনের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ বছরে, অঙ্গরাজ্যটিতে উৎপাদন খাতে গড়ে মাসে প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষ কর্মরত ছিলেন। ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখ ৮২ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

সিনেট নির্বাচন নিয়ে আলোচনার ঝড়
হোয়াইট লেক টাউনশিপের সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মাইক রজার্স এবং অ্যান আরবারের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল এল-সায়েদের মধ্যকার নির্বাচনী লড়াই এখন জাতীয় পর্যায়ে মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।
তাঁরা এমন একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বর্তমানে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের দখলে রয়েছে। ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের বাসিন্দা পিটার্স আরেকটি ছয় বছর মেয়াদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ অক্টোবর পোর্ট হিউরনে আয়োজিত জনসভায় বক্তারা ২৭ বার এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করেন। সেখানে রজার্স বলেন, এই নির্বাচনে স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ‘চরমপন্থী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এল-সায়েদ পুলিশ বাহিনীর জন্য বরাদ্দ তহবিল কমাতে চান এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে।
রজার্স বলেন, “তারা একটি আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলছে। আর আমরা এমন একটি অঙ্গরাজ্য গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আমাদের সন্তানরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবে, তাদের অন্য কোথাও চলে যেতে হবে না।”
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় ‘ফ্লাইট ৯৩’-এ নিহত যাত্রী টড বিমারের বাবা ডেভিড বিমার পোর্ট হিউরনের সমাবেশে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের তীব্র সমালোচনা করেন।
একপর্যায়ে বিমার বলেন, “আব্দুলের জন্মসনদ রয়েছে। সেই সনদ অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু শুধু জন্মসনদ থাকলেই কেউ প্রকৃত আমেরিকান হয়ে যান না।”
মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান এল-সায়েদ মিশিগানেই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের অ্যান্ডোভার হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এল-সায়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিহাদিদের’ প্রবেশের সুযোগ করে দেবেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, “এমনটা হলে আপনারা বড়দিনও (ক্রিসমাস) উদ্‌যাপন করতে পারবেন না।”

বিশাল জনসমাগম
জনসভায় বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত মানুষের উপস্থিতি মিশিগানে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন উদ্দীপনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ওকল্যান্ড কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ভ্যান্স প্যাট্রিক বলেন, “ভবনটির চারপাশে মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, ট্রাম্পের জন্য এটি মিশিগানকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং জন জেমস ও মাইক রজার্সকে জয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ।”
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, জন জেমস ও মাইক রজার্স—উভয়েই তাঁদের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। তবে মিশিগান স্টেট হাউসের স্পিকার ও রিপাবলিকান নেতা ম্যাট হল দলীয় কর্মীদের এসব জরিপে আস্থা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হল বলেন, “ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজের’ অংশ হিসেবে ছড়ানো ভুয়া জরিপের ফাঁদে পা দেবেন না। তারা আমাদের ভোট দমিয়ে রাখতে চায়—এটাই তাদের উদ্দেশ্য। তাই এসব ভুয়া জরিপ উপেক্ষা করুন এবং ভোট দিতে বেরিয়ে আসুন।”
জনসভায় হল ও রজার্স ছাড়াও বক্তব্য দেন শেলবি টাউনশিপের কংগ্রেসম্যান জন জেমস এবং ব্রুস টাউনশিপের মার্কিন প্রতিনিধি লিসা ম্যাকক্লেইন।
সঙ্গীতশিল্পী নিকি মিনাজ ট্রাম্পের সঙ্গে মিশিগানে আসেন এবং পোর্ট হিউরনের জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
মিনাজ বলেন, “এই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। তিনি অদম্য মানসিক শক্তির প্রতীক।”
দেশ বর্তমানে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিনাজ বলেন, “আমরা চাই না, আমাদের শিশুরা লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর মুখোমুখি হোক।”
এর আগে মার্কিন সিনেটর জন হাস্টেডের (রিপাবলিকান, ওহাইও) শারীরিক গঠন ও ক্রীড়ানৈপুণ্য নিয়ে কথা বলার সময় মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
জনতার ভিড়ে মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, “যাই হোক, কিছুক্ষণ আগে আমি দারুণ সুন্দর একটি শরীর দেখলাম—নিকি মিনাজ! এমন কিছু উপেক্ষা করা কঠিন। নিকি, উঠে দাঁড়াও! তোমাকে উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com