হবিগঞ্জে ৬ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র ৫০

আপলোড সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৬-২০২৬ ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ন
মাধবপুর (হবিগঞ্জ), ২৩ জুন : উপজেলার হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যার অনুপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০০ জন। তবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জনেরও কম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু শ্রেণিতে ২২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২০ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৪ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে বালক ৫১ জন ও বালিকা ৪৯ জন। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। প্রধান শিক্ষক ছাড়া বাকি পাঁচজনই নারী শিক্ষক।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি ভবন এবং প্রায় ৩৬ শতক জমি। শিক্ষকসংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম খান বলেন, “হরিশ্যামা গ্রামে আরও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একই এলাকায় একাধিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থী কিছুটা বেড়েছে।”
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিশ্যামা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকলেও উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট। বিশেষ করে শিমুলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫ জন। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শিক্ষক চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক পদায়ন হয়নি।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত বিবেচনায় শিক্ষক পুনর্বিন্যাস জরুরি। যেখানে শিক্ষার্থী কম, সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক রেখে এবং শিক্ষার্থী বেশি থাকা বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “চাইলেই যখন-তখন এক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা যায় না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে, যার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।” তবে শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতি এবং শিক্ষক চাহিদা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com