সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, ছবি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ফেসবুক পেইজ
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল : জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শুধু অংশগ্রহণই নয়; বরং তাঁর দল থাকবে সামনের সারিতে। আজ সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
সেমিনারে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। সংসদে কারও জমিদারি মানব না, কারও কাছে সংসদ বন্ধকও দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সংসদে যাদের নড়াচড়া দেখা যায়, তাদের কে নাড়াচ্ছে—জাতি তা বোঝে। তারা একসময় বলে গণভোট বৈধ, আবার বলে অবৈধ। জনগণ আমাদেরকে সংসদে পাঠিয়েছে জনগণের পক্ষে কথা বলতে, টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা দেখানোর জন্য নয়।”
জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই আন্দোলন শুরু করতে বলছেন। তিনি বলেন, “আন্দোলন শুরু করতে হবে না, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে আমরা শুধু সঙ্গে থাকব না; বরং সামনের সারিতে থাকব।”
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “অপকর্ম করলে আগের চেয়ে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হয়। আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে দেশছাড়া হয়েছে, সেই একই পথে গেলে আপনাদেরও আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। আমরা বলেছি—আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, ফলে আজকের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সেমিনারে ‘জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা’—মন্তব্য করেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করার দাবি জানান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. দিলারা চৌধুরী বলেন, জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। গণভোটের রায়ই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আগে বলেছে গণভোট অবৈধ, এখন আবার বৈধ বলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কি গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন?
সেমিনারের কি-নোট স্পিকার ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির। তিনি বলেন, অতীতে সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ এবং ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো তো সংসদেই পাস হয়েছিল। তাহলে সুপ্রিম কোর্ট কেন এগুলো অসাংবিধানিক বলল—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর অর্থ সংসদে যা ইচ্ছা তা করা যায় না।
শিশির মনির আরও বলেন, গণভোট হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার সরাসরি বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণভোট ছিল না; ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এটি সংযোজন করেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের গণভোট ছিল স্পষ্ট প্রশ্নভিত্তিক, যেখানে জনগণ পড়ে বুঝে ভোট দিয়েছে। অথচ আগের গণভোটগুলোতে প্রশ্ন অস্পষ্ট ছিল।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণকে উপেক্ষা ও অপমান করার প্রবণতাই আজকের সংকটের মূল কারণ। জনগণের রায় অমান্য করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে, সতর্ক করেন তিনি।
ঢাকা, ১৩ এপ্রিল : জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শুধু অংশগ্রহণই নয়; বরং তাঁর দল থাকবে সামনের সারিতে। আজ সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
সেমিনারে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। সংসদে কারও জমিদারি মানব না, কারও কাছে সংসদ বন্ধকও দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সংসদে যাদের নড়াচড়া দেখা যায়, তাদের কে নাড়াচ্ছে—জাতি তা বোঝে। তারা একসময় বলে গণভোট বৈধ, আবার বলে অবৈধ। জনগণ আমাদেরকে সংসদে পাঠিয়েছে জনগণের পক্ষে কথা বলতে, টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা দেখানোর জন্য নয়।”
জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনেকেই আন্দোলন শুরু করতে বলছেন। তিনি বলেন, “আন্দোলন শুরু করতে হবে না, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলনে আমরা শুধু সঙ্গে থাকব না; বরং সামনের সারিতে থাকব।”
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “অপকর্ম করলে আগের চেয়ে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হয়। আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করে দেশছাড়া হয়েছে, সেই একই পথে গেলে আপনাদেরও আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। আমরা বলেছি—আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, ফলে আজকের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সেমিনারে ‘জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা’—মন্তব্য করেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করার দাবি জানান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. দিলারা চৌধুরী বলেন, জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। গণভোটের রায়ই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আগে বলেছে গণভোট অবৈধ, এখন আবার বৈধ বলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কি গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন?
সেমিনারের কি-নোট স্পিকার ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির। তিনি বলেন, অতীতে সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ এবং ষোড়শ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো তো সংসদেই পাস হয়েছিল। তাহলে সুপ্রিম কোর্ট কেন এগুলো অসাংবিধানিক বলল—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর অর্থ সংসদে যা ইচ্ছা তা করা যায় না।
শিশির মনির আরও বলেন, গণভোট হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার সরাসরি বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে গণভোট ছিল না; ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এটি সংযোজন করেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের গণভোট ছিল স্পষ্ট প্রশ্নভিত্তিক, যেখানে জনগণ পড়ে বুঝে ভোট দিয়েছে। অথচ আগের গণভোটগুলোতে প্রশ্ন অস্পষ্ট ছিল।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণকে উপেক্ষা ও অপমান করার প্রবণতাই আজকের সংকটের মূল কারণ। জনগণের রায় অমান্য করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে, সতর্ক করেন তিনি।