ফার্মিংটন হিলস, ১ নভেম্বর : কবিতার পঙ্ক্তিতে ভাষার আবেগ, গানের সুরে শেকড়ের টান আর নৃত্যের ছন্দে বাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য সব মিলিয়ে প্রবাসের মাটিতে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। কবিতা, গান, নৃত্য ও আবৃত্তির নান্দনিক আয়োজনে মিশিগানে অনুষ্ঠিত হলো আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘মনের গহীনে বাংলা’।
আজ শনিবার (১ নভেম্বর) ফার্মিংটন হিলসের ওয়েস্ট টুয়েলভ মাইল রোডে অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টারে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার এ আয়োজনে দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে হলরুম ছিল পরিপূর্ণ। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে কবিতা, গান ও নৃত্যের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল আজম সিদ্দিকী। বাংলা কবিতার বিভিন্ন সময়, ধারা ও অনুভূতিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি আবৃত্তি করেন খ্যাতিমান কবিদের কবিতা। তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসে সৈয়দ শামসুল হক, হেলাল হাফিজ, শুভ দাশগুপ্ত, নাজমুল আনোয়ার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শ্রীজা ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতা।
কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা কবিতার বহুমাত্রিক অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। শব্দের উচ্চারণ, ছন্দের ওঠানামা ও আবেগের প্রকাশে কবিতাগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে এমন নিবিড় সংযোগ দর্শক-শ্রোতাদের জন্য হয়ে ওঠে এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
কবিতার পাশাপাশি গানের পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। ফজলে আহাদ, লিসা জামান, শাফকাত আবির, রিশাদ ফারিহা ও হেলেন হাবিব গানের মাধ্যমে কবিতার কথাকে সুরের আবরণে তুলে ধরেন। বিশেষ করে কবিতা ও গানের সম্মিলিত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে দেয় ভিন্নধর্মী শিল্পরূপ।
নৃত্য পরিবেশনায় ছিল বাংলার সংস্কৃতির আরেক অনন্য প্রকাশ। ‘কৃষ্ণকলি’ কবিতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সুমাইয়া করিম শাম্মা। অন্যদিকে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ গানের ছন্দে নৃত্য পরিবেশন করেন অর্পিতা ও মৃত্তিকা সরকার। কবিতার ভাব ও গানের সুরের সঙ্গে তাঁদের নৃত্য মিলনায়তনে সৃষ্টি করে নান্দনিক আবহ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরপর তিনটি কোরাস গান। এতে অংশ নেন সাদেকুল ইসলাম, ফিরোজ খান, ফজলে আহাদ, শামসিনা হাসান প্রাচী, আইরিন অ্যানি, শাহালী আখতার, নাহিদ আক্তার মুক্তা, নাজমুল আনোয়ার, হেলেন হাবিব ও আহসান হাবিব। তাঁদের সম্মিলিত কণ্ঠে গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। তবলায় সহযোগিতা করেন রতন হাওলাদার।
সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক আবৃত্তি পর্বের পর কবিতা পরিবেশন করেন সেলিনা শিল্পী, পপি দাস, ইফাজ করিম, রিশাদ ফারিহা, ফজলে আহাদ, সুমাইয়া করিম শাম্মা ও লিসা জামান। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানের সাহিত্যিক আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিকসহ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অনুরাগীরা। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার প্রত্যয়ও যেন প্রতিফলিত হয় পুরো আয়োজনে।
কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমের বাইরে বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ দিয়ে সাজানো ছিল একটি বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায় সাহিত্যপ্রেমীদের। বই, কবিতা ও শিল্পের প্রতি তাঁদের আগ্রহ অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি করে এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের সাউন্ড ব্যবস্থাপনায় ছিল মিশিগানের নতুন প্রতিষ্ঠান এমকেএস সাউন্ড অ্যান্ড ইভেন্ট।
দিনশেষে ‘মনের গহীনে বাংলা’ কেবল একজন আবৃত্তিশিল্পীর একক পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; হয়ে উঠেছে কবিতা, গান, নৃত্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চার এক প্রাণবন্ত আয়োজন। প্রবাসের দূরত্ব পেরিয়ে বাংলা ভাষা যে মানুষের হৃদয়ে কত গভীরভাবে বেঁচে থাকে, তিন ঘণ্টার এই আয়োজন যেন তারই এক শিল্পিত প্রকাশ।
আজ শনিবার (১ নভেম্বর) ফার্মিংটন হিলসের ওয়েস্ট টুয়েলভ মাইল রোডে অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টারে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার এ আয়োজনে দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে হলরুম ছিল পরিপূর্ণ। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে কবিতা, গান ও নৃত্যের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল আজম সিদ্দিকী। বাংলা কবিতার বিভিন্ন সময়, ধারা ও অনুভূতিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি আবৃত্তি করেন খ্যাতিমান কবিদের কবিতা। তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসে সৈয়দ শামসুল হক, হেলাল হাফিজ, শুভ দাশগুপ্ত, নাজমুল আনোয়ার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শ্রীজা ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতা।
কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা কবিতার বহুমাত্রিক অনুভূতি তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। শব্দের উচ্চারণ, ছন্দের ওঠানামা ও আবেগের প্রকাশে কবিতাগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে এমন নিবিড় সংযোগ দর্শক-শ্রোতাদের জন্য হয়ে ওঠে এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
কবিতার পাশাপাশি গানের পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। ফজলে আহাদ, লিসা জামান, শাফকাত আবির, রিশাদ ফারিহা ও হেলেন হাবিব গানের মাধ্যমে কবিতার কথাকে সুরের আবরণে তুলে ধরেন। বিশেষ করে কবিতা ও গানের সম্মিলিত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে দেয় ভিন্নধর্মী শিল্পরূপ।
নৃত্য পরিবেশনায় ছিল বাংলার সংস্কৃতির আরেক অনন্য প্রকাশ। ‘কৃষ্ণকলি’ কবিতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সুমাইয়া করিম শাম্মা। অন্যদিকে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ গানের ছন্দে নৃত্য পরিবেশন করেন অর্পিতা ও মৃত্তিকা সরকার। কবিতার ভাব ও গানের সুরের সঙ্গে তাঁদের নৃত্য মিলনায়তনে সৃষ্টি করে নান্দনিক আবহ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পরপর তিনটি কোরাস গান। এতে অংশ নেন সাদেকুল ইসলাম, ফিরোজ খান, ফজলে আহাদ, শামসিনা হাসান প্রাচী, আইরিন অ্যানি, শাহালী আখতার, নাহিদ আক্তার মুক্তা, নাজমুল আনোয়ার, হেলেন হাবিব ও আহসান হাবিব। তাঁদের সম্মিলিত কণ্ঠে গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। তবলায় সহযোগিতা করেন রতন হাওলাদার।
সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক আবৃত্তি পর্বের পর কবিতা পরিবেশন করেন সেলিনা শিল্পী, পপি দাস, ইফাজ করিম, রিশাদ ফারিহা, ফজলে আহাদ, সুমাইয়া করিম শাম্মা ও লিসা জামান। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানের সাহিত্যিক আবহ আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিকসহ বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অনুরাগীরা। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার প্রত্যয়ও যেন প্রতিফলিত হয় পুরো আয়োজনে।
কমিউনিটি সেন্টারের হলরুমের বাইরে বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ দিয়ে সাজানো ছিল একটি বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায় সাহিত্যপ্রেমীদের। বই, কবিতা ও শিল্পের প্রতি তাঁদের আগ্রহ অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি করে এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের সাউন্ড ব্যবস্থাপনায় ছিল মিশিগানের নতুন প্রতিষ্ঠান এমকেএস সাউন্ড অ্যান্ড ইভেন্ট।
দিনশেষে ‘মনের গহীনে বাংলা’ কেবল একজন আবৃত্তিশিল্পীর একক পরিবেশনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; হয়ে উঠেছে কবিতা, গান, নৃত্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চার এক প্রাণবন্ত আয়োজন। প্রবাসের দূরত্ব পেরিয়ে বাংলা ভাষা যে মানুষের হৃদয়ে কত গভীরভাবে বেঁচে থাকে, তিন ঘণ্টার এই আয়োজন যেন তারই এক শিল্পিত প্রকাশ।