ফার্মিংটন হিলসের হেরিটেজ পার্কে একটি সাদা-লেজযুক্ত হরিণী বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়, ছবিটি ২০২৫ সালের ২৭ মে ধারণ করা হয়/Photo : Katy Kildee, Special To The Detroit News
ফার্মিংটন হিলস, ফার্মিংটন/সাউথফিল্ড, ১৬ জানুয়ারি : ওকল্যান্ড কাউন্টির তিনটি কমিউনিটিতে হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিধন অভিযান এগিয়ে চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকে আগামী মার্চের মধ্যে কোনো এক সময় এ অভিযান পরিচালিত হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্দিষ্ট দিন বা সময় প্রকাশ করা হবে না।
সাউথফিল্ড ও ফার্মিংটন হিলস শহর হরিণ নিধনের জন্য মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) কর্তৃক নিযুক্ত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিকারীদের ব্যবহার করবে। নিধন অভিযান বলতে হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা কমাতে নির্দিষ্ট এলাকায় সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত শিকার কার্যক্রমকে বোঝানো হয়।
ফার্মিংটন শহরও এই উদ্যোগে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে সিটি কাউন্সিলের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা নিজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী ফার্মিংটন হিলসের পরিষেবা গ্রহণ করবে।
সাউথফিল্ডের মেয়র কেন সিভার জানান, তার শহরে নিধন অভিযানটি এই মাসের শেষ দিকে অথবা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্যদিকে, ফার্মিংটন হিলসের ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজার কারেন মন্ডোরা বলেন, সেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় অভিযান পরিচালিত হবে।
বুধবার এক প্রস্তুত বিবৃতিতে মন্ডোরা বলেন, “নিরাপত্তা ও কার্যক্রমগত কারণে শহর কর্তৃপক্ষ দৈনিক বা রিয়েল-টাইম সময়সূচি প্রকাশ করে না। প্রশিক্ষিত পেশাদারদের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের তথ্য সীমিত রাখলে বাসিন্দা, কর্মী ও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, পাশাপাশি কর্মসূচির কার্যকারিতাও বজায় থাকে।”
মেয়র সিভার সাউথফিল্ডে নিধন অভিযানের নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ জানাননি। তবে তিনি বলেন, রুজ নদীর উপত্যকা একটি সম্ভাব্য এলাকা, কারণ শীতকালে হরিণরা সেখানে আশ্রয় নেয়। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান চলাকালে ওই এলাকাটি জনসাধারণের প্রবেশের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। শিকার করা হরিণের মাংস স্থানীয় ফুড ব্যাংকগুলোতে বিতরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ফার্মিংটন শহরের কর্মকর্তারা ফার্মিংটন হিলসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বিষয়ে করা এক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, তিনটি শহরই ২০২৫ সালের বসন্তে নিধন অভিযান অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রতিটি শহরে এ কার্যক্রম পরিচালনায় আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার ব্যয় হতে পারে। ভবিষ্যতে বার্ষিক ভিত্তিতে এ ধরনের নিধন অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফার্মিংটন হিলসে ৬–১ ভোটে নিধন অভিযান অনুমোদিত হওয়ার পর কিছু বাসিন্দা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, শহরের উচিত বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ও হরিণ-প্রতিরোধী গাছপালা রোপণের মতো অহিংস বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা। তবে শহর কর্তৃপক্ষ এবং মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস (ডিএনআর) বলছে, হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি, আগ্রাসী উদ্ভিদের বিস্তার এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
মেয়র সিভার বলেন, “আমাদের শহরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুটি হরিণ-গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত উদ্যোগে এই সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, ফার্মিংটন হিলস ও ডেট্রয়েট থেকে হরিণ সাউথফিল্ডে চলে আসে। সিভার বলেন, “আমাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—এবং আমি একেবারেই ঠাট্টা করছি না—হরিণ পৌরসভার সীমানা মানে না। সাউথফিল্ড একা এ কাজ করলেও হরিণ প্রতিদিনের মতোই আসা-যাওয়া করবে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার স্পষ্টতই কোনো দুর্ঘটনা চায় না, কিন্তু তারা স্বীকার করছে যে শহরাঞ্চলে হরিণ এখন একটি গুরুতর সমস্যা।”
সিভারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগান ডিএনআর তাকে জানিয়েছে, হরিণের পালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা পালের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। অন্যদিকে, কারেন মন্ডোরা জানিয়েছেন, নিধন অভিযান শেষ হলে ফার্মিংটন হিলস কর্তৃপক্ষ পুরো কার্যক্রম নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
উল্লেখ্য, ইউএসডিএ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হরিণ নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে পিটসবার্গ ও নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউস উল্লেখযোগ্য।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ফার্মিংটন হিলস, ফার্মিংটন/সাউথফিল্ড, ১৬ জানুয়ারি : ওকল্যান্ড কাউন্টির তিনটি কমিউনিটিতে হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নিধন অভিযান এগিয়ে চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকে আগামী মার্চের মধ্যে কোনো এক সময় এ অভিযান পরিচালিত হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্দিষ্ট দিন বা সময় প্রকাশ করা হবে না।
সাউথফিল্ড ও ফার্মিংটন হিলস শহর হরিণ নিধনের জন্য মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) কর্তৃক নিযুক্ত প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিকারীদের ব্যবহার করবে। নিধন অভিযান বলতে হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা কমাতে নির্দিষ্ট এলাকায় সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত শিকার কার্যক্রমকে বোঝানো হয়।
ফার্মিংটন শহরও এই উদ্যোগে অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে সিটি কাউন্সিলের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা নিজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী ফার্মিংটন হিলসের পরিষেবা গ্রহণ করবে।
সাউথফিল্ডের মেয়র কেন সিভার জানান, তার শহরে নিধন অভিযানটি এই মাসের শেষ দিকে অথবা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্যদিকে, ফার্মিংটন হিলসের ভারপ্রাপ্ত সিটি ম্যানেজার কারেন মন্ডোরা বলেন, সেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেকোনো সময় অভিযান পরিচালিত হবে।
বুধবার এক প্রস্তুত বিবৃতিতে মন্ডোরা বলেন, “নিরাপত্তা ও কার্যক্রমগত কারণে শহর কর্তৃপক্ষ দৈনিক বা রিয়েল-টাইম সময়সূচি প্রকাশ করে না। প্রশিক্ষিত পেশাদারদের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের তথ্য সীমিত রাখলে বাসিন্দা, কর্মী ও ঠিকাদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, পাশাপাশি কর্মসূচির কার্যকারিতাও বজায় থাকে।”
মেয়র সিভার সাউথফিল্ডে নিধন অভিযানের নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ জানাননি। তবে তিনি বলেন, রুজ নদীর উপত্যকা একটি সম্ভাব্য এলাকা, কারণ শীতকালে হরিণরা সেখানে আশ্রয় নেয়। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযান চলাকালে ওই এলাকাটি জনসাধারণের প্রবেশের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। শিকার করা হরিণের মাংস স্থানীয় ফুড ব্যাংকগুলোতে বিতরণ করা হবে বলেও তিনি জানান। ফার্মিংটন শহরের কর্মকর্তারা ফার্মিংটন হিলসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বিষয়ে করা এক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, তিনটি শহরই ২০২৫ সালের বসন্তে নিধন অভিযান অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেয়। কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রতিটি শহরে এ কার্যক্রম পরিচালনায় আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার ব্যয় হতে পারে। ভবিষ্যতে বার্ষিক ভিত্তিতে এ ধরনের নিধন অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফার্মিংটন হিলসে ৬–১ ভোটে নিধন অভিযান অনুমোদিত হওয়ার পর কিছু বাসিন্দা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, শহরের উচিত বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ও হরিণ-প্রতিরোধী গাছপালা রোপণের মতো অহিংস বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা। তবে শহর কর্তৃপক্ষ এবং মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস (ডিএনআর) বলছে, হরিণের অতিরিক্ত সংখ্যা প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি, আগ্রাসী উদ্ভিদের বিস্তার এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
মেয়র সিভার বলেন, “আমাদের শহরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুটি হরিণ-গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত উদ্যোগে এই সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, ফার্মিংটন হিলস ও ডেট্রয়েট থেকে হরিণ সাউথফিল্ডে চলে আসে। সিভার বলেন, “আমাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—এবং আমি একেবারেই ঠাট্টা করছি না—হরিণ পৌরসভার সীমানা মানে না। সাউথফিল্ড একা এ কাজ করলেও হরিণ প্রতিদিনের মতোই আসা-যাওয়া করবে।” তিনি আরও বলেন, “সরকার স্পষ্টতই কোনো দুর্ঘটনা চায় না, কিন্তু তারা স্বীকার করছে যে শহরাঞ্চলে হরিণ এখন একটি গুরুতর সমস্যা।”
সিভারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগান ডিএনআর তাকে জানিয়েছে, হরিণের পালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা পালের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। অন্যদিকে, কারেন মন্ডোরা জানিয়েছেন, নিধন অভিযান শেষ হলে ফার্মিংটন হিলস কর্তৃপক্ষ পুরো কার্যক্রম নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
উল্লেখ্য, ইউএসডিএ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে হরিণ নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে পিটসবার্গ ও নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউস উল্লেখযোগ্য।
Source & Photo: http://detroitnews.com