ঢাকা, ১৬ মে : বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের মেয়াদ আগামী ২৩ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তা সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং সহকারী নৌপ্রধান (পার্সোনেল) রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেক।
তবে নৌবাহিনীর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এস এম মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) কাছ থেকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ২৩৫ মিলিয়ন ডলার (২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা) ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালে মনিরুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর একই পরিমাণ অর্থে মাত্র ৪টি জাহাজ কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর, সরকারি ছুটির দিনে, সিএমসির সঙ্গে জাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে বিএসসি। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬টি জাহাজের বরাদ্দমূল্যে ৪টি জাহাজ কেনার মাধ্যমে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও, তার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এস এম মনিরুজ্জামান পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের ১ জুলাই দুদক একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। সহকারী পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-৫) মো. নওশাদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত ওই দলের অপর সদস্য ছিলেন উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন।
পরবর্তীতে ১৯ জুলাই অনুসন্ধান দল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, এস এম মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত তথ্য এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য তলব করে। প্রাপ্ত নথি যাচাই-বাছাই এবং সার্বিক অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলার সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপর অদৃশ্য চাপ ও প্রভাবের কারণে দুদকের সেই তৎপরতা হঠাৎ করেই থেমে যায়।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এস এম মনিরুজ্জামানকে নৌবাহিনীর প্রধান পদে বসানোর জোর তৎপরতা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে তাকে টেক্কা দিয়ে ওই পদটি অর্জনের লক্ষ্যে আরও সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেক। তার বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
গোলাম সাদেক ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রেষণে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে সংস্থাটির বিভিন্ন প্রকল্প ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঁচ সদস্যের কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপেক্ষা করে তিনি ২ কোটি টাকায় ‘নগরবাড়ী-কাজিরহাট-নরাদহ নদীবন্দর’ এলাকার শুল্ক আদায় কেন্দ্র বা ঘাট ইজারা অনুমোদন করেন। অথচ ওই ঘাটের বার্ষিক ইজারামূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে দুই অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ২০২২ সালে দুদকের কমিশন সভায় তার বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করা হয়। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালীদের তদবিরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে দুদক। কমিশন সভায় অনুমোদনের পরও মামলা থেকে বাদ দেওয়ার এমন ঘটনা দুদকের ইতিহাসে বিরল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ৩৫টি ড্রেজার ও জলযান কেনাকাটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেকসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে সেই অনুসন্ধান কার্যক্রমও আর এগোয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গোলাম সাদেক নৌবাহিনীর প্রধান পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের যদি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জনআস্থার উপর তার কী ধরনের প্রভাব পড়বে?
তবে নৌবাহিনীর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এস এম মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) কাছ থেকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ২৩৫ মিলিয়ন ডলার (২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা) ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালে মনিরুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর একই পরিমাণ অর্থে মাত্র ৪টি জাহাজ কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর, সরকারি ছুটির দিনে, সিএমসির সঙ্গে জাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে বিএসসি। অভিযোগ অনুযায়ী, ৬টি জাহাজের বরাদ্দমূল্যে ৪টি জাহাজ কেনার মাধ্যমে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলেও, তার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এস এম মনিরুজ্জামান পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের ১ জুলাই দুদক একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে। সহকারী পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-৫) মো. নওশাদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত ওই দলের অপর সদস্য ছিলেন উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন।
পরবর্তীতে ১৯ জুলাই অনুসন্ধান দল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, এস এম মনিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত তথ্য এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য তলব করে। প্রাপ্ত নথি যাচাই-বাছাই এবং সার্বিক অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলার সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপর অদৃশ্য চাপ ও প্রভাবের কারণে দুদকের সেই তৎপরতা হঠাৎ করেই থেমে যায়।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এস এম মনিরুজ্জামানকে নৌবাহিনীর প্রধান পদে বসানোর জোর তৎপরতা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে তাকে টেক্কা দিয়ে ওই পদটি অর্জনের লক্ষ্যে আরও সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেক। তার বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
গোলাম সাদেক ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রেষণে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে সংস্থাটির বিভিন্ন প্রকল্প ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাঁচ সদস্যের কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপেক্ষা করে তিনি ২ কোটি টাকায় ‘নগরবাড়ী-কাজিরহাট-নরাদহ নদীবন্দর’ এলাকার শুল্ক আদায় কেন্দ্র বা ঘাট ইজারা অনুমোদন করেন। অথচ ওই ঘাটের বার্ষিক ইজারামূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে দুই অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ২০২২ সালে দুদকের কমিশন সভায় তার বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করা হয়। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালীদের তদবিরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে দুদক। কমিশন সভায় অনুমোদনের পরও মামলা থেকে বাদ দেওয়ার এমন ঘটনা দুদকের ইতিহাসে বিরল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ৪ হাজার ৫১৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ৩৫টি ড্রেজার ও জলযান কেনাকাটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেকসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে সেই অনুসন্ধান কার্যক্রমও আর এগোয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গোলাম সাদেক নৌবাহিনীর প্রধান পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের যদি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং জনআস্থার উপর তার কী ধরনের প্রভাব পড়বে?