ল্যান্সিং, ৮ জুলাই : মিশিগানে পরজীবীজনিত রোগ সাইক্লোস্পোরিয়াসিস-এর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণের উৎস শনাক্তে জোরালো তদন্ত চালাচ্ছেন এবং যাদের পরীক্ষায় সাইক্লোস্পোরিয়াসিস শনাক্ত হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (MDHHS) তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৯৯২ জন সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। মাত্র দুই দিন আগেও, সোমবার সন্ধ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০৮।
রাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান জানান, এটি মিশিগানের ইতিহাসে পরজীবীজনিত এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি কাউন্টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য, উৎপাদক, সরবরাহকারী বা খাদ্যপণ্যকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য বিভাগ একটি বিশেষ ওয়েবপেজ চালু করেছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হালনাগাদ করা হবে।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ। এর প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়া, পেটে মোচড় বা ব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, অবসাদ এবং কখনো কখনো ওজন কমে যাওয়া। সাধারণত পরজীবী দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়।
যদিও রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো সংক্রমণের কোনো নির্দিষ্ট বা অভিন্ন উৎস শনাক্ত করতে পারেননি, তবুও রাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান মঙ্গলবার দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-কে জানান, তদন্তকারীরা সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট উৎসের কথা বলা যাচ্ছে না।"
মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (MDHHS) মুখপাত্র লাইনা স্টেবিন্স জানান, অতীতে জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি বড় প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু রোগী মিশিগানেও শনাক্ত হয়েছিলেন। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে রাজ্যে বছরে গড়ে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে আক্রান্ত হন। তিনি আরও বলেন, এই গড় পরিসংখ্যানে কোনো বড় প্রাদুর্ভাবের আক্রান্তদের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজছে মিশিগান
ডা. বাগদাসারিয়ান জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে কোনো কৃষিপণ্যের (যেমন শাকসবজি বা ফলমূল) সম্পর্ক থাকতে পারে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের কয়েকটি বড় প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত লেটুস, রাস্পবেরি, ধনেপাতা, পেঁয়াজ পাতা এবং স্নো-পি (এক ধরনের মটরশুঁটি)-এর মতো কৃষিপণ্যের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল।
এবারের সংক্রমণের উৎস বা কারণ শনাক্ত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় সাইক্লোস্পোরা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আক্রান্তদের কাছ থেকে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কী ধরনের খাবার খেয়েছেন, কোথায় খাবার গ্রহণ করেছেন এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
বাগদাসারিয়ান জানান, রাজ্যের রোগতত্ত্ববিদরা (এপিডেমিওলজিস্ট) এসব সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করছেন এবং সম্ভাব্য কোনো ‘সন্দেহজনক সূত্র’ বা অস্বাভাবিক মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো সাধারণ যোগসূত্র বা নির্দিষ্ট উৎস খুঁজে দেখা হচ্ছে। সেটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকা, রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান কিংবা কোনো বিশেষ ধরনের কৃষিপণ্যও হতে পারে। এ কারণে ব্যাপক পরিসরে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS)-এর মুখপাত্র লিন সাটফিন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য উৎপাদক, সরবরাহকারী বা কোনো বিশেষ ধরনের কৃষিপণ্যকে এই সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এক ইমেইল বার্তায় সাটফিন বলেন, “যাদের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিচ্ছে—বিশেষ করে হঠাৎ শুরু হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ রয়েছে—তাদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।”
ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতেও সাইক্লোস্পোরিয়াসিস এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার থেকে ২ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, “তবে এবারের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ শুধু মিশিগান রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (MDHHS) তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৯৯২ জন সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। মাত্র দুই দিন আগেও, সোমবার সন্ধ্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০৮।
রাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান জানান, এটি মিশিগানের ইতিহাসে পরজীবীজনিত এই রোগের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি কাউন্টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য, উৎপাদক, সরবরাহকারী বা খাদ্যপণ্যকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য বিভাগ একটি বিশেষ ওয়েবপেজ চালু করেছে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হালনাগাদ করা হবে।
সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ। এর প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন পানির মতো ডায়রিয়া, পেটে মোচড় বা ব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, অবসাদ এবং কখনো কখনো ওজন কমে যাওয়া। সাধারণত পরজীবী দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়।
যদিও রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো সংক্রমণের কোনো নির্দিষ্ট বা অভিন্ন উৎস শনাক্ত করতে পারেননি, তবুও রাজ্যের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান মঙ্গলবার দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-কে জানান, তদন্তকারীরা সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট উৎসের কথা বলা যাচ্ছে না।"
মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (MDHHS) মুখপাত্র লাইনা স্টেবিন্স জানান, অতীতে জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি বড় প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু রোগী মিশিগানেও শনাক্ত হয়েছিলেন। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে রাজ্যে বছরে গড়ে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে আক্রান্ত হন। তিনি আরও বলেন, এই গড় পরিসংখ্যানে কোনো বড় প্রাদুর্ভাবের আক্রান্তদের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজছে মিশিগান
ডা. বাগদাসারিয়ান জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে কোনো কৃষিপণ্যের (যেমন শাকসবজি বা ফলমূল) সম্পর্ক থাকতে পারে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের কয়েকটি বড় প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত লেটুস, রাস্পবেরি, ধনেপাতা, পেঁয়াজ পাতা এবং স্নো-পি (এক ধরনের মটরশুঁটি)-এর মতো কৃষিপণ্যের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল।
এবারের সংক্রমণের উৎস বা কারণ শনাক্ত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় সাইক্লোস্পোরা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আক্রান্তদের কাছ থেকে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কী ধরনের খাবার খেয়েছেন, কোথায় খাবার গ্রহণ করেছেন এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
বাগদাসারিয়ান জানান, রাজ্যের রোগতত্ত্ববিদরা (এপিডেমিওলজিস্ট) এসব সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করছেন এবং সম্ভাব্য কোনো ‘সন্দেহজনক সূত্র’ বা অস্বাভাবিক মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো সাধারণ যোগসূত্র বা নির্দিষ্ট উৎস খুঁজে দেখা হচ্ছে। সেটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকা, রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান কিংবা কোনো বিশেষ ধরনের কৃষিপণ্যও হতে পারে। এ কারণে ব্যাপক পরিসরে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS)-এর মুখপাত্র লিন সাটফিন জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য উৎপাদক, সরবরাহকারী বা কোনো বিশেষ ধরনের কৃষিপণ্যকে এই সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এক ইমেইল বার্তায় সাটফিন বলেন, “যাদের পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিচ্ছে—বিশেষ করে হঠাৎ শুরু হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ রয়েছে—তাদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।”
ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অতীতেও সাইক্লোস্পোরিয়াসিস এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার থেকে ২ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, “তবে এবারের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ শুধু মিশিগান রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।”
Source & Photo: http://detroitnews.com