বে সিটি, ২ জুন : মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে দণ্ডিত হওয়ার তিন সপ্তাহও পেরোয়নি, এরই মধ্যে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ থমাস লুডিংটন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, প্রবেশন বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত অ্যালকোহল ও মাদক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা তিনি পালন করেননি।
পেটোস্কির ৯০তম ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দাখিল করা একটি আবেদন ও সমন অনুযায়ী, প্রবেশন মেয়াদের প্রথম সপ্তাহে—১৩ থেকে ২০ মে’র মধ্যে—লুডিংটন নির্ধারিত মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হননি। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
৯০তম ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক অ্যাঞ্জেলা ল্যাশার এ বিষয়ে শুনানির জন্য লুডিংটনকে আগামী ৮ জুন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।
প্রবেশন লঙ্ঘনের এই অভিযোগ, যা প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ নিউজ। সংবাদটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন লুডিংটন দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মদ্যপান করেছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্য নিউজ তার গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রকাশ করার পর ৭২ বছর বয়সী এই বিচারক স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান। তিনি বর্তমানে বছরে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ ডলার বেতনের আজীবন মেয়াদভিত্তিক বিচারক পদ থেকে সবেতন ছুটিতে রয়েছেন।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ কর্তৃক মনোনীত লুডিংটন ২০০৬ সালে ফেডারেল বিচারক হিসেবে আজীবন নিয়োগ পান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে বে সিটির ফেডারেল আদালতে বিচারকের দায়িত্বে ফিরে আসা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে বিচারিক অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত। বিচার বিভাগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার দায়ের করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, যা লুডিংটনের বিচারিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লুডিংটনের আইনজীবী জোনাথন স্টেফি মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো সংবাদমাধ্যমের অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।
আইনি বিশেষজ্ঞরা দ্য নিউজ–কে জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের অনেক আদালতে নির্ধারিত অ্যালকোহল ও মাদক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকাকে কার্যত ‘পজিটিভ’ বা ইতিবাচক পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রবেশনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিচারকদের যথেষ্ট স্বাধীনতা ও এখতিয়ার রয়েছে। ফলে লুডিংটন চাইলে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে পারেন, আবার প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকারও করতে পারেন।
এ ধরনের শর্তভঙ্গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে প্রবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড অথবা বর্তমান মামলার প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাভোগ। তবে বিচারকের বিবেচনায় কেবল সতর্কবার্তা দিয়েও বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে।
প্রবেশন শর্ত লঙ্ঘনের এই অভিযোগগুলো একজন ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিরল ফৌজদারি মামলার সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের ৩ অক্টোবর পেটোস্কির পূর্বাঞ্চলে স্প্রিংভেল টাউনশিপের একটি আঁকাবাঁকা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় লুডিংটন পরপর দুটি সড়কচিহ্নে সজোরে ধাক্কা দেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানানোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই ঘটনার প্রায় সাত মাস পর আদালত তাকে ছয় মাসের প্রবেশন বা শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকার দণ্ড প্রদান করে।
আইন অনুযায়ী লুডিংটনকে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ বা অত্যধিক মদ্যপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, কারণ তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.২৭ শতাংশ—যা মিশিগানে অনুমোদিত আইনি সীমা ০.০৮ শতাংশের তিন গুণেরও বেশি। তবে দ্য নিউজ পত্রিকা তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত, পরবর্তী প্রায় চার মাস তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করে মামলার শুনানি চালিয়ে গিয়েছিলেন।
পরে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিনিময়ে লুডিংটন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর লঘু অপরাধের অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ (কোনো বিরোধিতা না করা) আবেদন করেন। আইনের দৃষ্টিতে এই আবেদন দণ্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রায় দোষ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালত তাকে সপ্তাহে দুবার অ্যালকোহল পরীক্ষা করানো, নির্ধারিত জরিমানা ও আদালত ব্যয় পরিশোধ এবং ছয় মাসের প্রবেশন মেনে চলার নির্দেশ দেয়। ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন গ্রহণের ফলে তিনি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের কারাদণ্ডের ঝুঁকির মুখে ছিলেন।
মিশিগান আইনে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.০৮ শতাংশ বা তার বেশি থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো বেআইনি। আর ০.১৭ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রাকে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে লুডিংটনের জন্য ছয় মাসের চেয়ে দীর্ঘ প্রবেশন মেয়াদ চেয়েছিলেন। গত মাসে এমমেট কাউন্টির প্রসিকিউটর মাইক শুইটেমা আদালতে বলেন, “তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। বাস্তবতা হলো, তিনি এতটাই মদ্যপ ছিলেন যে তার হুঁশ ছিল না, এবং তিনি ঠিক সেই অবস্থাতেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
গত ৩ অক্টোবর দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পরিচালিত একাধিক ‘ফিল্ড সোব্রাইটি টেস্ট’ বা মদ্যপতা যাচাই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও লুডিংটন অ্যালকোহল সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে তার শরীরে অ্যালকোহল প্রবেশ করল এবং তাকে কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করানো হয়েছিল কি না।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার সময় লুডিংটনের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পোশাকেই প্রস্রাব করে ফেলেছিলেন এবং মিশিগান স্টেট পুলিশের কর্মকর্তাদের বারবার বলেছিলেন যে তিনি কোনো অ্যালকোহল পান করেননি।
রাজ্য পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রক্ত পরীক্ষায় অ্যালকোহলের মাত্রা ০.২৭ শতাংশ ধরা পড়ার আগেই তিনি ঘটনাস্থলে পরিচালিত মদ্যপতা যাচাইয়ের একাধিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এই মাত্রা মিশিগান আইনে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার অনেক ঊর্ধ্বে।
এদিকে, দ্য নিউজ জনস্বার্থে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় (Public Records Request) ঘটনার সময় ধারণ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি-ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, মদ্যপতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময় লুডিংটনকে ইংরেজি বর্ণমালার একটি অংশ আবৃত্তি করতে বলা হলে তিনি বলেন, “A, B, C, D, E, F, U।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
পেটোস্কির ৯০তম ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দাখিল করা একটি আবেদন ও সমন অনুযায়ী, প্রবেশন মেয়াদের প্রথম সপ্তাহে—১৩ থেকে ২০ মে’র মধ্যে—লুডিংটন নির্ধারিত মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষার জন্য উপস্থিত হননি। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে অথবা বাধ্যতামূলক পুনর্বাসন ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
৯০তম ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক অ্যাঞ্জেলা ল্যাশার এ বিষয়ে শুনানির জন্য লুডিংটনকে আগামী ৮ জুন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।
প্রবেশন লঙ্ঘনের এই অভিযোগ, যা প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ নিউজ। সংবাদটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন লুডিংটন দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মদ্যপান করেছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্য নিউজ তার গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রকাশ করার পর ৭২ বছর বয়সী এই বিচারক স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান। তিনি বর্তমানে বছরে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ ডলার বেতনের আজীবন মেয়াদভিত্তিক বিচারক পদ থেকে সবেতন ছুটিতে রয়েছেন।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ কর্তৃক মনোনীত লুডিংটন ২০০৬ সালে ফেডারেল বিচারক হিসেবে আজীবন নিয়োগ পান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে বে সিটির ফেডারেল আদালতে বিচারকের দায়িত্বে ফিরে আসা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে বিচারিক অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত। বিচার বিভাগের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার দায়ের করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, যা লুডিংটনের বিচারিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লুডিংটনের আইনজীবী জোনাথন স্টেফি মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো সংবাদমাধ্যমের অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।
আইনি বিশেষজ্ঞরা দ্য নিউজ–কে জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের অনেক আদালতে নির্ধারিত অ্যালকোহল ও মাদক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকাকে কার্যত ‘পজিটিভ’ বা ইতিবাচক পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রবেশনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিচারকদের যথেষ্ট স্বাধীনতা ও এখতিয়ার রয়েছে। ফলে লুডিংটন চাইলে অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে পারেন, আবার প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকারও করতে পারেন।
এ ধরনের শর্তভঙ্গের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে প্রবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড অথবা বর্তমান মামলার প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাভোগ। তবে বিচারকের বিবেচনায় কেবল সতর্কবার্তা দিয়েও বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে।
প্রবেশন শর্ত লঙ্ঘনের এই অভিযোগগুলো একজন ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিরল ফৌজদারি মামলার সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের ৩ অক্টোবর পেটোস্কির পূর্বাঞ্চলে স্প্রিংভেল টাউনশিপের একটি আঁকাবাঁকা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় লুডিংটন পরপর দুটি সড়কচিহ্নে সজোরে ধাক্কা দেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানানোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই ঘটনার প্রায় সাত মাস পর আদালত তাকে ছয় মাসের প্রবেশন বা শর্তসাপেক্ষ তত্ত্বাবধানে থাকার দণ্ড প্রদান করে।
আইন অনুযায়ী লুডিংটনকে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ বা অত্যধিক মদ্যপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, কারণ তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.২৭ শতাংশ—যা মিশিগানে অনুমোদিত আইনি সীমা ০.০৮ শতাংশের তিন গুণেরও বেশি। তবে দ্য নিউজ পত্রিকা তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত, পরবর্তী প্রায় চার মাস তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করে মামলার শুনানি চালিয়ে গিয়েছিলেন।
পরে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিনিময়ে লুডিংটন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর লঘু অপরাধের অভিযোগে ‘নো কনটেস্ট’ (কোনো বিরোধিতা না করা) আবেদন করেন। আইনের দৃষ্টিতে এই আবেদন দণ্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রায় দোষ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালত তাকে সপ্তাহে দুবার অ্যালকোহল পরীক্ষা করানো, নির্ধারিত জরিমানা ও আদালত ব্যয় পরিশোধ এবং ছয় মাসের প্রবেশন মেনে চলার নির্দেশ দেয়। ‘নো কনটেস্ট’ আবেদন গ্রহণের ফলে তিনি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের কারাদণ্ডের ঝুঁকির মুখে ছিলেন।
মিশিগান আইনে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.০৮ শতাংশ বা তার বেশি থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো বেআইনি। আর ০.১৭ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রাকে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে লুডিংটনের জন্য ছয় মাসের চেয়ে দীর্ঘ প্রবেশন মেয়াদ চেয়েছিলেন। গত মাসে এমমেট কাউন্টির প্রসিকিউটর মাইক শুইটেমা আদালতে বলেন, “তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। বাস্তবতা হলো, তিনি এতটাই মদ্যপ ছিলেন যে তার হুঁশ ছিল না, এবং তিনি ঠিক সেই অবস্থাতেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
গত ৩ অক্টোবর দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পরিচালিত একাধিক ‘ফিল্ড সোব্রাইটি টেস্ট’ বা মদ্যপতা যাচাই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও লুডিংটন অ্যালকোহল সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বরং তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে তার শরীরে অ্যালকোহল প্রবেশ করল এবং তাকে কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করানো হয়েছিল কি না।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার সময় লুডিংটনের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পোশাকেই প্রস্রাব করে ফেলেছিলেন এবং মিশিগান স্টেট পুলিশের কর্মকর্তাদের বারবার বলেছিলেন যে তিনি কোনো অ্যালকোহল পান করেননি।
রাজ্য পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রক্ত পরীক্ষায় অ্যালকোহলের মাত্রা ০.২৭ শতাংশ ধরা পড়ার আগেই তিনি ঘটনাস্থলে পরিচালিত মদ্যপতা যাচাইয়ের একাধিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এই মাত্রা মিশিগান আইনে ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সীমার অনেক ঊর্ধ্বে।
এদিকে, দ্য নিউজ জনস্বার্থে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় (Public Records Request) ঘটনার সময় ধারণ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি-ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা যায়, মদ্যপতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষার সময় লুডিংটনকে ইংরেজি বর্ণমালার একটি অংশ আবৃত্তি করতে বলা হলে তিনি বলেন, “A, B, C, D, E, F, U।”
Source & Photo: http://detroitnews.com