মিশিগানে হামের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা

আপলোড সময় : ২০-০৩-২০২৬ ০৩:১৩:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৩-২০২৬ ০৩:১৩:০০ পূর্বাহ্ন
ওয়াশটেনাও কাউন্টি, ২০ মার্চ: মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগ (MDHHS) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ওয়াশটেনাও কাউন্টিতে হামের প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হয়েছে।
MDHHS এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব বলতে তিনটি বা তার বেশি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ঘটনার সিরিজ বোঝায়। ১২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত কাউন্টিতে এমন তিনটি সম্পর্কিত ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং টিকা-প্রতিরোধযোগ্য; এটি সরাসরি মানুষে-মানুষে সংস্পর্শ বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে মিশিগানে নতুন কোনো জনসমক্ষে সংক্রমণের (public exposure) খবর পাওয়া যায়নি।
MDHHS জানিয়েছে, মিশিগানের প্রথম হামের ঘটনা ফ্লোরিডা ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এ প্রাদুর্ভাব প্রমাণ করে, যেসব মানুষের শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাদের মধ্যে হাম কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডিপার্টমেন্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছে—পরিবারগুলো যেন তাদের সব টিকার ডোজ হালনাগাদ রাখে, বিশেষ করে ভ্রমণের আগে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ৩১টি অঙ্গরাজ্য জুড়ে ১,৩৫০টিরও বেশি হামের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
মিশিগানের প্রধান চিকিৎসা নির্বাহী ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "হামের ঘটনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বসন্তকালীন ছুটিতে পরিবারগুলো ভ্রমণে বের হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক; এটি সহজেই আমাদের সাথে করে বাড়ি ফিরে আসতে পারে এবং স্কুল ও সমাজের অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা এখনও "আমাদের সুরক্ষার সেরা উপায়", যা দুটি ডোজে ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা প্রদান করে।
MDHHS জানিয়েছে, গত এক বছর ধরে মিশিগানে টিকা গ্রহণের হার কমেছে। ফলে শিশু ও তরুণরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছে। হাম গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি, মস্তিষ্কে প্রদাহ, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
ওয়াশটেনাও কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা পরিচালক ডা. হুয়ান লুইস মার্কেজ বলেন, "আমরা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। টিকাকরণ সম্পূর্ণ থাকলে আমাদের মূল্যবান সময় ও সম্পদের সাশ্রয় হয়। এর ফলে আমরা সেসব মানুষের দিকে মনোযোগ দিতে পারি, যাদের বয়স খুব ছোট, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, অথবা গর্ভবতী।"
হামের লক্ষণ সাধারণত সংস্পর্শের ৭–১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে লক্ষণ প্রকাশের আগেই রোগটি অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: তীব্র জ্বর (১০৪°F বা তার বেশি), কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া; গালের ভেতরের অংশ, মাড়ি এবং তালুতে ছোট সাদা দাগ; শরীরে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ। ফুসকুড়িগুলো প্রথমে মুখ ও চুলের গোড়ায় দেখা দেয়, ৩–৫ দিন পর তা ধড়, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
MDHHS জনসাধারণকে জোর আহ্বান জানাচ্ছে, যারা মনে করছেন তারা হামের সংস্পর্শে এসেছেন বা লক্ষণ দেখেছেন, তারা পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করুন। এতে অন্যান্যদের সংক্রমণ রোধে সহায়তা পাওয়া যায়।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com