উডহেভেন, ২৬ মে : উডহেভেনের অ্যালেন রোডের একটি অংশ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হবে চালকদের। ওয়েইন কাউন্টি কর্তৃপক্ষ সেখানে অত্যন্ত ব্যস্ত একটি রেল ক্রসিং পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই সাময়িক ভোগান্তি শেষে দীর্ঘমেয়াদে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় অ্যালেন রোডের ভ্যান হর্ন ও ওয়েস্ট রোডের মধ্যবর্তী অংশটি নিচু করা হবে এবং এর ওপর দিয়ে একটি নতুন রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করা হবে। এর ফলে সড়কপথের যানবাহন ও রেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে যাবে, যা দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে সহায়ক হবে।
প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ওয়েইন কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্যে গত মার্চ মাসে অ্যালেন রোডের ওই নির্দিষ্ট অংশটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
‘গ্রেড সেপারেশন’ বা সড়ক ও রেলপথ পৃথকীকরণ প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই ক্রসিং দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলো নিকটবর্তী ‘কানাডিয়ান ন্যাশনাল ফ্ল্যাট রক ইয়ার্ড’-এর দিকে যাতায়াত করে। অনেক সময় ট্রেন চলাচলের কারণে এই ক্রসিংয়ে যানবাহন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এই অ্যালেন রোড ক্রসিং ব্যবহার করে চলাচল করে, ফলে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উডহেভেনের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা ব্রেন্ডেন সুভা অ্যালেন ও ভ্যান হর্নের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি বিপি (BP) স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই প্রকল্পটি ১০০ ভাগ সুফল বয়ে আনবে।” তিনি জানান, ওয়েইন শহরে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে তাকে প্রায়ই এই রেল ক্রসিং পার হতে হয় এবং সেখানে ট্রেনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা তার জন্য প্রায় প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ওয়েইন কাউন্টির প্রকৌশল পরিচালক সামি খালদি জানান, প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ জোরেশোরে চলছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থানান্তরের পাশাপাশি উডহেভেন শহরের পক্ষ থেকে কিছু স্ট্রিটলাইটও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে, যা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
খালদি বলেন, ‘গ্রেট লেকস ওয়াটার অথরিটি’ কেবল তখনই এই প্রধান লাইন স্থানান্তরের অনুমতি দেবে, যখন পানির চাহিদার চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে—যা সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, কাউন্টি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সব ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার ভাষায়, “এ ধরনের ইউটিলিটি লাইন সঠিকভাবে স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট সময় ও নিবিড় তদারকির প্রয়োজন হয়।”
রেল সেতুর মূল নির্মাণকাজ শুরুর আগে ওয়েইন কাউন্টি কর্তৃপক্ষকে একটি ‘শু-ফ্লাই’ নির্মাণ করতে হবে। এটি মূলত একটি সাময়িক রেললাইন বা বিকল্প পথ, যা অ্যালেন রোডের বন্ধ থাকা অংশটিকে পাশ কাটিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য ব্যবহৃত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অস্থায়ী রেলপথ চালু হলে মূল নির্মাণকাজ চলাকালীনও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
ওয়েইন কাউন্টির প্রকৌশল পরিচালক সামি খালদি জানান, প্রকল্পের গ্রেড নির্মাণ কাজ ২০২৮ সালের শরতের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “খননকাজ চলাকালে অনেক সময় আগে থেকে বোঝা যায় না যে মাটির নিচে কী পাওয়া যেতে পারে; তবে আমরা আশা করছি ২০২৮ সালের গ্রীষ্মের শেষ ভাগ কিংবা শরতের শুরুতেই এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।”
ট্রেন্টনের ৭৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ক্রিস্টিন কুলিক মনে করেন, পুনর্নির্মিত রেলক্রসিংটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। তবে বর্তমানে চলমান নির্মাণকাজের কারণে যে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, সেটিও তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অনুভব করেছেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর এক বন্ধু পড়ে গিয়ে আহত হলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পরিবর্তে তিনি ও তাঁর স্বামী নিজেই গাড়ি চালিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অ্যালেন রোডের একটি রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয় তাঁদের। ফলে স্থানীয় ‘কোরওয়েল’ হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ক্রিস্টিন কুলিক বলেন, “অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়ার জন্য সাময়িক কিছু কষ্ট বা ভোগান্তি মেনে নিতেই হয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
এই প্রকল্পের আওতায় অ্যালেন রোডের ভ্যান হর্ন ও ওয়েস্ট রোডের মধ্যবর্তী অংশটি নিচু করা হবে এবং এর ওপর দিয়ে একটি নতুন রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করা হবে। এর ফলে সড়কপথের যানবাহন ও রেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে পৃথক হয়ে যাবে, যা দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে সহায়ক হবে।
প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলারের এই বৃহৎ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ওয়েইন কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্যে গত মার্চ মাসে অ্যালেন রোডের ওই নির্দিষ্ট অংশটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
‘গ্রেড সেপারেশন’ বা সড়ক ও রেলপথ পৃথকীকরণ প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই ক্রসিং দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলো নিকটবর্তী ‘কানাডিয়ান ন্যাশনাল ফ্ল্যাট রক ইয়ার্ড’-এর দিকে যাতায়াত করে। অনেক সময় ট্রেন চলাচলের কারণে এই ক্রসিংয়ে যানবাহন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। প্রতিদিন ৩০ হাজারেরও বেশি যানবাহন এই অ্যালেন রোড ক্রসিং ব্যবহার করে চলাচল করে, ফলে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উডহেভেনের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা ব্রেন্ডেন সুভা অ্যালেন ও ভ্যান হর্নের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি বিপি (BP) স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই প্রকল্পটি ১০০ ভাগ সুফল বয়ে আনবে।” তিনি জানান, ওয়েইন শহরে কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে তাকে প্রায়ই এই রেল ক্রসিং পার হতে হয় এবং সেখানে ট্রেনের কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা তার জন্য প্রায় প্রতিদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ওয়েইন কাউন্টির প্রকৌশল পরিচালক সামি খালদি জানান, প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ জোরেশোরে চলছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থানান্তরের পাশাপাশি উডহেভেন শহরের পক্ষ থেকে কিছু স্ট্রিটলাইটও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি প্রধান পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে, যা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
খালদি বলেন, ‘গ্রেট লেকস ওয়াটার অথরিটি’ কেবল তখনই এই প্রধান লাইন স্থানান্তরের অনুমতি দেবে, যখন পানির চাহিদার চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে—যা সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, কাউন্টি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সব ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার ভাষায়, “এ ধরনের ইউটিলিটি লাইন সঠিকভাবে স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট সময় ও নিবিড় তদারকির প্রয়োজন হয়।”
রেল সেতুর মূল নির্মাণকাজ শুরুর আগে ওয়েইন কাউন্টি কর্তৃপক্ষকে একটি ‘শু-ফ্লাই’ নির্মাণ করতে হবে। এটি মূলত একটি সাময়িক রেললাইন বা বিকল্প পথ, যা অ্যালেন রোডের বন্ধ থাকা অংশটিকে পাশ কাটিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখার জন্য ব্যবহৃত হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অস্থায়ী রেলপথ চালু হলে মূল নির্মাণকাজ চলাকালীনও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
ওয়েইন কাউন্টির প্রকৌশল পরিচালক সামি খালদি জানান, প্রকল্পের গ্রেড নির্মাণ কাজ ২০২৮ সালের শরতের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “খননকাজ চলাকালে অনেক সময় আগে থেকে বোঝা যায় না যে মাটির নিচে কী পাওয়া যেতে পারে; তবে আমরা আশা করছি ২০২৮ সালের গ্রীষ্মের শেষ ভাগ কিংবা শরতের শুরুতেই এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।”
ট্রেন্টনের ৭৬ বছর বয়সী বাসিন্দা ক্রিস্টিন কুলিক মনে করেন, পুনর্নির্মিত রেলক্রসিংটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। তবে বর্তমানে চলমান নির্মাণকাজের কারণে যে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে, সেটিও তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অনুভব করেছেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর এক বন্ধু পড়ে গিয়ে আহত হলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পরিবর্তে তিনি ও তাঁর স্বামী নিজেই গাড়ি চালিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অ্যালেন রোডের একটি রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রায় ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয় তাঁদের। ফলে স্থানীয় ‘কোরওয়েল’ হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ক্রিস্টিন কুলিক বলেন, “অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়ার জন্য সাময়িক কিছু কষ্ট বা ভোগান্তি মেনে নিতেই হয়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com