হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা?

রোমুলাসে আইসিই আটক কেন্দ্র প্রস্তাবে আপত্তি

আপলোড সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০১:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০১:৪৮:০৫ পূর্বাহ্ন
নর্থ লেক প্রসেসিং সেন্টার—যার ছবিটি ২০১৯ সালে তোলা, যখন এটি ফেডারেল অপরাধে অভিযুক্ত অ-নাগরিকদের জন্য একটি আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল—বর্তমানে মিশিগানের অন্য যেকোনো কেন্দ্রের তুলনায় সবচেয়ে বেশি আইসিই বন্দী ধারণ করছে।

রোমুলাস, ৫ ফেব্রুয়ারি : হোয়াইট হাউস রোমুলাসে ফেডারেল অভিবাসন অপরাধীদের জন্য একটি আটক কেন্দ্র স্থাপনের কথা বিবেচনা করছে—এমন খবর সামনে আসতেই প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন স্থানীয় ও রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচিত কর্মকর্তারা।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর ব্যবহারের জন্য ২৩টি গুদাম কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রোমুলাসে একটি ৫০০ শয্যার আটক কেন্দ্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্য সিনেটর ড্যারিন ক্যামিলেরি, যার চতুর্থ জেলার অন্তর্ভুক্ত রোমুলাস, মঙ্গলবার বলেন, “এই মুহূর্তে রোমুলাসে কোনো স্থাপনা আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বা সে উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।” তবে তিনি জানান, সম্ভাব্য এই প্রস্তাব নিয়ে তিনি শহরের পৌর নেতাসহ অন্যান্য নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখবেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ক্যামিলেরি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—রোমুলাস ও আশপাশের সম্প্রদায়গুলো চায় না যে আমাদের প্রতিবেশীদের বেআইনিভাবে আটক ও বন্দি করে রাখা হোক, তা আমার জেলাতেই হোক বা অন্য কোথাও। এটি বন্ধ করতে আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে আমরা লড়াই করব। এই সংস্থার অমানবিক ও অপরাধমূলক আচরণকে অভিবাসীদের ওপর সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়—আমাদের সম্প্রদায়ে তো নয়ই।”
ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে অভিবাসন আইন প্রয়োগকে বেছে নিয়েছেন। সিবিএস নিউজের জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আইসিই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৩ হাজার মানুষকে আটক করে রেখেছে। এটি সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। হোয়াইট হাউস ১ লাখ পর্যন্ত বন্দী রাখার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
এই কঠোর পদক্ষেপের জেরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে মিনেসোটায়। সেখানে বিক্ষোভ চলাকালে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনভিত্তিক রাজনৈতিক জরিপ সংস্থা সিগনালের এক গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে—বেশিরভাগ আমেরিকান এই বর্ধিত আইন প্রয়োগকে সমর্থন করেন।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আটক স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সাতটি বড় কেন্দ্র—প্রতিটিতে ৭,৫০০ বা তার বেশি শয্যা; ১১টি মাঝারি কেন্দ্র—প্রতিটিতে ১,৫০০ শয্যা; এবং পাঁচটি ছোট কেন্দ্র—প্রতিটিতে ৫০০ শয্যা, যার একটি রোমুলাসে প্রস্তাবিত।
তবে রোমুলাসে সম্ভাব্য স্থাপনাটি ঠিক কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। মেয়র রবার্ট ম্যাকক্রেইটসহ নগর কর্মকর্তাদের কাছে দ্য ডেট্রয়েট নিউজের পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ডেট্রয়েটের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান শ্রী থানেদার বলেন, তিনি “আইসিই-এর আটক কেন্দ্রের যেকোনো সম্প্রসারণ ঠেকাতে স্থানীয় কর্মকর্তা ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছেন।”
এক বিবৃতিতে থানেদার বলেন, “আইসিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, এবং তারা আমাদের সম্প্রদায়ের যে ক্ষতি করছে, সে বিষয়ে আমি প্রথম দিন থেকেই সোচ্চার। ওভারসাইট, ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি আমাদের পাড়া-মহল্লায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত আটক কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হোমল্যান্ড ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছি।” তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই রোমুলাস অবস্থিত।
মিশিগানে ইতোমধ্যে আগস্টে চালু হওয়া বল্ডউইনের ব্যক্তিমালিকানাধীন ও পরিচালিত নর্থ লেক প্রসেসিং সেন্টারে সর্বোচ্চ ১,৮০০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে আটক রাখা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে আইসিই-এর সম্ভাব্য আটক কেন্দ্রের স্থান হিসেবে মেট্রো ডেট্রয়েটের দ্বিতীয় সম্প্রদায় হিসেবে রোমুলাসের নাম উঠে এসেছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট হাইল্যান্ড পার্ক শহরে একটি সম্ভাব্য আটক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়।
তবে ওই শহরের কর্মকর্তারা জানান, তারা এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। হাইল্যান্ড পার্কের মেয়র গ্লেন্ডা ম্যাকডোনাল্ড বলেন, শহরে একটি আটক কেন্দ্র স্থাপনের মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই এবং সিটি হল এই ধারণায় “একেবারেই আগ্রহী নয়”।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com