“কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয়”: আইসিই-এর বিরুদ্ধে ডেট্রয়েট উত্তাল

আপলোড সময় : ৩১-০১-২০২৬ ০২:২৮:৪৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-০১-২০২৬ ০২:২৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
গতকাল ডেট্রয়েটের টেলিগ্রাফের কাছে সেভেন মাইলে একটি সমাবেশে বক্তাদের কথা শুনছেন কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী/David Guralnick, Detroit News

ডেট্রয়েট, ৩১ জানুয়ারি : গতকাল শুক্রবার মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে স্কুল ও কর্মস্থল ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীরা এ কর্মসূচিকে একটি “সাধারণ ধর্মঘট” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
“কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয়, কোনো কেনাকাটা নয়”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মীরা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর কৌশলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। মিনিয়াপলিসে আইসিই কার্যক্রম ঘিরে সংঘর্ষে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদেও এ আন্দোলন সংগঠিত হয়।
মেট্রো ডেট্রয়েটজুড়ে এর প্রভাব স্পষ্ট ছিল। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হননি, আবার অনেকে আইসিই-এর কার্যকলাপের প্রতিবাদে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। বেভারলি হিলসের গ্রোভস হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা শুক্রবার সকালে ক্লাস বর্জন করেন। অপরদিকে ডেট্রয়েটের ক্যাস টেকনিক্যাল হাই স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থী শুক্রবার বিকেলে ক্লাস ছেড়ে লেডিয়ার্ড স্ট্রিট ও ক্যাস অ্যাভিনিউ ধরে মিছিল করেন।
মিছিল চলাকালে ১৭ বছর বয়সী সিনিয়র শিক্ষার্থী হেইলি হ্যালম্যান তরুণ বিক্ষোভকারীদের আইসিই-বিরোধী স্লোগানে নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলেই তিনি এই বিক্ষোভের আয়োজন করেন।
হ্যালম্যান বলেন, “আমরা এই কর্মসূচি নিয়েছি কারণ আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—আমরা তাদের চিনি বা না চিনি। তারা আমাদের বন্ধু হতে পারে, পাশের বাড়ির কোনো মানুষ হতে পারে, আক্ষরিক অর্থেই যে কেউ। এমনকি আমাদের স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও ধরে নিয়ে নির্বাসিত করা হয়েছে।”
ডেট্রয়েটে গত নভেম্বর থেকে ওয়েস্টার্ন ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুলের তিনজন বর্তমান শিক্ষার্থী ও একজন সদ্য স্নাতক শিক্ষার্থীকে আইসিই এজেন্টরা আটক করেছে। ক্যাস টেকের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অ্যালেনা এলিস-বেইলি ও ব্রিয়া স্মিথ জানান, প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এতে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন। এলিস-বেইলি বলেন, “আইসিই আমাদের সংবিধান লঙ্ঘন করছে। পরিবার বিচ্ছিন্ন করা কখনোই ঠিক নয়—এই কারণেই আজ এখানে থাকা জরুরি।”
এক বিবৃতিতে বার্মিংহাম পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট এমবেকা রবারসন বলেন, জেলা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান করে। তবে একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের নীতিমালা বজায় রাখার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সংলাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশে সহায়তা করা উচিত।
শুক্রবার দুপুর ২টার পর ডেট্রয়েটের দারু সালাম আফ্রিকান মার্কেটের পার্কিং লটে ৩০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পার্টি ফর সোশ্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন-এর সংগঠক লরেন ব্রাঞ্চ জানান, আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শহরের ৭৫টিরও বেশি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেদিন বন্ধ ছিল।
বিক্ষোভটি স্লোগান ও বক্তৃতার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পরে টেলিগ্রাফ রোডের দিকে মিছিলের মাধ্যমে অগ্রসর হয়। বিক্ষোভকারী বিল হিকি বলেন, ফেডারেল সরকার যাদের ওপর পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে, তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। তিনি বলেন, “আসল সন্ত্রাসী হলো আইসিই এজেন্টরা, যারা আমাদের কমিউনিটিতে ঢুকে মানুষকে হেনস্তা করছে। ডেট্রয়েটে আমরা এটা চাই না।”
প্রতিবন্ধী নৌবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য ইয়ান ডসল্যান্ড হুইলচেয়ারে করে বিক্ষোভে অংশ নেন। মিনিয়াপলিসের বাসিন্দা ডসল্যান্ড জানান, তার মা সেখানকার মিছিলে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “ওখানে আমার পরিবার ও বন্ধু রয়েছে। সেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেখা ভীষণ কষ্টকর। তারা যে সংযম দেখিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
আফ্রিকান ব্যুরো ফর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের সংগঠক সেয়দি সার জানান, মিনেসোটা থেকে আহ্বান আসায় তারা এই বিক্ষোভ সংগঠনে যুক্ত হন। তিনি বলেন, আইসিই-এর প্রভাব স্থানীয়ভাবেও ক্রমেই বাড়ছে।
ব্রাঞ্চ তার বক্তব্যে দাবি করেন, সম্প্রতি ডেট্রয়েটে আইসিই প্রায় ৫০ জন কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীকে আটক করেছে এবং ডেট্রয়েট পুলিশ ট্রাফিক স্টপের সময় আইসিই-কে তথ্য সরবরাহ করছে। কাউন্সিলর গ্যাব্রিয়েলা সান্তিয়াগো-রোমেরো বিষয়টি যাচাই করছেন।
তবে মিশিগান স্টেট রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান জিম রুনেস্টাড এই ‘সাধারণ ধর্মঘট’-এর কড়া বিরোধিতা করে একে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেছেন।
রুনেস্টাড বলেন, “অবৈধ অভিবাসনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমজীবী মানুষ। অবৈধ শ্রমের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে তাদের আয় কমে গেছে। ফলে এই আন্দোলন শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে না।”
তিনি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি দাবির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে—আইসিই কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশই কাগজপত্রবিহীন অভিবাসী, যারা কোনো না কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বা অভিযুক্ত।
তবে এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে ক্যাটো ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিই-এর গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ডের রেকর্ড নেই।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com