আইনপ্রণেতাদের দাবি- বাড়বে আবাসন, কমবে দাম

মিশিগানে নতুন আবাসন বিল ঘিরে মতবিরোধ

আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৩:০৪:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৩:০৪:০০ পূর্বাহ্ন
মিশিগানের ম্যাকম্ব টাউনশিপের স্টিলওয়াটার ক্রসিং-এ নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে/Andy Morrison, The Detroit News

মেট্রো ডেট্রয়েট, ১১ এপ্রিল : মেট্রো ডেট্রয়েট জুড়ে বিভিন্ন শহর ও টাউনশিপের মেয়র এবং তত্ত্বাবধায়করা রাজ্যের প্রস্তাবিত আবাসন সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন গড়ে উঠতে পারে, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও সেবার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে। তবে আইনের প্রবক্তাদের দাবি, এটি বাস্তবায়িত হলে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণ সহজ হবে এবং আবাসন সংকট কমাতে সহায়তা করবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্থাপিত প্রস্তাবিত আইনটি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজ্যের কিছু আইনপ্রণেতার মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। আইনপ্রণেতাদের মতে, মিশিগানের বিভিন্ন শহর ও টাউনশিপে বিদ্যমান কঠোর জোনিং বিধিবিধান সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এসব বিধিনিষেধ শিথিল করে আবাসন নির্মাণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
রাজ্যের প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান গ্রান্ট জানান, বর্তমানে মিশিগান হাউসের একটি কমিটিতে বিবেচনাধীন বিলগুলো আবাসন নির্মাণের জন্য ছোট আকারের প্লট ব্যবহারের সুযোগ দেবে এবং ভবনের চারপাশে নির্ধারিত ফাঁকা জায়গা বা সেটব্যাক (setback) কমানোর অনুমতি প্রদান করবে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে নতুন বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হবে।
গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি এবং বিলটির অন্যতম প্রবক্তা গ্রান্ট বলেন, “গত ২০ থেকে ৩০ বছরে জোনিং সংক্রান্ত বিধিবিধানগুলো, যা শুরুতে সৎ উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেশি বিস্তৃত ও কঠোর হয়ে উঠেছে। এক পর্যায়ে এসে এগুলো কার্যত এমন এক ধরনের ‘রেডলাইনিং’-এর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে।”
তবে স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত বিলগুলো সমগ্র রাজ্যজুড়ে জোনিং ব্যবস্থায় একটি ‘একই মাপকাঠিতে সবাইকে বিচার করার’ নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ, সড়ক ও অন্যান্য স্থানীয় অবকাঠামো আবাসনের ঘনত্বে সম্ভাব্য এই বড় ধরনের বৃদ্ধি সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়। পাশাপাশি তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিলগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই যে নতুন নির্মিত আবাসনগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হবে।
ব্লুমফিল্ড টাউনশিপ, ক্লিনটন টাউনশিপ, রোমুলাস এবং স্টার্লিং হাইটসসহ মেট্রো ডেট্রয়েটের বেশ কয়েকটি স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে এই আইনের বিরোধিতা করে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাস করেছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, রাজ্য পর্যায়ে আবাসন সংকট সমাধানের উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা স্থানীয় বাস্তবতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনা করেই গ্রহণ করা উচিত।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘সাউথইস্ট মিশিগান কাউন্সিল অফ গভর্নমেন্টস’ (SEMCOG)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন এলাকার ডজনখানেক কর্মকর্তা একত্রিত হয়ে প্রস্তাবিত আইনটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিলটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
SEMCOG-এর পরিকল্পনা পরিচালক কেভিন ভেট্রাইনো বলেন, “আইন প্রণয়ন ও অ্যাডভোকেসি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, ল্যান্সিং থেকে উত্থাপিত কোনো একটি বিষয় আমাদের সদস্য ও রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্থানীয় নেতাদের—কোনো কিছুর পক্ষে বা বিপক্ষে—এতটা ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার করে তোলেনি, যতটা এই বিলের প্যাকেজটি তাদের বিরোধিতায় একত্রিত করেছে।”
‘মিশিগান মিউনিসিপাল লিগ’, SEMCOG এবং ‘মিশিগান টাউনশিপস অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে প্রস্তাবিত এই আইনের বিরোধিতায় একটি স্মারকলিপি বা প্রতিবাদপত্র প্রস্তুত করেছে। এতে রাজ্যজুড়ে ২,০০০-এরও বেশি নির্বাচিত ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ১০০-এর বেশি সাধারণ বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মতে, পুরো বিষয়টি মূলত ‘স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখার অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
ব্লুমফিল্ড টাউনশিপের কোষাধ্যক্ষ মাইকেল শোস্টাক বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমরা বাসিন্দাদের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছি এবং আমাদের মতামত দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। যেসব বিষয় সরাসরি স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে, সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনের হাতেই থাকা উচিত।”
অন্যদিকে, প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান গ্রান্ট যুক্তি দেন যে কঠোর জোনিং বিধিনিষেধই আবাসনের খরচ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ধরন কয়েক প্রজন্ম আগের তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এখন অনেক পরিবারে একক অভিভাবক রয়েছে, আবার অনেক বিবাহিত দম্পতির সন্তান নেই—ফলে ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিটের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তার মতে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আবাসন নীতিমালা হালনাগাদ করা জরুরি।
প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান গ্রান্ট বলেন, তার প্রস্তাবিত আইন প্যাকেজটি কোনোভাবেই জোনিং ব্যবস্থা বাতিল করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। বরং এটি আবাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি নির্দিষ্ট জোনিং আইনের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই প্যাকেজটি মোট পাঁচটি জোনিং আইনের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করছে, যেগুলো আবাসন নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এটি স্থানীয় মতামতকে উপেক্ষা করে না; বরং স্থানীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা উন্নত করার চেষ্টা করছে।”
তবে মেট্রো ডেট্রয়েটের সব স্থানীয় কর্মকর্তা এই আইনের বিরোধিতা করছেন না। কিছু শহরের প্রশাসন প্রস্তাবিত বিলগুলোকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে অ্যান আরবারের কর্মকর্তারা মনে করেন, আবাসনের সরবরাহ বাড়ানোই বর্তমান সংকট সমাধানের কার্যকর উপায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ির দাম কমাতে এবং ক্রয়ক্ষমতার অভাব দূর করতে সহায়তা করবে।
অ্যান আরবারের মেয়র ক্রিস্টোফার টেলর বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি স্থানীয় পরিকল্পনা বাতিল করে না; বরং সর্বত্র ন্যূনতম আবাসন সুযোগ নিশ্চিত করার একটি কাঠামো তৈরি করে। টেলর বলেন, “এই প্যাকেজটি একটি সর্বনিম্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয়। এটি কোনো সর্বোচ্চ সীমা আরোপ করে না। 
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com