সোমবার, ৬ এপ্রিল ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড (মাঝে) ও DPSCD সুপারিনটেনডেন্ট ড. নিকোলাই ভিটি (বাঁয়ে) ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা সংবাদ সম্মেলনের পর পারশিং হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে পোজ দিচ্ছেন; কর্মসূচির আওতায় K-12 পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবে/ Jose Juarez, Special To Detroit News
ডেট্রয়েট, ৭ এপ্রি ল: এই সপ্তাহ থেকেই ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীরা শহরের বাসগুলোতে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার কমানো এবং তাদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি ও সেবার সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে, মেয়র মেরি শেফিল্ড সোমবার শহরের নতুন পাইলট কর্মসূচি ‘রাইড টু রাইজ’ উদ্বোধন করেন।
শহরের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী—সরকারি, বেসরকারি এবং চার্টার স্কুলের—K-12 পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থী তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে আগামী ছয় মাস বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবে।
মেয়র শেফিল্ড বলেন, "ডেট্রয়েটের তরুণরা এমন একটি শহরের দাবিদার, যা প্রতিটি তরুণকে অগ্রাধিকার দেয় এবং তাদের বেড়ে ওঠা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করে।"
শেফিল্ডের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ বাসিন্দার নিজস্ব গাড়ি নেই। যারা শিক্ষাবর্ষের মোট সময়ের ১০ শতাংশ বা তার বেশি সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তারা পড়াশোনায় সহপাঠীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ে।
ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি জানান, ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের গণপরিবহন সংক্রান্ত আর্থিক বোঝা কমানো। উল্লেখ্য, এই ডিস্ট্রিক্ট প্রতি বছর স্কুলের মাধ্যমে বাস পাস গ্রহণকারী ৪,০০০-এরও বেশি হাই স্কুল শিক্ষার্থীর যাতায়াতে প্রায় ৭,০০,০০০ ডলার ব্যয় করে। ভিটি বলেন, এটি “কয়েক দশক ধরে” চলমান উদ্যোগ।
সোমবার ফারওয়েল রিক্রিয়েশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পারশিং হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১৭ বছর বয়সী ম্যাক স্কোনি বলেন, "আমি এই উদ্যোগকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানাই এবং এটিকে কোনোভাবেই সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখছি না। আমরা বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই স্কুলে কীভাবে পৌঁছাবে—তা নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে না; আবার অনেককে বাসের ভাড়ার সংস্থান করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। এই কর্মসূচি সেই সমস্যা দূর করবে।"
ডেট্রয়েট ট্রানজিট ডিরেক্টর রবার্ট ক্র্যামার জানিয়েছেন, ছয় মাসব্যাপী এই পাইলট প্রোগ্রামে শহরের সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ ডলার ব্যয় হতে পারে। তিনি বলেন, "এই অর্থ স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম ও পরিবহন সংক্রান্ত খরচে ব্যবহার করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই উপকারে আসবে।"
ক্রেমার জানান, এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি (পাইলট প্রোগ্রাম) এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে, ডেট্রয়েট কর্মকর্তারা জনশুনানির আয়োজন করবেন এবং খতিয়ে দেখবেন যে এটি শহরের আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রচেষ্টাগুলো থেকে সংগৃহীত তথ্য পরবর্তীতে নগর পরিষদের (সিটি কাউন্সিল) সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে, তা অবশ্যই পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে।
মেয়র মেরি শেফিল্ড উল্লেখ করেন, কর্মসূচি চালু করার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই উদ্বেগ নিরসনের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা সহায়তাকারী নিয়োগের বিষয়ে ক্রেমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া বহন করা হবে; যেসব অভিভাবক স্কুলে পৌঁছে দিতে সঙ্গ দিতে চান, তাদের ভাড়া এই কর্মসূচি বহন করবে না। শেফিল্ড বলেন, "আমরা এমন উপায়ও খুঁজছি যার মাধ্যমে বাসের রুট বা চলাচলের পথগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।"
ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি জানান, এই কর্মসূচি রাজ্যের বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ৪৮,০০০ শিক্ষার্থীকে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত রাখার লক্ষ্যে আরও সাহায্য করবে। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা জানায় যে, যাতায়াত বা পরিবহন ব্যবস্থা অনেক সময় তাদের স্কুলে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা আশাবাদী যে এই বিনিয়োগের ফলে পরিবহন আরও সহজলভ্য হবে এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়বে।" তিনি বলেন, যা শেষ পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী বা নিয়মিত অনুপস্থিতির হার কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে ।
ক্রেমার আরও বলেন, "এটি সমন্বয় ও সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়—যা কেবল DPSCD-এর সাথে নয়, শহরের বিভিন্ন স্কুলের সাথেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাসের রুট, বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা।"
Source & Photo: http://detroitnews.com
ডেট্রয়েট, ৭ এপ্রি ল: এই সপ্তাহ থেকেই ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীরা শহরের বাসগুলোতে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার কমানো এবং তাদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি ও সেবার সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে, মেয়র মেরি শেফিল্ড সোমবার শহরের নতুন পাইলট কর্মসূচি ‘রাইড টু রাইজ’ উদ্বোধন করেন।
শহরের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী—সরকারি, বেসরকারি এবং চার্টার স্কুলের—K-12 পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থী তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে আগামী ছয় মাস বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবে।
মেয়র শেফিল্ড বলেন, "ডেট্রয়েটের তরুণরা এমন একটি শহরের দাবিদার, যা প্রতিটি তরুণকে অগ্রাধিকার দেয় এবং তাদের বেড়ে ওঠা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করে।"
শেফিল্ডের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ বাসিন্দার নিজস্ব গাড়ি নেই। যারা শিক্ষাবর্ষের মোট সময়ের ১০ শতাংশ বা তার বেশি সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তারা পড়াশোনায় সহপাঠীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ে।
ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি জানান, ‘রাইড টু রাইজ’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের গণপরিবহন সংক্রান্ত আর্থিক বোঝা কমানো। উল্লেখ্য, এই ডিস্ট্রিক্ট প্রতি বছর স্কুলের মাধ্যমে বাস পাস গ্রহণকারী ৪,০০০-এরও বেশি হাই স্কুল শিক্ষার্থীর যাতায়াতে প্রায় ৭,০০,০০০ ডলার ব্যয় করে। ভিটি বলেন, এটি “কয়েক দশক ধরে” চলমান উদ্যোগ।
সোমবার ফারওয়েল রিক্রিয়েশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পারশিং হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১৭ বছর বয়সী ম্যাক স্কোনি বলেন, "আমি এই উদ্যোগকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানাই এবং এটিকে কোনোভাবেই সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখছি না। আমরা বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই স্কুলে কীভাবে পৌঁছাবে—তা নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে না; আবার অনেককে বাসের ভাড়ার সংস্থান করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। এই কর্মসূচি সেই সমস্যা দূর করবে।"
ডেট্রয়েট ট্রানজিট ডিরেক্টর রবার্ট ক্র্যামার জানিয়েছেন, ছয় মাসব্যাপী এই পাইলট প্রোগ্রামে শহরের সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ ডলার ব্যয় হতে পারে। তিনি বলেন, "এই অর্থ স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম ও পরিবহন সংক্রান্ত খরচে ব্যবহার করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই উপকারে আসবে।"
ক্রেমার জানান, এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি (পাইলট প্রোগ্রাম) এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে, ডেট্রয়েট কর্মকর্তারা জনশুনানির আয়োজন করবেন এবং খতিয়ে দেখবেন যে এটি শহরের আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রচেষ্টাগুলো থেকে সংগৃহীত তথ্য পরবর্তীতে নগর পরিষদের (সিটি কাউন্সিল) সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে, তা অবশ্যই পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে।
মেয়র মেরি শেফিল্ড উল্লেখ করেন, কর্মসূচি চালু করার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই উদ্বেগ নিরসনের জন্য নির্দিষ্ট রুটে ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা সহায়তাকারী নিয়োগের বিষয়ে ক্রেমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া বহন করা হবে; যেসব অভিভাবক স্কুলে পৌঁছে দিতে সঙ্গ দিতে চান, তাদের ভাড়া এই কর্মসূচি বহন করবে না। শেফিল্ড বলেন, "আমরা এমন উপায়ও খুঁজছি যার মাধ্যমে বাসের রুট বা চলাচলের পথগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।"
ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি জানান, এই কর্মসূচি রাজ্যের বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্টে প্রায় ৪৮,০০০ শিক্ষার্থীকে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত রাখার লক্ষ্যে আরও সাহায্য করবে। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা জানায় যে, যাতায়াত বা পরিবহন ব্যবস্থা অনেক সময় তাদের স্কুলে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা আশাবাদী যে এই বিনিয়োগের ফলে পরিবহন আরও সহজলভ্য হবে এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়বে।" তিনি বলেন, যা শেষ পর্যন্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী বা নিয়মিত অনুপস্থিতির হার কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে ।
ক্রেমার আরও বলেন, "এটি সমন্বয় ও সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়—যা কেবল DPSCD-এর সাথে নয়, শহরের বিভিন্ন স্কুলের সাথেও গড়ে তোলা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাসের রুট, বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা।"
Source & Photo: http://detroitnews.com