হ্যামট্রাম্যাকের মেয়রের চেয়ারে বসছেন মুহিত, ৮ নভেম্বর শপথ

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন
হ্যামট্রাম্যাক, ৪ নভেম্বর : নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন মুহিত মাহমুদ।
সাবেক এই কাউন্সিল সদস্য ২০২৫ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে গত মাসের শেষ দিকে বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট গণনার পর তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মুহিত মাহমুদ জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুরে হ্যামট্রাম্যাক হাই স্কুলের মিলনায়তনে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
মুহিত মাহমুদ বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত। তবে একই সঙ্গে অতীতের সব ঘটনা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
এদিকে, নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর জানুয়ারি থেকে মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা অ্যাডাম আলহারবিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ এখন মুহিত মাহমুদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি বিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আলহারবি পুনরায় ভোট গণনার (রিকাউন্ট) দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, মুহিত মাহমুদের বিজয়ের পথ সুগম করা বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট নিয়ে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা আপিল করবেন। এদিকে, হ্যামট্রাম্যাক শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকাসংবলিত ওয়েবসাইট থেকে আলহারবির নাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে কাউন্সিল সদস্য আবু মুসাকে ‘মেয়র প্রো টেম’ (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলাফল প্রত্যয়ন 
করা হবে
ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সের ৪ নভেম্বরের সভার আলোচ্যসূচি থেকে জানা গেছে, বোর্ডটি ২০২৫ সালের হ্যামট্রাম্যাক মেয়র নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করতে যাচ্ছে। ভোটারদের ভোট প্রদানের ঠিক এক বছর পর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়নের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্যসূচিতে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড অ্যাডাম আলহারবির দাখিল করা একটি আবেদন বিবেচনা করবে। ওই আবেদনে তিনি নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনার (রিকাউন্ট) দাবি জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনার পর আলহারবিকে ১১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ব্যালট গণনার পর দেখা যায়, মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯টি ভোট এবং আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭টি ভোট। ফলে ১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান মুহিত মাহমুদ। বিতর্কের সূত্রপাত হয় ৩৭টি অনুপস্থিত ভোটারের (অ্যাবসেন্টি) ব্যালট নিয়ে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের পরদিন হ্যামট্রাম্যাক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা অবস্থায় ফেরত আসা খামের ভেতর এসব ব্যালট পাওয়া যায়। ব্যালটগুলো উদ্ধারের পর সেগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে বিষয়টি ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে উত্থাপিত হয়। এ নিয়ে বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ২-২ ভোটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ফলে ওই সময় ব্যালটগুলো গণনা করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় মুহিত মাহমুদ ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে আদালত ভোট গণনা যাচাইকারী কর্মকর্তাদের (ক্যানভাসার) পক্ষে রায় দেন এবং ৩৭টি ব্যালট গণনা না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে মাহমুদ আপিল করেন। ২০২৬ সালের মার্চে মিশিগান কোর্ট অব আপিলস নিম্ন আদালতের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।
এরপর আলহারবি মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। তবে আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে আপিল আদালতের রায় বহাল থাকে এবং মামলাটি পুনরায় ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ফিরে আসে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি একটি আদেশ জারি করে বোর্ড অব ক্যানভাসারসকে ৩৭টি ব্যালট গণনার নির্দেশ দেন।
মুহিত মাহমুদ বলেন, “আমি ২০১৯ সাল থেকে হ্যামট্রাম্যাকে বসবাস করছি। বিচারক প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই রায় দিয়েছেন। আমার কাছে বহু বছরের প্রমাণ ছিল। সবকিছু খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করতে তিনি পুরো এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি ছিল একটি নিরপেক্ষ রায়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

যোগাযোগ :

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : suprobhatmichigan@gmail.com

Website : www.suprobhatmichigan.com