আজ শুক্রবার ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের টেম্পল ইসরায়েলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার বক্তব্য রাখছেন; পাশে বাম দিকে সিনেটর এলিসা স্লটকিন তা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন/Kara Berg, The Detroit News
ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ, ১৩ মার্চ : ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) এক ব্যক্তি ট্রাক নিয়ে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগানবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্য ও দেশজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্য কমিয়ে আনতে।
শুক্রবার সকালে ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “গতকালকের হামলাটি ছিল ইহুদিবিদ্বেষ। এটি ছিল নিখাদ ঘৃণা—একদম সরল ভাষায় বললে তাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্রাচীন ও ক্রমবর্ধমান অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। এই লড়াইয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হব। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন আমরা দেশে ইহুদিবিদ্বেষের উদ্বেগজনক উত্থান দেখছি, তখন উস্কানিমূলক কথাবার্তা কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।”
হুইটমার জানান, 'টেম্পল ইসরায়েল' মূলত একটি উপাসনালয় হলেও হামলার সময় এটি একটি স্কুল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। টেম্পল ইসরায়েলের ওই স্কুলে প্রায় ১৪০ জন শিশু পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি এই ঘটনাটি 'স্যান্ডি হুক' ট্র্যাজেডির মতোই ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে যাওয়া উচিত নয়।” তার ভাষায়, “এখানে ইহুদি ধর্মাবলম্বী শিশুদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইহুদিবিদ্বেষের নিকৃষ্টতম রূপই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।”
পুলিশের তথ্যমতে, ডিয়ারবর্ন হাইটসের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী আইমান গাজালি বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ট্রাক নিয়ে সিনাগগে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরে নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে জন্ম নেওয়া গাজালি এক দশকেরও বেশি সময় আগে—বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়—যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। DHS জানায়, ২০১১ সালের ১০ মে তিনি একজন মার্কিন নাগরিকের স্বামী হিসেবে অভিবাসী ভিসায় ডেট্রয়েট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন এবং ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কেবল সেই নিরাপত্তা রক্ষীই আহত হয়েছেন, যিনি গাজালিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্কুলের সব শিশু ও শিক্ষক নিরাপদ রয়েছেন।
এফবিআই (FBI) জানিয়েছে, জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি “সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক” সহিংস হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের কাছ থেকে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর হুইটমার টেম্পল ইসরায়েলের রাব্বি আরিয়ানা গর্ডন, মার্কিন সিনেটর এলিসা স্লটকিন এবং ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের সুপারভাইজার জোনাথন ওয়ারশের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তদন্ত সংক্রান্ত নতুন তথ্য সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
হুইটমার বলেন, “এই সম্প্রদায়ের মানুষ এখন স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। গত এক দশকে আমরা হামলার ঘটনা বাড়তে দেখেছি, আর গত ১০ মাসে সেই প্রবণতা আরও প্রকট হয়েছে। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানেই আমরা ইহুদি-বিদ্বেষী আচরণ বা হুমকির ইঙ্গিত দেখব, সেখানেই আমাদের দৃঢ়ভাবে তার প্রতিবাদ জানাতে হবে।”
সিনেটর স্লটকিন—যিনি নিজেও একজন ইহুদি জানান, তার বেড়ে ওঠার সময়ের অনেকটা সময় কেটেছে টেম্পল ইসরায়েলের প্রাঙ্গণে। তিনি বলেন, ইহুদি-বিদ্বেষের যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সবার দায়িত্ব।
স্লটকিন বলেন, “টেম্পল ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মীরা যদি দায়িত্বটি এত নিখুঁতভাবে পালন না করতেন, তাহলে আজ আমাদের হয়তো এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কথা বলতে হতো—যেখানে নিরপরাধ শিশুরাও প্রাণ হারাতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, “ইহুদি-বিদ্বেষ বামপন্থী হোক বা ডানপন্থী যেখান থেকেই আসুক না কেন, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, যখন আমরা এর প্রতিবাদ করি না, তখন তা ঘৃণা ও উস্কানির সেই ক্রমবর্ধমান সিঁড়িকে আরও উঁচুতে উঠতে সাহায্য করে। সেই সিঁড়ি শুরু হয় অনলাইনে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে, এরপর ব্যক্তিগত কটূক্তি, দেয়াললিখন বা গ্রাফিতি, এবং শেষ পর্যন্ত চরম সহিংসতায় গড়ায়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ, ১৩ মার্চ : ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) এক ব্যক্তি ট্রাক নিয়ে ঢুকে গুলি চালানোর ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগানবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্য ও দেশজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষী উস্কানিমূলক বক্তব্য কমিয়ে আনতে।
শুক্রবার সকালে ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “গতকালকের হামলাটি ছিল ইহুদিবিদ্বেষ। এটি ছিল নিখাদ ঘৃণা—একদম সরল ভাষায় বললে তাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্রাচীন ও ক্রমবর্ধমান অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। এই লড়াইয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হব। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন আমরা দেশে ইহুদিবিদ্বেষের উদ্বেগজনক উত্থান দেখছি, তখন উস্কানিমূলক কথাবার্তা কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।”
হুইটমার জানান, 'টেম্পল ইসরায়েল' মূলত একটি উপাসনালয় হলেও হামলার সময় এটি একটি স্কুল হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। টেম্পল ইসরায়েলের ওই স্কুলে প্রায় ১৪০ জন শিশু পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি এই ঘটনাটি 'স্যান্ডি হুক' ট্র্যাজেডির মতোই ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে যাওয়া উচিত নয়।” তার ভাষায়, “এখানে ইহুদি ধর্মাবলম্বী শিশুদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ইহুদিবিদ্বেষের নিকৃষ্টতম রূপই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে।”
পুলিশের তথ্যমতে, ডিয়ারবর্ন হাইটসের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী আইমান গাজালি বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ট্রাক নিয়ে সিনাগগে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরে নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে জন্ম নেওয়া গাজালি এক দশকেরও বেশি সময় আগে—বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়—যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। DHS জানায়, ২০১১ সালের ১০ মে তিনি একজন মার্কিন নাগরিকের স্বামী হিসেবে অভিবাসী ভিসায় ডেট্রয়েট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন এবং ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কেবল সেই নিরাপত্তা রক্ষীই আহত হয়েছেন, যিনি গাজালিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্কুলের সব শিশু ও শিক্ষক নিরাপদ রয়েছেন।
এফবিআই (FBI) জানিয়েছে, জানিয়েছে, ঘটনাটিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি “সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক” সহিংস হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের কাছ থেকে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর হুইটমার টেম্পল ইসরায়েলের রাব্বি আরিয়ানা গর্ডন, মার্কিন সিনেটর এলিসা স্লটকিন এবং ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের সুপারভাইজার জোনাথন ওয়ারশের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তদন্ত সংক্রান্ত নতুন তথ্য সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
হুইটমার বলেন, “এই সম্প্রদায়ের মানুষ এখন স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন। গত এক দশকে আমরা হামলার ঘটনা বাড়তে দেখেছি, আর গত ১০ মাসে সেই প্রবণতা আরও প্রকট হয়েছে। তাই এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানেই আমরা ইহুদি-বিদ্বেষী আচরণ বা হুমকির ইঙ্গিত দেখব, সেখানেই আমাদের দৃঢ়ভাবে তার প্রতিবাদ জানাতে হবে।”
সিনেটর স্লটকিন—যিনি নিজেও একজন ইহুদি জানান, তার বেড়ে ওঠার সময়ের অনেকটা সময় কেটেছে টেম্পল ইসরায়েলের প্রাঙ্গণে। তিনি বলেন, ইহুদি-বিদ্বেষের যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সবার দায়িত্ব।
স্লটকিন বলেন, “টেম্পল ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মীরা যদি দায়িত্বটি এত নিখুঁতভাবে পালন না করতেন, তাহলে আজ আমাদের হয়তো এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির কথা বলতে হতো—যেখানে নিরপরাধ শিশুরাও প্রাণ হারাতে পারত।”
তিনি আরও বলেন, “ইহুদি-বিদ্বেষ বামপন্থী হোক বা ডানপন্থী যেখান থেকেই আসুক না কেন, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। কারণ, যখন আমরা এর প্রতিবাদ করি না, তখন তা ঘৃণা ও উস্কানির সেই ক্রমবর্ধমান সিঁড়িকে আরও উঁচুতে উঠতে সাহায্য করে। সেই সিঁড়ি শুরু হয় অনলাইনে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে, এরপর ব্যক্তিগত কটূক্তি, দেয়াললিখন বা গ্রাফিতি, এবং শেষ পর্যন্ত চরম সহিংসতায় গড়ায়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com