মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকায় ‘ফ্লক’ লাইসেন্স প্লেট রিডার ব্যবহারের চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া সর্বশেষ কমিউনিটি হলো রচেস্টার হিলস/Photo : Andy Morrison, The Detroit News
রচেস্টার হিলস, ২৮ অক্টোবর : রচেস্টার হিলস সম্প্রতি মিশিগানের সবচেয়ে নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জেসন কার্লক। তাঁর মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরটির সক্রিয় ভূমিকা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যদের প্রতি আস্থা এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এক বিবৃতিতে কার্লক বলেন, অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘ফ্লক’ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বাসিন্দাদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টিও শহর কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, “কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, তথ্য ব্যবহারে সীমিত প্রবেশাধিকার, স্বল্প সময়ের জন্য তথ্য সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকি—এসব শর্ত নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
সিটি কাউন্সিল শহরের জননিরাপত্তা ও অবকাঠামো বিষয়ক কারিগরি পর্যালোচনা কমিটিকে ‘ফ্লক’ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার কয়েকটি কমিউনিটি ‘ফ্লক’ ক্যামেরার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য, সেসব তথ্যে কারা প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে অথবা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অন্য কিছু কমিউনিটি এসব ক্যামেরার ব্যবহার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে স্টার্লিং হাইটস সিটি কাউন্সিল ৪-৩ ভোটে ‘ফ্লক’-এর সঙ্গে চুক্তি আরও দুই বছরের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
অপরাধ তদন্তে ফ্লক প্রযুক্তির
সাফল্যের দাবি শেরিফের
ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন পল ওয়ার্কম্যান জানিয়েছেন, ‘ফ্লক’ (Flock) প্রযুক্তি বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে ডেপুটিদের সহায়তা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌন অপরাধ, অশালীন কর্মকাণ্ড, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশসহ অন্যান্য অপরাধ। এ ছাড়া স্মৃতিভ্রষ্ট এক বয়স্ক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হয়েছে।
ওয়ার্কম্যান বলেন, “এই প্রযুক্তি কোনো জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নয়। আমাদের এলাকায় চলাচলকারী কোনো যানবাহন বা ব্যক্তিকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করার সক্ষমতা এর নেই।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো যানবাহন ফ্লক ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিস্টেমটি গাড়িটির একটি স্থিরচিত্র ধারণ করে। পাশাপাশি ছবিটি ধারণের তারিখ, সময় ও স্থান সংরক্ষণ করে।
ওয়ার্কম্যান আরও জানান, ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তাদের সংগৃহীত ছবি কোনো ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করে না।
অন্যদিকে, রচেস্টার হিলস সিটি কাউন্সিলের সদস্য মারভি নিউবাউয়ার জানিয়েছেন, অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন, তাঁরা ‘ফ্লক’ প্রযুক্তির সমর্থনে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে ভয় পান।
নিরাপত্তা নাকি গণনজরদারি
প্রশ্ন বাসিন্দাদের
রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা টিম ও’হারা জানিয়েছেন, তিনি গত ২৭ বছর ধরে এ এলাকায় নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে বসবাস করছেন। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে কখনোই তাঁর মনে হয়নি, ‘ফ্লক’ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “অপরাধের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে ভয় পেতে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে নিজেদের অধিকার বিসর্জন দিতে উৎসাহিত করছে। ‘স্বাধীনতার দেশ’ বলতে যদি বোঝায়, মুদি দোকানে গেলেও আমাকে নজরদারিতে রাখতে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে অর্থ দিতে হবে, তাহলে বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত।”
রচেস্টার হিলসের আরেক বাসিন্দা ডেবোরা বার্নো ‘ফ্লক’ প্রযুক্তিকে ‘গণনজরদারির একটি হাতিয়ার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শেরিফের কার্যালয় সিটি কাউন্সিলের কাছে এক বা দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।
কাউন্সিল সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের করের অর্থের রক্ষক। শেরিফ বিভাগের এমন একটি আপত্তিকর প্রস্তাবের বিপরীতে আপনারা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখবেন।"
Source & Photo: http://detroitnews.com
রচেস্টার হিলস, ২৮ অক্টোবর : রচেস্টার হিলস সম্প্রতি মিশিগানের সবচেয়ে নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নিরাপদ শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জেসন কার্লক। তাঁর মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরটির সক্রিয় ভূমিকা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যদের প্রতি আস্থা এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এক বিবৃতিতে কার্লক বলেন, অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘ফ্লক’ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বাসিন্দাদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টিও শহর কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, “কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, তথ্য ব্যবহারে সীমিত প্রবেশাধিকার, স্বল্প সময়ের জন্য তথ্য সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকি—এসব শর্ত নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
সিটি কাউন্সিল শহরের জননিরাপত্তা ও অবকাঠামো বিষয়ক কারিগরি পর্যালোচনা কমিটিকে ‘ফ্লক’ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকার কয়েকটি কমিউনিটি ‘ফ্লক’ ক্যামেরার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য, সেসব তথ্যে কারা প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে অথবা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অন্য কিছু কমিউনিটি এসব ক্যামেরার ব্যবহার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে স্টার্লিং হাইটস সিটি কাউন্সিল ৪-৩ ভোটে ‘ফ্লক’-এর সঙ্গে চুক্তি আরও দুই বছরের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
অপরাধ তদন্তে ফ্লক প্রযুক্তির
সাফল্যের দাবি শেরিফের
ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ক্যাপ্টেন পল ওয়ার্কম্যান জানিয়েছেন, ‘ফ্লক’ (Flock) প্রযুক্তি বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে ডেপুটিদের সহায়তা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌন অপরাধ, অশালীন কর্মকাণ্ড, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশসহ অন্যান্য অপরাধ। এ ছাড়া স্মৃতিভ্রষ্ট এক বয়স্ক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতেও প্রযুক্তিটি সহায়ক হয়েছে।
ওয়ার্কম্যান বলেন, “এই প্রযুক্তি কোনো জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নয়। আমাদের এলাকায় চলাচলকারী কোনো যানবাহন বা ব্যক্তিকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করার সক্ষমতা এর নেই।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোনো যানবাহন ফ্লক ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিস্টেমটি গাড়িটির একটি স্থিরচিত্র ধারণ করে। পাশাপাশি ছবিটি ধারণের তারিখ, সময় ও স্থান সংরক্ষণ করে।
ওয়ার্কম্যান আরও জানান, ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তাদের সংগৃহীত ছবি কোনো ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করে না।
অন্যদিকে, রচেস্টার হিলস সিটি কাউন্সিলের সদস্য মারভি নিউবাউয়ার জানিয়েছেন, অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন, তাঁরা ‘ফ্লক’ প্রযুক্তির সমর্থনে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে ভয় পান।
নিরাপত্তা নাকি গণনজরদারি
প্রশ্ন বাসিন্দাদের
রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা টিম ও’হারা জানিয়েছেন, তিনি গত ২৭ বছর ধরে এ এলাকায় নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে বসবাস করছেন। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে কখনোই তাঁর মনে হয়নি, ‘ফ্লক’ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “অপরাধের হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে ভয় পেতে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে নিজেদের অধিকার বিসর্জন দিতে উৎসাহিত করছে। ‘স্বাধীনতার দেশ’ বলতে যদি বোঝায়, মুদি দোকানে গেলেও আমাকে নজরদারিতে রাখতে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে অর্থ দিতে হবে, তাহলে বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত।”
রচেস্টার হিলসের আরেক বাসিন্দা ডেবোরা বার্নো ‘ফ্লক’ প্রযুক্তিকে ‘গণনজরদারির একটি হাতিয়ার’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শেরিফের কার্যালয় সিটি কাউন্সিলের কাছে এক বা দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।
কাউন্সিল সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের করের অর্থের রক্ষক। শেরিফ বিভাগের এমন একটি আপত্তিকর প্রস্তাবের বিপরীতে আপনারা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখবেন।"
Source & Photo: http://detroitnews.com