লাইভ ইন পিস মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রস্থলের যাজক মরিস “মো” হার্ডউইক শনিবার, ১০ জানুয়ারি ডেট্রয়েটের এলআইপি মুভমেন্ট অফিসে সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রচার কার্যক্রম শুরুর আগে সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে ছবির জন্য পোজ দেন/Katy Kildee, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ১৬ জানুয়ারি : শহরে বন্দুক সহিংসতা ও অপরাধ কমাতে মেয়র মেরি শেফিল্ডের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মরিস “মো” হার্ডউইকের মতো কমিউনিটি নেতাদের কার্যক্রমকে সমর্থন অব্যাহত রাখা। হার্ডউইক, যিনি “দ্য স্ট্রিট সুইপার” নামেও পরিচিত, ডেট্রয়েটের সহিংসতা প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
হার্ডউইক ও উত্তর-পশ্চিম ডেট্রয়েটে তার “বিশ্বাসযোগ্য বার্তাবাহকদের” দল নিয়মিতভাবে শহরের বিভিন্ন “হটস্পট” পর্যবেক্ষণ করে। এসব হটস্পট চিহ্নিত করা হয় সাম্প্রতিক বন্দুক সহিংসতার ঘটনাস্থল, ডেট্রয়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে—যেসব এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সংকটময় সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাদের কথা শোনা, সহায়তা করা এবং সহিংস অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা যাকে জনস্বাস্থ্যভিত্তিক একটি দ্রুত প্রতিরোধমূলক সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাইভ ইন পিস মুভমেন্ট নামের অলাভজনক সংস্থার পরিচালক হার্ডউইক বলেন, “আমরা কোনো গুলির ঘটনা ঘটার আগেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করি। আবার কোনো বিবাদ বা গুলির ঘটনার পরও যাই, যাতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা না ঘটে। আমাদের বিশ্বাসযোগ্য বার্তাবাহকদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা কমিউনিটির সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক।”
হার্ডউইক ও তার সংগঠনের এই প্রতিরোধমূলক কাজই মেয়র শেফিল্ডের কাঙ্ক্ষিত কৌশলের প্রতিফলন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্দুক সহিংসতা মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তার প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেট্রয়েটের প্রথম বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন, যা একটি ক্রমবর্ধমান জাতীয় উদ্যোগের অংশ।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে শেফিল্ড বলেন, “এটি কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিষয় নয়; এর একটি গভীর মানবিক দিকও রয়েছে।” ওই সম্মেলনে ২০২৫ সালে শহরে হত্যাকাণ্ড ও প্রাণঘাতী নয় এমন গুলির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, “এই সমস্যার সমাধান সামগ্রিকভাবে করতে হবে।”
ডেট্রয়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরে ১৬৫টি ফৌজদারি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম এবং ১৯৬৪ সালের পর সর্বনিম্ন। প্রাণঘাতী নয় এমন গুলির ঘটনা ২০২৪ সালের ৬০৭টি থেকে ২৬ শতাংশ কমে ৪৪৭টিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ৪৬ শতাংশ কমে ৭৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন সংখ্যা।
যদিও মেয়র শেফিল্ড এখনও জানাননি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যালয়টি কবে চালু হবে, কে এটি পরিচালনা করবে বা কীভাবে এটি কাজ করবে, তবে শহর কর্তৃপক্ষ বলছে—এটি সহিংসতা কমানোর একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই কৌশলের আওতায় কমিউনিটিভিত্তিক হস্তক্ষেপ, তথ্য বিনিময় এবং প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শহরের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের নীতিই ডেট্রয়েটসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও বন্দুক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা জয়েস ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০টি শহর এবং সাতটি রাজ্য বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছে।
এদিকে, ২০২৪ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্য একটি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ টাস্ক ফোর্স গঠন করে, যার লক্ষ্য হলো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং রাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্রজনিত মৃত্যু কমাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ১৬ জানুয়ারি : শহরে বন্দুক সহিংসতা ও অপরাধ কমাতে মেয়র মেরি শেফিল্ডের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মরিস “মো” হার্ডউইকের মতো কমিউনিটি নেতাদের কার্যক্রমকে সমর্থন অব্যাহত রাখা। হার্ডউইক, যিনি “দ্য স্ট্রিট সুইপার” নামেও পরিচিত, ডেট্রয়েটের সহিংসতা প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
হার্ডউইক ও উত্তর-পশ্চিম ডেট্রয়েটে তার “বিশ্বাসযোগ্য বার্তাবাহকদের” দল নিয়মিতভাবে শহরের বিভিন্ন “হটস্পট” পর্যবেক্ষণ করে। এসব হটস্পট চিহ্নিত করা হয় সাম্প্রতিক বন্দুক সহিংসতার ঘটনাস্থল, ডেট্রয়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ভিত্তিতে—যেসব এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সংকটময় সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাদের কথা শোনা, সহায়তা করা এবং সহিংস অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা যাকে জনস্বাস্থ্যভিত্তিক একটি দ্রুত প্রতিরোধমূলক সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাইভ ইন পিস মুভমেন্ট নামের অলাভজনক সংস্থার পরিচালক হার্ডউইক বলেন, “আমরা কোনো গুলির ঘটনা ঘটার আগেই সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করি। আবার কোনো বিবাদ বা গুলির ঘটনার পরও যাই, যাতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা না ঘটে। আমাদের বিশ্বাসযোগ্য বার্তাবাহকদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা কমিউনিটির সঙ্গে আস্থা তৈরি করতে সহায়ক।”
হার্ডউইক ও তার সংগঠনের এই প্রতিরোধমূলক কাজই মেয়র শেফিল্ডের কাঙ্ক্ষিত কৌশলের প্রতিফলন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্দুক সহিংসতা মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তার প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেট্রয়েটের প্রথম বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন, যা একটি ক্রমবর্ধমান জাতীয় উদ্যোগের অংশ।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে শেফিল্ড বলেন, “এটি কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিষয় নয়; এর একটি গভীর মানবিক দিকও রয়েছে।” ওই সম্মেলনে ২০২৫ সালে শহরে হত্যাকাণ্ড ও প্রাণঘাতী নয় এমন গুলির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, “এই সমস্যার সমাধান সামগ্রিকভাবে করতে হবে।”
ডেট্রয়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরে ১৬৫টি ফৌজদারি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম এবং ১৯৬৪ সালের পর সর্বনিম্ন। প্রাণঘাতী নয় এমন গুলির ঘটনা ২০২৪ সালের ৬০৭টি থেকে ২৬ শতাংশ কমে ৪৪৭টিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ৪৬ শতাংশ কমে ৭৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন সংখ্যা।
যদিও মেয়র শেফিল্ড এখনও জানাননি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কার্যালয়টি কবে চালু হবে, কে এটি পরিচালনা করবে বা কীভাবে এটি কাজ করবে, তবে শহর কর্তৃপক্ষ বলছে—এটি সহিংসতা কমানোর একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই কৌশলের আওতায় কমিউনিটিভিত্তিক হস্তক্ষেপ, তথ্য বিনিময় এবং প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
শহরের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের নীতিই ডেট্রয়েটসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হত্যাকাণ্ড ও বন্দুক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা জয়েস ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০টি শহর এবং সাতটি রাজ্য বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছে।
এদিকে, ২০২৪ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্য একটি বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ টাস্ক ফোর্স গঠন করে, যার লক্ষ্য হলো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং রাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্রজনিত মৃত্যু কমাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা।
Source & Photo: http://detroitnews.com