২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর, ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অফ ক্যানভাসার্সের সভায় মুহিত মাহমুদ ও অ্যাডাম আলহারবি//Photo : Daniel Mears, The Detroit News
হ্যামট্রাম্যাক, ২৮ মার্চ : মিশিগান আপিল আদালত রায় দিয়েছে যে, গত নভেম্বরে হ্যামট্র্যাম্যাকের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মেয়র নির্বাচনের সময় গণনা-বঞ্চিত হয়ে পড়ে থাকা ৩৭টি অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালটগণনা করা উচিত ছিল। এ রায়ের ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালনের পরই শহরটির বর্তমান মেয়রকে পদ ছাড়তে হতে পারে।
শুক্রবার ২-১ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল হ্যামট্র্যাম্যাক সিটি কাউন্সিলের সাবেক সদস্য মুহিত মাহমুদের দায়ের করা মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। এর ফলে মেয়র অ্যাডাম আলহারবির ১১ ভোটের ব্যবধানে পাওয়া জয় এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে পারে।
মাহমুদের আইনজীবী, গুডম্যান অ্যাকার ল ফার্মের অ্যাটর্নি এবং মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান মার্ক ব্রুয়ার বলেন, “এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুচিন্তিত যুক্তিনির্ভর একটি রায়। আমার বিশ্বাস, এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও রায়টি বহাল থাকবে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোট গণনার মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন, আর আদালত সেই অধিকারকেই নিশ্চিত করেছে।”
গত নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর ১ জানুয়ারি মেয়র আলহারবি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এর পরদিনই হ্যামট্র্যাম্যাক সিটি ক্লার্কের দপ্তরে গণনা না হওয়া ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অফ ক্যানভাসার্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে মেয়র আলহারবি জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটগুলো গণনা বন্ধ রাখতে সার্কিট কোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাউন্টি বোর্ড অফ ক্যানভাসার্স হয়তো ব্যালটগুলো গণনা করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে; কারণ অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যালটে আলহারবির নাম কেটে তার স্থলে মাহমুদের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুক্রবার আলহারবি বলেন, “যদি এটি একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো এবং আমি নিশ্চিত জানতাম যে ওই ব্যালটগুলো গণনার যোগ্য, তবে আমি মোটেও চিন্তিত হতাম না।” তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, ব্যালটগুলো কৌশলে বা গোপনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা জানি না, এগুলো আসলে কোথা থেকে এসেছে।”
সাবেক সিটি ক্লার্ক রানা ফারাজ ব্যালটগুলো খুঁজে পাওয়ার পর সেগুলোর খাম তাঁর দপ্তরের একটি সিলগালা করা পাত্রে সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, ব্যালটগুলো সেখানে সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর দপ্তরে প্রবেশ করেছিলেন।
নভেম্বরের শেষ দিকে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স ব্যালটগুলো গণনা করা হবে কি না—এ বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়ে অচলাবস্থার মুখে পড়ে। ফলে ব্যালটগুলো অগণিত অবস্থাতেই থেকে যায়। মূলত ফারাজের সাক্ষ্যের পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে তিনি জানান যে ব্যালটগুলোর অখণ্ডতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
এরপর মুহিত মাহমুদ ৩৭টি ব্যালট গণনার দাবিতে মামলা দায়ের করেন। ডিসেম্বরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক প্যাট্রিসিয়া ফ্রেসার্ড রায় দেন যে, ব্যালটগুলো গণনা না করার ক্ষেত্রে বোর্ড তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ করেছে।
পরবর্তীতে মাহমুদের আইনজীবী মার্ক ব্রুয়ার জরুরি আপিলের সরাসরি পর্যালোচনার জন্য মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। যদিও রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আপিল আদালতকে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়।
আপিল আদালতের বিচারক প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা রায়ে বলেন, নির্বাচন যাচাইকারী বোর্ডের উচিত ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ফারাজের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া। আদালত মিশিগানের নির্বাচনী আইনের একটি ধারা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তার কোনো ভুলের কারণে ব্যালট বাতিল করা যাবে না—যদি না অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কারণে সেগুলো অযোগ্য প্রমাণিত হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের রায়ে মিশিগান সংবিধানে সম্প্রতি সংযোজিত একটি অনুচ্ছেদেরও উল্লেখ করা হয়। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো উপায় বা পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন না যার উদ্দেশ্য বা ফলাফল হবে ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করা, খর্ব করা, তাতে হস্তক্ষেপ করা বা অযৌক্তিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা।
বিচারক স্টিফেন বোরেলো (গভর্নর জেনিফার গ্রানহোমের নিয়োগপ্রাপ্ত) এবং বিচারক র্যান্ডি ওয়ালেস (গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারের নিয়োগপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত রায়ে বলা হয়, ২০২২ সালের আগের বিভিন্ন মামলার নজিরে মিশিগানের উচ্চতর আদালতগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। তবে বর্তমানে ১৯৬৩ সালের মিশিগান সংবিধানের ২য় অনুচ্ছেদে এই অধিকারটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আদালতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মাহমুদের আইনজীবী মার্ক ব্রুয়ার বলেন, আদালত মূলত রাজ্যের নির্বাচনী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাকে নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে।
তবে বিচারক কলিন ও’ব্রায়েন এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ভিন্নমত প্রদান করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অগণিত ব্যালটগুলোর প্রধান সমস্যা শুধু অরক্ষিত স্থানে রাখা নয়; বরং সাবেক সিটি ক্লার্কের সেই স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি ব্যালটগুলোর অখণ্ডতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি, কারণ নির্বাচনের দায়িত্বে নেই এমন কয়েকজন অননুমোদিত ব্যক্তি সেগুলোর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ও’ব্রায়েন লিখেছেন, অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এবং শহর ক্লার্ক যথাযথভাবে ব্যালট সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় মিশিগান নির্বাচন আইন অনুযায়ী ব্যালটগুলো গণনা না করার একটি যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হ্যামট্র্যাম্যাকের মতো পরিস্থিতিতে কোনো ক্যানভাসিং বোর্ড চাইলে ব্যালট গণনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে; তবে “স্পষ্ট গাণিতিক ত্রুটি সংশোধন” ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের বিবেচনামূলক এখতিয়ারের ওপর নির্ভরশীল।
Source & Photo: http://detroitnews.com
হ্যামট্রাম্যাক, ২৮ মার্চ : মিশিগান আপিল আদালত রায় দিয়েছে যে, গত নভেম্বরে হ্যামট্র্যাম্যাকের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মেয়র নির্বাচনের সময় গণনা-বঞ্চিত হয়ে পড়ে থাকা ৩৭টি অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালটগণনা করা উচিত ছিল। এ রায়ের ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালনের পরই শহরটির বর্তমান মেয়রকে পদ ছাড়তে হতে পারে।
শুক্রবার ২-১ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক রায়ে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল হ্যামট্র্যাম্যাক সিটি কাউন্সিলের সাবেক সদস্য মুহিত মাহমুদের দায়ের করা মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। এর ফলে মেয়র অ্যাডাম আলহারবির ১১ ভোটের ব্যবধানে পাওয়া জয় এখন নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে পারে।
মাহমুদের আইনজীবী, গুডম্যান অ্যাকার ল ফার্মের অ্যাটর্নি এবং মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান মার্ক ব্রুয়ার বলেন, “এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুচিন্তিত যুক্তিনির্ভর একটি রায়। আমার বিশ্বাস, এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও রায়টি বহাল থাকবে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোট গণনার মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন, আর আদালত সেই অধিকারকেই নিশ্চিত করেছে।”
গত নভেম্বরের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর ১ জানুয়ারি মেয়র আলহারবি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এর পরদিনই হ্যামট্র্যাম্যাক সিটি ক্লার্কের দপ্তরে গণনা না হওয়া ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অফ ক্যানভাসার্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে মেয়র আলহারবি জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটগুলো গণনা বন্ধ রাখতে সার্কিট কোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাউন্টি বোর্ড অফ ক্যানভাসার্স হয়তো ব্যালটগুলো গণনা করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে; কারণ অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যালটে আলহারবির নাম কেটে তার স্থলে মাহমুদের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুক্রবার আলহারবি বলেন, “যদি এটি একটি সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো এবং আমি নিশ্চিত জানতাম যে ওই ব্যালটগুলো গণনার যোগ্য, তবে আমি মোটেও চিন্তিত হতাম না।” তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, ব্যালটগুলো কৌশলে বা গোপনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা জানি না, এগুলো আসলে কোথা থেকে এসেছে।”
সাবেক সিটি ক্লার্ক রানা ফারাজ ব্যালটগুলো খুঁজে পাওয়ার পর সেগুলোর খাম তাঁর দপ্তরের একটি সিলগালা করা পাত্রে সংরক্ষণ করেছিলেন। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, ব্যালটগুলো সেখানে সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর দপ্তরে প্রবেশ করেছিলেন।
নভেম্বরের শেষ দিকে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স ব্যালটগুলো গণনা করা হবে কি না—এ বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়ে অচলাবস্থার মুখে পড়ে। ফলে ব্যালটগুলো অগণিত অবস্থাতেই থেকে যায়। মূলত ফারাজের সাক্ষ্যের পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে তিনি জানান যে ব্যালটগুলোর অখণ্ডতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
এরপর মুহিত মাহমুদ ৩৭টি ব্যালট গণনার দাবিতে মামলা দায়ের করেন। ডিসেম্বরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক প্যাট্রিসিয়া ফ্রেসার্ড রায় দেন যে, ব্যালটগুলো গণনা না করার ক্ষেত্রে বোর্ড তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ করেছে।
পরবর্তীতে মাহমুদের আইনজীবী মার্ক ব্রুয়ার জরুরি আপিলের সরাসরি পর্যালোচনার জন্য মিশিগান সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। যদিও রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আপিল আদালতকে দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়।
আপিল আদালতের বিচারক প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা রায়ে বলেন, নির্বাচন যাচাইকারী বোর্ডের উচিত ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু ফারাজের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া। আদালত মিশিগানের নির্বাচনী আইনের একটি ধারা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তার কোনো ভুলের কারণে ব্যালট বাতিল করা যাবে না—যদি না অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি কারণে সেগুলো অযোগ্য প্রমাণিত হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের রায়ে মিশিগান সংবিধানে সম্প্রতি সংযোজিত একটি অনুচ্ছেদেরও উল্লেখ করা হয়। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো উপায় বা পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন না যার উদ্দেশ্য বা ফলাফল হবে ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করা, খর্ব করা, তাতে হস্তক্ষেপ করা বা অযৌক্তিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা।
বিচারক স্টিফেন বোরেলো (গভর্নর জেনিফার গ্রানহোমের নিয়োগপ্রাপ্ত) এবং বিচারক র্যান্ডি ওয়ালেস (গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারের নিয়োগপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত রায়ে বলা হয়, ২০২২ সালের আগের বিভিন্ন মামলার নজিরে মিশিগানের উচ্চতর আদালতগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। তবে বর্তমানে ১৯৬৩ সালের মিশিগান সংবিধানের ২য় অনুচ্ছেদে এই অধিকারটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আদালতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মাহমুদের আইনজীবী মার্ক ব্রুয়ার বলেন, আদালত মূলত রাজ্যের নির্বাচনী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাকে নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে।
তবে বিচারক কলিন ও’ব্রায়েন এ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ভিন্নমত প্রদান করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অগণিত ব্যালটগুলোর প্রধান সমস্যা শুধু অরক্ষিত স্থানে রাখা নয়; বরং সাবেক সিটি ক্লার্কের সেই স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি ব্যালটগুলোর অখণ্ডতা বা নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি, কারণ নির্বাচনের দায়িত্বে নেই এমন কয়েকজন অননুমোদিত ব্যক্তি সেগুলোর সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ও’ব্রায়েন লিখেছেন, অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এবং শহর ক্লার্ক যথাযথভাবে ব্যালট সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় মিশিগান নির্বাচন আইন অনুযায়ী ব্যালটগুলো গণনা না করার একটি যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হ্যামট্র্যাম্যাকের মতো পরিস্থিতিতে কোনো ক্যানভাসিং বোর্ড চাইলে ব্যালট গণনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে; তবে “স্পষ্ট গাণিতিক ত্রুটি সংশোধন” ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের বিবেচনামূলক এখতিয়ারের ওপর নির্ভরশীল।
Source & Photo: http://detroitnews.com