স্বাস্থ্য বিমায় বাড়তি ব্যয়ের মুখে  মিশিগানের ৪ লাখ মানুষ

আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:০৮:৪৪ অপরাহ্ন
ল্যান্সিং, ২৯ অক্টোবর: মিশিগানে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা গ্রহণকারীদের প্রিমিয়াম আগামী বছর ২৫ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে। ইউনাইটেডহেলথকেয়ার (UnitedHealthcare), মেরিডিয়ান (Meridian) ও মোলিনা (Molina)-র মতো বিমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম বৃদ্ধির উচ্চহার অনুমোদন দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (DIFS) ২০২৭ সালে অঙ্গরাজ্যের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা বাজারে প্রিমিয়ামের হার গড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এতে বর্তমানে বিমার আওতায় থাকা ৪ লাখেরও বেশি মানুষ প্রভাবিত হবেন। তবে এ বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পাওয়া অধিকাংশ স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়বে না।
DIFS-এর মুখপাত্র হেইলি উইলেট ইমেইলে জানান, মিশিগানের বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিমার হারের পরিবর্তন গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের সব শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি প্রতিবছর বিমা কোম্পানিগুলোর জমা দেওয়া প্রস্তাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। এ কাজে স্বাধীন অ্যাকচুয়ারি বা বিমা-পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আইনি শর্তগুলোর অন্যতম হলো, বিমা কোম্পানিগুলোকে এমন হারে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বিমার মেয়াদে গ্রাহকদের সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি (ক্লেইম) পরিশোধের সক্ষমতা বজায় থাকে।
ইউনাইটেডহেলথকেয়ার কমিউনিটি প্ল্যানের (UnitedHealthcare Community Plan) প্রিমিয়াম গড়ে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিষ্ঠানটি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। ২২ অক্টোবর হালনাগাদ করা অঙ্গরাজ্যের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে মিশিগানের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা বাজারে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৬৪ হাজার ৪৯৫।
মেরিডিয়ান হেলথ প্ল্যান অব মিশিগান (Meridian Health Plan of Michigan) প্রিমিয়াম ২৪ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৮। অন্যদিকে, মোলিনা হেলথকেয়ার অব মিশিগান (Molina Healthcare of Michigan) প্রিমিয়াম ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন পেয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত হারের সমান। তবে অঙ্গরাজ্যের প্রতিবেদনে মোলিনার বর্তমান গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
বিমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে চিকিৎসাসেবা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের হার বৃদ্ধি, বিমা-ঝুঁকির পরিস্থিতির অবনতি এবং ফেডারেল ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে।
ইউনাইটেডহেলথকেয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার চিকিৎসা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য বার্ষিক বৃদ্ধির প্রতিফলন। হাসপাতালের ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হার বেড়ে যাওয়া এবং বিশেষায়িত ওষুধের ক্রমবর্ধমান মূল্যকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত প্রিমিয়ামের হার যেন ন্যায্য হয়, প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয়ের প্রতিফলন ঘটায় এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করতে তারা অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনাইটেডহেলথকেয়ার, মেরিডিয়ান ও মোলিনার প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অনুমোদিত হার মিশিগানের কয়েকটি বড় স্বাস্থ্য বিমা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগান, ব্লু কেয়ার নেটওয়ার্ক এবং কোরওয়েল হেলথ সিস্টেমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান প্রায়োরিটি হেলথ।
ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগানের প্রিমিয়াম গড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্লু কেয়ার নেটওয়ার্কের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা বাজারে সর্বাধিক গ্রাহক থাকা প্রায়োরিটি হেলথের প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অনুমোদিত হার ১১ দশমিক ২ শতাংশ।

ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগানের ইন্ডিভিজুয়াল বিজনেস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিল টুথিল এক বিবৃতিতে বলেন, “মিশিগানের পরিবারগুলোকে উন্নতমানের ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য বিমা পেতে সহায়তা করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ২০২৭ সালে সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের যে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, আমাদের প্রিমিয়ামের হার তা প্রতিফলিত করে। চলতি বছরে চিকিৎসাসেবা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয়সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য পাওয়ায় এই ব্যয়ের পূর্বাভাস বেড়েছে।”
ম্যাকলারেন হেলথ প্ল্যান কমিউনিটির প্রিমিয়াম ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। এ ছাড়া অ্যালায়েন্স হেলথ অ্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রিমিয়াম ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত এই বৃদ্ধির হার সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা স্বাস্থ্য বিমা পলিসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর আওতায় অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পাওয়া বিমা পরিকল্পনাগুলোও রয়েছে।
মিশিগানের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা বাজারে প্রিমিয়াম গড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ। বিমা কোম্পানিগুলো গড়ে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল।
মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ প্ল্যানসের (এমএএইচপি) মতে, চিকিৎসাসেবার ব্যয় ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং ফেডারেল আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রিমিয়াম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। সংগঠনটি মিশিগানের স্বাস্থ্য বিমা কোম্পানি ও স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে।
মিশিগান অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ প্ল্যানসের (এমএএইচপি) নির্বাহী পরিচালক ডমিনিক প্যালোন এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসক্রিপশন ওষুধের উচ্চমূল্য, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসায় বড় অঙ্কের বিমা দাবি এবং গ্রাহকদের কর-সুবিধা (ট্যাক্স ক্রেডিট) কমে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম বাড়ছে। এর ফলে নিয়োগকর্তা ও গ্রাহকদের ওপর আকস্মিকভাবে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মিশিগানের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা বাজারে বিমা কোম্পানিগুলো মোট ২০১টি পরিকল্পনা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ৫৩টি পরিকল্পনায় প্রিমিয়াম অন্তত ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে ইউনাইটেডহেলথকেয়ারের ১৬টি, প্রায়োরিটি হেলথের ১৩টি এবং মেরিডিয়ানের ১০টি রয়েছে।
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (DIFS) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য স্বাস্থ্য বিমার ১৮টি প্রিমিয়াম হার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। পর্যালোচনার সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ৯৪৪টি আপত্তি উত্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবই পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও প্রক্রিয়াকরণে গড়ে ১১০ দিন সময় লেগেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাজ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে প্রতিটি বীমা কোম্পানি কেন প্রিমিয়াম বাড়ানোর আবেদন করেছিল, তার বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। অনুমোদিত হারগুলো ২০২৭ সালের গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। তবে নির্দিষ্ট পলিসির ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম বৃদ্ধির হার কোনো কোম্পানির অনুমোদিত গড় হারের চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।
প্রিমিয়ামের গড় বৃদ্ধির হার আর গ্রাহকের মাসিক ব্যয় বৃদ্ধি এক বিষয় নয়। একজন গ্রাহকের প্রিমিয়াম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে বিমা পরিকল্পনা, বয়স, ভৌগোলিক অবস্থান ও তামাক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোর ওপর।
ফেডারেল প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট বা কর-সুবিধা পাওয়া গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যয়ের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, এই ভর্তুকি বিমার প্রিমিয়াম বাবদ গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
নতুন প্রিমিয়াম হার ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com