আমেরিকায় আজ হ্যালোইন, ভৌতিক সাজে উৎসবের আমেজ

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০২:৩০:৫২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০২:৩০:৫২ অপরাহ্ন
স্টার্লিং হাইটস, ৩১ অক্টোবর : চারদিকে ভৌতিক সাজসজ্জা, বাড়ির সামনে কুমড়োর খোলসে তৈরি জ্বলজ্বলে মুখ, ভূত-প্রেতের প্রতিকৃতি আর বিচিত্র পোশাকে শিশুদের আনাগোনা। আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব। বিশেষ করে আমেরিকায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যে এ উৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
হ্যালোইন মানেই ভৌতিক সাজে সজ্জিত হওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি বা ক্যান্ডি সংগ্রহ এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা। শিশুদের কাছে উৎসবটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘ট্রিক অর ট্রিট’। বিচিত্র পোশাক পরে তারা প্রতিবেশীদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে। বাড়ির মালিকেরা তাদের হাতে তুলে দেন ক্যান্ডি ও নানা ধরনের মিষ্টি। কেউ ভূত, কেউ ডাইনি, কেউবা ভ্যাম্পায়ার কিংবা নানা কাল্পনিক চরিত্রের সাজে নিজেদের উপস্থাপন করে।
হ্যালোইনের অন্যতম প্রতীক কুমড়োর খোলস কেটে তৈরি করা ‘জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন’। কুমড়োর ভেতরের অংশ ফাঁকা করে চোখ-মুখের আকৃতি কেটে তার ভেতরে আলো জ্বালানো হয়। বাড়ির প্রবেশপথ, জানালা ও বাগানে শোভা পায় এসব আলোকসজ্জা। কোথাও আয়োজন করা হয় ভৌতিক বাড়ি, কস্টিউম পার্টি, প্যারেড ও নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।
হ্যালোইনের ইতিহাস কয়েক হাজার বছর আগের প্রাচীন কেল্টিক জাতির ‘সামহেইন’ (Samhain) উৎসবের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস ছিল, অক্টোবরের শেষ রাতে জীবিত ও মৃতের জগতের মধ্যকার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়। অশুভ আত্মা থেকে রক্ষা পেতে তারা আগুন জ্বালাত এবং বিচিত্র পোশাক পরত। পরবর্তী সময়ে খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের প্রভাব ও নানা সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি বর্তমান রূপ পেয়েছে। বর্তমানে এটি মূলত আনন্দ, বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমের হ্যালোইন, বাংলার ভূত চতুর্দশী
অন্ধকার, অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস ও মৃত আত্মাকে ঘিরে পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে রয়েছে নানা উৎসব ও আচার। পশ্চিমা সংস্কৃতির হ্যালোইনের সঙ্গে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভূত চতুর্দশীর কিছু সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে দুটি উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য ও উদযাপনের রীতি এক নয়।
ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি হিন্দু পরিবারে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রদীপ পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষার প্রতীক। পাশাপাশি ১৪ রকম শাক খাওয়ারও একটি ঐতিহ্য রয়েছে। কালীপূজার আগের দিন পালিত হয় এই উৎসব।
আজ ৩১ অক্টোবর, যেদিন পশ্চিমে হ্যালোইন। পূর্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভূত চতুর্দশীও একই সময়ের কাছাকাছি পালিত হয়, যদিও ২০২৬ সালে ভূত চতুর্দশী পড়েছে ৭ নভেম্বর। দুই ভিন্ন সংস্কৃতির এই দুই উৎসব ভিন্ন ভূগোলের, ভিন্ন ঐতিহ্যের; তবু এক আশ্চর্য সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের বন্ধনে যুক্ত। অন্ধকারের মাঝেও আলো খোঁজার মানবিক প্রবৃত্তি, অজানাকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল এবং প্রয়াতদের স্মরণ করার ঐতিহ্য যেন কোথাও গিয়ে এক সুতোয় গাঁথা।

প্রবাসে সংস্কৃতির মেলবন্ধন
মিশিগানের বিভিন্ন শহরেও হ্যালোইন ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের আনন্দকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। বাড়ির সামনে সাজানো হয়েছে কুমড়ো, কৃত্রিম কঙ্কাল, মাকড়সার জাল ও ভৌতিক প্রতিকৃতি। সন্ধ্যা নামলেই রঙিন পোশাকে শিশুদের দেখা যাবে বাড়ি বাড়ি ক্যান্ডি সংগ্রহ করতে।
প্রবাসী বাঙালিদের অনেক পরিবারও সন্তানদের নিয়ে এই উৎসবে অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে আমেরিকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিজেদের শিকড়ের উৎসব ও ঐতিহ্যের কথাও মনে করিয়ে দেয় এমন আয়োজন।
সব মিলিয়ে হ্যালোইন এখন আর কেবল ভূত-প্রেতের গল্প কিংবা ভয় দেখানোর উৎসব নয়; এটি আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদ্‌যাপনের একটি উপলক্ষ।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com