বাম দিক থেকে অ্যাটমিক ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বিভাগের প্রধান লু ইয়াং জুনিয়র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) অ্যারন স্লোডভের উপস্থিতিতে মিশিগানের ওয়ারেন কারখানা পরিদর্শন করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। এ সময় তাঁকে কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখানো হয় এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়/Brooke Brzoska, Special To The Detroit News
ওয়ারেন, ১০ এপ্রিল : এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাঁর কঠোর শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে মিশিগানে এই খাতে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে বৃহস্পতিবার ওয়ারেনের একটি কারখানা পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বেশ কিছু সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদনশীলতা, মজুরি এবং অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) সময় বৃদ্ধির প্রবণতা।
তিনি আরও বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা দেখেছি উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে—যা এ ধরনের প্রথম পরিবর্তন। তাই সব সূচকই এখন সঠিক দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।” এই মন্তব্য তিনি ওয়ারেনের ‘অ্যাটমিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ পরিদর্শনের পর করেন। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ছাঁচ (molds) ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ছিল, যদিও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে মার্চ মাসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার কম।
গত বছর জুড়ে মিশিগানের উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান কয়েক হাজার কমেছে, যার মধ্যে রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিল্প খাত হিসেবে বিবেচিত অটোমোবাইল শিল্পও অন্তর্ভুক্ত। কর্মসংস্থান হ্রাসের এই নিম্নমুখী প্রবণতা মূলত ২০২৩ সাল থেকেই শুরু হয়েছে।
“আপনি রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলতে পারেন না; তবে গত এক বছরে আমরা অনেক কাজ করেছি। তার ফলেই এখন উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে হারটি বাইডেন প্রশাসনের সময় এবং বর্তমান প্রশাসনের শুরুর দিকে নেতিবাচক ছিল, তা এখন ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে,” ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন। “এর মূল কারণ হলো অন্যান্য সূচকের উন্নতি। যখন উৎপাদনশীলতা বাড়ে, মজুরি বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত কাজের সময়ও বাড়ে—তখন এক পর্যায়ে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে বাধ্য হয়।”
বৃহস্পতিবার মিশিগানে জেমিসন গ্রিয়ারের তিনটি উৎপাদন-কেন্দ্রিক কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচির প্রথম ধাপ ছিল ‘অ্যাটমিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ পরিদর্শন। এরপর তিনি ‘স্টেলান্টিস ওয়ারেন ট্রাক অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট’ এবং পরবর্তীতে অবার্ন হিলস-এ অবস্থিত একটি ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। শুক্রবার তাঁর ওহাইওতে অবস্থিত সৌর প্যানেল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী কারখানাগুলো পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মোট আকারের প্রায় ১০ শতাংশ আসে উৎপাদন খাত থেকে, যা বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল হলো আরও বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা, যাতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এড়ানো যায়। তবে কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এখনো তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয়নি।
‘অ্যাটমিক’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যারন স্লোডভ জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে ৬৫ জন কর্মী কাজ করছেন এবং সম্প্রতি ইনজেকশন মোল্ডিং কাজের জন্য একটি দ্বিতীয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের পণ্যের চাহিদায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তার মতে, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের আগেই শুরু হয়েছে। বড় বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই, বিশেষ করে নিজেদের কারখানার কাছাকাছি সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ক্রমশ বেশি ঝুঁকছে।
শুল্ক বা ট্যারিফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আরোপিত শুল্কের প্রভাব তাদের ব্যবসার ওপর খুব বেশি পড়েনি—অন্তত এখন পর্যন্ত নয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি এই মুহূর্তে বড় পরিসরে যন্ত্রপাতি ক্রয় করি, তাহলে সেগুলোর ওপর প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে; তবে আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ওয়ারেন, ১০ এপ্রিল : এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাঁর কঠোর শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে মিশিগানে এই খাতে কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে বৃহস্পতিবার ওয়ারেনের একটি কারখানা পরিদর্শনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, বেশ কিছু সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদনশীলতা, মজুরি এবং অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) সময় বৃদ্ধির প্রবণতা।
তিনি আরও বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা দেখেছি উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে—যা এ ধরনের প্রথম পরিবর্তন। তাই সব সূচকই এখন সঠিক দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।” এই মন্তব্য তিনি ওয়ারেনের ‘অ্যাটমিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ পরিদর্শনের পর করেন। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ছাঁচ (molds) ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ছিল, যদিও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে মার্চ মাসের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার কম।
গত বছর জুড়ে মিশিগানের উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান কয়েক হাজার কমেছে, যার মধ্যে রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিল্প খাত হিসেবে বিবেচিত অটোমোবাইল শিল্পও অন্তর্ভুক্ত। কর্মসংস্থান হ্রাসের এই নিম্নমুখী প্রবণতা মূলত ২০২৩ সাল থেকেই শুরু হয়েছে।
“আপনি রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলতে পারেন না; তবে গত এক বছরে আমরা অনেক কাজ করেছি। তার ফলেই এখন উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে হারটি বাইডেন প্রশাসনের সময় এবং বর্তমান প্রশাসনের শুরুর দিকে নেতিবাচক ছিল, তা এখন ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে,” ‘দ্য ডেট্রয়েট নিউজ’-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন। “এর মূল কারণ হলো অন্যান্য সূচকের উন্নতি। যখন উৎপাদনশীলতা বাড়ে, মজুরি বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত কাজের সময়ও বাড়ে—তখন এক পর্যায়ে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে বাধ্য হয়।”
বৃহস্পতিবার মিশিগানে জেমিসন গ্রিয়ারের তিনটি উৎপাদন-কেন্দ্রিক কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচির প্রথম ধাপ ছিল ‘অ্যাটমিক ইন্ডাস্ট্রিজ’ পরিদর্শন। এরপর তিনি ‘স্টেলান্টিস ওয়ারেন ট্রাক অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট’ এবং পরবর্তীতে অবার্ন হিলস-এ অবস্থিত একটি ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। শুক্রবার তাঁর ওহাইওতে অবস্থিত সৌর প্যানেল ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী কারখানাগুলো পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মোট আকারের প্রায় ১০ শতাংশ আসে উৎপাদন খাত থেকে, যা বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল হলো আরও বেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা, যাতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক এড়ানো যায়। তবে কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এখনো তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয়নি।
‘অ্যাটমিক’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যারন স্লোডভ জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে ৬৫ জন কর্মী কাজ করছেন এবং সম্প্রতি ইনজেকশন মোল্ডিং কাজের জন্য একটি দ্বিতীয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের পণ্যের চাহিদায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
তার মতে, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের আগেই শুরু হয়েছে। বড় বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই, বিশেষ করে নিজেদের কারখানার কাছাকাছি সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ক্রমশ বেশি ঝুঁকছে।
শুল্ক বা ট্যারিফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আরোপিত শুল্কের প্রভাব তাদের ব্যবসার ওপর খুব বেশি পড়েনি—অন্তত এখন পর্যন্ত নয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি এই মুহূর্তে বড় পরিসরে যন্ত্রপাতি ক্রয় করি, তাহলে সেগুলোর ওপর প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে; তবে আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”
Source & Photo: http://detroitnews.com