২৫ হাজার বাসিন্দা গণনার বাইরে, আদালতে যাচ্ছে ডেট্রয়েট সিটি

আপলোড সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন
ডেট্রয়েটের মেয়র মেরি শেফিল্ড, নগর কর্মকর্তা ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, গতকাল বৃহস্পতিবার জনসন রিক্রিয়েশন সেন্টারের বাইরে দাঁড়িয়ে শহরের টানা তৃতীয় বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন/Louis Aguilar, The Detroit News

ডেট্রয়েট, ১৫ মে : যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত তিন বছরে ডেট্রয়েটের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিললেও, শহর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এখনো প্রায় ২৫,০০০ বাসিন্দাকে গণনার বাইরে রেখেছে। আর এই কথিত ত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে তারা মামলা করার পরিকল্পনা করছেন।
নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার ডেট্রয়েটের মার্কিন জেলা আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হবে। মামলায় দাবি করা হবে যে, আদমশুমারি ব্যুরো যে গণনা-পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা মূলত কাউন্টির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডেট্রয়েটের প্রকৃত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না।
শহরের কৌশলগত উদ্যোগ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ট্রিসিয়া স্টেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আগামীকাল আবারও আদালতে হাজির হব। আমাদের সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও আদমশুমারি বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন, তাই আমরা মনে করি আমাদের মামলা যথেষ্ট শক্তিশালী।”
তিনি আরও জানান, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো আদমশুমারি ব্যুরোর ‘কাউন্টি ক্যাপ’ বা ‘কাউন্টি সীমা’ নীতি। স্টেইনের ভাষায়, “এর মানে হলো, ওয়েইন কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত সব শহর ও নগরের মোট জনসংখ্যা সেই কাউন্টির সামগ্রিক জনসংখ্যাকে অতিক্রম করতে পারে না।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকালীন সময়ে শহর কর্তৃপক্ষ আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা গণনার পদ্ধতিকে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ জানায়। ওই উদ্যোগের ফলে ব্যুরো শহরের জনসংখ্যা প্রাক্কলন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমানে ব্যুরোটি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ আদমশুমারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেট্রয়েটের জনসংখ্যা আনুমানিক ৫ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শহরটির জন্য টানা তৃতীয় বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি—যে শহরটি প্রায় সাত দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা হ্রাসের মুখোমুখি ছিল। তবে ব্যুরো ২০২৪ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা সংশোধন করে কমিয়ে দেখিয়েছে।
ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছর ডেট্রয়েটের আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ৬,৪৯,০৯৫ জন, যা ২০২৪ সালের ৬,৪৪,০৩৫ জনের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেশি এবং ২০২০ সালের তুলনায় ১.৭ শতাংশ বেশি। জনসংখ্যার হিসাবে ডেট্রয়েট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম বৃহত্তম শহর, যা ২০২৪ সালে ২৭তম অবস্থানে ছিল।
২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় ডেট্রয়েটে বাসিন্দা সংখ্যা সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রবণতা ডেট্রয়েটে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করছে এবং এ নিয়ে অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের আগে টানা ১৯৫৭ সাল থেকে প্রতি বছরই ডেট্রয়েটের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। প্রায় ৬৫ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে একসময় দেশটির পঞ্চম বৃহত্তম শহর হিসেবে পরিচিত ডেট্রয়েট ধীরে ধীরে শীর্ষ ২৫ শহরের তালিকা থেকেও ছিটকে পড়ে।
বৃহস্পতিবার মেয়র মেরি শেফিল্ড বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা ও নগর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আদমশুমারির সর্বশেষ তথ্য উদযাপন করেন। অনুষ্ঠানটি ওয়াইওমিং ও এইট মাইল এলাকার কাছাকাছি গার্ডেন হোমস এলাকার ৮৫৫০ চিপ্পেওয়া স্ট্রিটে অবস্থিত জনসন রিক্রিয়েশন সেন্টারের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনটি সাবেক হিগিনবটম স্কুলের পাশে আয়োজিত হয়—যে ভবনটি বর্তমানে ৩৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে সেখানে ১০০টিরও বেশি আবাসিক ইউনিট থাকবে।
“ওয়েইন কাউন্টির মাত্র তিনটি এলাকার মধ্যে ডেট্রয়েট হলো অন্যতম, যার জনসংখ্যা ২০২০ সাল থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে,” শেফিল্ড বলেন। তিনি আরও বলেন, “কয়েক দশক ধরে ডেট্রয়েট সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, তা মূলত অধঃপতনের গল্প হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু আজ পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে—এটাই বাস্তবতা।”
তিনি জানান, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পরিত্যক্ত বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করে নতুন আবাসন ইউনিট যুক্ত করা। আদমশুমারি ফলাফল নিয়ে শহরের পক্ষ থেকে যেসব আপত্তি জানানো হয়েছিল, তার মধ্যে একটি সফল চ্যালেঞ্জ ছিল—সংস্কারকৃত আবাসিক ইউনিটগুলোকে গণনার বাইরে রাখা হয়েছিল।
শেফিল্ড তার চার বছরের মেয়াদে ১,০০০টি নতুন ‘সিঙ্গেল-ফ্যামিলি হোম’ বা একক-পরিবারের বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com