শেলবি টাউনশিপ, ১৫ জুন : শেলবি টাউনশিপের ‘রিভার বেন্ডস পার্ক’-এর ট্রেইল ধরে দ্রুতগতিতে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া আরোহীদের দেখে মনে হয় না যে তারা আশপাশের এক অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন করছেন।
ট্রেইলের গাছপালার সারির মাত্র কয়েক মিটার দূরেই রয়েছে মেট্রো ডেট্রয়েটের টিকে থাকা জলাভূমিগুলোর একটি, যা কাদা, আর্দ্র পরিবেশ এবং নানা ধরনের পোকামাকড়ে সমৃদ্ধ। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জলাভূমি বাস্তুতন্ত্রের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
জুন মাসের এক দিন, সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির (CMU) জলাভূমি বিষয়ক টেকনিশিয়ান ব্রিজেট হুইলক এবং স্নাতক শিক্ষার্থী জেনি ম্যাগিল ও লিনসি ওয়ার্ড ওই জলাভূমিতে হাঁটু গেড়ে কাজ করছিলেন। গ্রেট লেকস উপকূলরেখা ও মিশিগানজুড়ে জলাভূমির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা সেখানে নমুনা সংগ্রহ করছিলেন। পোকামাকড়, শামুক-ঝিনুক এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর উপস্থিতি খুঁজে দেখতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাদার বিভিন্ন স্তর পরীক্ষা করছিলেন।
হুইলক তার সামনে রাখা প্লাস্টিকের ট্রেতে থাকা কাদার স্তূপ থেকে একটি ‘ফিঙ্গারনেইল ক্ল্যাম’ (এক ধরনের ক্ষুদ্র ঝিনুক) চিমটা দিয়ে তুলে নেন। ঝিনুকটি এতটাই ছোট যে তা অনায়াসেই একটি শিশুর হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যায়। এই ক্ষুদ্র ঝিনুকটিই জলাভূমির পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হুইলক বলেন, “আমরা দেখতে চেষ্টা করছি এই জলাভূমিগুলো কতটা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। পোকামাকড় ও পানির নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা তা যাচাই করি। কিছু নমুনা বিশ্লেষণের জন্য সিএমইউ-তে নিয়ে যাই, আর কিছু পরিমাপ—যেমন তাপমাত্রা ও পানির অম্লতা—ঘটনাস্থলেই সম্পন্ন করা হয়। এসব তথ্য থেকেই আমরা জলাভূমির সামগ্রিক অবস্থা ও পানির গুণমান সম্পর্কে ধারণা পাই।”
সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির (CMU) জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ডন উজারস্কি, যিনি গ্রেট লেকস উপকূলীয় জলাভূমি পর্যবেক্ষণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, জানান যে মিশিগান তার ঐতিহাসিক জলাভূমির প্রায় অর্ধেকই হারিয়ে ফেলেছে। তাঁর মতে, যেসব জলাভূমি একসময় শুকিয়ে ফেলা হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি ছিল এ ধরনেরই জলাভূমি।
তিনি বলেন, মিশিগানের জলাভূমিগুলোর মধ্যে এগুলো তুলনামূলকভাবে শুষ্ক এবং উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। ফলে কৃষিজমি তৈরি, মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা গ্যাস স্টেশন ও বসতবাড়ি গড়ে তোলার জন্য এগুলো সহজেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব জলাভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—বছরের বিভিন্ন সময়ে ভেজা ও শুষ্ক উভয় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া; তাই একবার নষ্ট হয়ে গেলে এগুলো পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।
উজারস্কি বলেন, “জলাভূমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি এবং তা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলো সহজেই কৃষিজমিতে রূপান্তর করা যায়। শিল্পকারখানা বা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এসব এলাকা সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হয়। মানুষ সাধারণত জলাশয়ের কাছাকাছি বসবাস করতে চায়। ফলে উন্নয়নের চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জলাভূমির বড় অংশ হারিয়ে যায়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
ট্রেইলের গাছপালার সারির মাত্র কয়েক মিটার দূরেই রয়েছে মেট্রো ডেট্রয়েটের টিকে থাকা জলাভূমিগুলোর একটি, যা কাদা, আর্দ্র পরিবেশ এবং নানা ধরনের পোকামাকড়ে সমৃদ্ধ। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জলাভূমি বাস্তুতন্ত্রের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
জুন মাসের এক দিন, সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির (CMU) জলাভূমি বিষয়ক টেকনিশিয়ান ব্রিজেট হুইলক এবং স্নাতক শিক্ষার্থী জেনি ম্যাগিল ও লিনসি ওয়ার্ড ওই জলাভূমিতে হাঁটু গেড়ে কাজ করছিলেন। গ্রেট লেকস উপকূলরেখা ও মিশিগানজুড়ে জলাভূমির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা সেখানে নমুনা সংগ্রহ করছিলেন। পোকামাকড়, শামুক-ঝিনুক এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর উপস্থিতি খুঁজে দেখতে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাদার বিভিন্ন স্তর পরীক্ষা করছিলেন।
হুইলক তার সামনে রাখা প্লাস্টিকের ট্রেতে থাকা কাদার স্তূপ থেকে একটি ‘ফিঙ্গারনেইল ক্ল্যাম’ (এক ধরনের ক্ষুদ্র ঝিনুক) চিমটা দিয়ে তুলে নেন। ঝিনুকটি এতটাই ছোট যে তা অনায়াসেই একটি শিশুর হাতের মুঠোয় ধরে রাখা যায়। এই ক্ষুদ্র ঝিনুকটিই জলাভূমির পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হুইলক বলেন, “আমরা দেখতে চেষ্টা করছি এই জলাভূমিগুলো কতটা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। পোকামাকড় ও পানির নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা তা যাচাই করি। কিছু নমুনা বিশ্লেষণের জন্য সিএমইউ-তে নিয়ে যাই, আর কিছু পরিমাপ—যেমন তাপমাত্রা ও পানির অম্লতা—ঘটনাস্থলেই সম্পন্ন করা হয়। এসব তথ্য থেকেই আমরা জলাভূমির সামগ্রিক অবস্থা ও পানির গুণমান সম্পর্কে ধারণা পাই।”
সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির (CMU) জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ডন উজারস্কি, যিনি গ্রেট লেকস উপকূলীয় জলাভূমি পর্যবেক্ষণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, জানান যে মিশিগান তার ঐতিহাসিক জলাভূমির প্রায় অর্ধেকই হারিয়ে ফেলেছে। তাঁর মতে, যেসব জলাভূমি একসময় শুকিয়ে ফেলা হয়েছে বা বিলুপ্ত হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি ছিল এ ধরনেরই জলাভূমি।
তিনি বলেন, মিশিগানের জলাভূমিগুলোর মধ্যে এগুলো তুলনামূলকভাবে শুষ্ক এবং উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। ফলে কৃষিজমি তৈরি, মাটি ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা গ্যাস স্টেশন ও বসতবাড়ি গড়ে তোলার জন্য এগুলো সহজেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব জলাভূমির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—বছরের বিভিন্ন সময়ে ভেজা ও শুষ্ক উভয় অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া; তাই একবার নষ্ট হয়ে গেলে এগুলো পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।
উজারস্কি বলেন, “জলাভূমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি এবং তা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এগুলো সহজেই কৃষিজমিতে রূপান্তর করা যায়। শিল্পকারখানা বা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এসব এলাকা সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হয়। মানুষ সাধারণত জলাশয়ের কাছাকাছি বসবাস করতে চায়। ফলে উন্নয়নের চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জলাভূমির বড় অংশ হারিয়ে যায়।”
Source & Photo: http://detroitnews.com