কার্ডিফ, ১২ জুলাই: ব্রিটেনের রাজনীতিতে ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার রাইট অনারেবল রডরি মর্গান শুধু একটি নাম নন; আমৃত্যু ওয়েলসবাসীর জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে তিনি “ডিভলিউশনের জনক” হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।
তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওয়েলসের কার্ডিফ বে-তে সেনেড (পার্লামেন্ট) ভবন ও পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মাঝামাঝি স্থানে স্থাপিত রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য এখন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ১১ জুলাই দুপুর ১২টায় ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক মন্ত্রী জেইন এলিজাবেথ হাটের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, রডরি মর্গানের পরিবার-পরিজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়েলস পার্লামেন্টের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, সেনেড সদস্য হিউ টমাস, লেবার এমএস শাভ, লুইড হিউ ইরাঙ্কা-ডেভিস, কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল এবং রডরি মর্গান ট্রাস্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর দিলওয়ার আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
এই মহতী অনুষ্ঠানে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও মহিলা নেত্রী তাহমিনা খান, ‘রুপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়ান ফয়সাল, সৈয়দ জুয়েল রহমান, ভিপি সেলিম আহমেদ, আবুল কালাম মুমিনসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে দেখা যায় তাঁর প্রিয় কুকুর টেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেনেডের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সাধারণ পোশাকে এবং মাটির কাছাকাছি স্থাপন করা এই ভাস্কর্যটি তাঁর জনঘনিষ্ঠ ও অনাড়ম্বর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি বহন করছে।
অনুষ্ঠানে রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান বলেন, ভাস্কর্যটি কোনো উঁচু মঞ্চে নয়, বরং মাটির সমতলে স্থাপন করা হয়েছে; কারণ তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন নেতা।
সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড ভাস্কর্যটিকে “ডিভলিউশনের জনক”-এর স্থায়ী স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রডরি মর্গানের অবদান ছাড়া সেনেড আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।
ওয়েলসের পার্লামেন্টের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, ওয়েলশ ডিভলিউশনের শুরুর দিকের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রডরি মর্গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার এবং এই পদে দীর্ঘ নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়েলসের ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স বলেন, এটি শুধু ওয়েলসের জন্য নয়, মর্গান পরিবারের জন্যও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
লেবার এমএস শাভ তাজ রডরি মর্গানকে “শ্রমজীবী মানুষ ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের একজন প্রকৃত বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ল্লুইড হিউ ইরাঙ্কা-ডেভিস বলেন, “যারা কখনো রডরির সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি, তারাও তাকে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতোই অনুভব করতেন।”
রডরি মর্গান ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী বলেন, অবশেষে রডরি মর্গানের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্ভব হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, “আমরা ছোট ছোট অনুষ্ঠান, ডিনার এবং পুরো ওয়েলস থেকে আসা অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছি। এই উদ্যোগে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মানুষও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
দীর্ঘ আট বছরের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের পর অবশেষে ব্রিটেনের ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ও “ডিভলিউশনের জনক” রডরি মর্গানের ভাস্কর্য কার্ডিফে স্থাপিত হয়েছে। এ জন্য রডরি মর্গান ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস বাংলা নিউজের সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটির ছিল গভীর সম্পর্ক—যেন এক আত্মার আত্মীয়তা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। আমৃত্যু তিনি ওয়েলসবাসীর জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাহমিনা খান বলেন, রডরি মর্গান সবার সঙ্গে সমানভাবে আচরণ করতেন। “তিনি ছিলেন মানুষের মানুষ। তাঁর এই ভাস্কর্য কার্ডিফ বে-এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেবে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন।”
‘রুপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়ান ফয়সাল বলেন, “মানুষ রডরি মর্গানকে তাঁর চুল ও কণ্ঠস্বর দেখেই চিনতে পারত। অনেক সময় দেখা যেত, মানুষ রাস্তা পার হয়ে তাঁর কাছে এসে কথা বলছে। এটি ছিল তাঁর সঙ্গে সাধারণ মানুষের এক গভীর প্রাণের সম্পর্ক।”
রডরি মর্গানের ভাস্কর্যটি নকশা করেছেন জনপ্রিয় শিল্পী অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস, যার ওয়েলসের সঙ্গে রয়েছে গভীর শিকড়ের সম্পর্ক। তিনি এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে লিভারপুল ওয়াটারফ্রন্টে স্থাপিত হাঁটতে থাকা বিটলস ব্যান্ডের চার সদস্যের ভাস্কর্য, মোটরহেড ব্যান্ডের লেমির ভাস্কর্য এবং ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বড়দিনে শত্রুপক্ষের সৈন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের স্মারক ভাস্কর্য। রডরি মর্গানের এই ভাস্কর্যটি পাউইসের লানরহায়াডর-ইম-মখনান্টে অবস্থিত ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে নির্মাণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি সেনেডের (তৎকালীন নতুন ওয়েলশ অ্যাসেম্বলি) সদস্য হন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়েলসের জন্য পৃথক নীতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রডরি মর্গান তাঁর “ক্লিয়ার রেড ওয়াটার” নীতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। এই নীতির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় ওয়েলসকে নিজস্ব নীতি ও পথ অনুসরণে উৎসাহিত করেন। ১৯৯৯ সালে অল্প ব্যবধানে জনগণ ডিভলিউশনের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর নবগঠিত সেনেডকে স্থিতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করা রডরি মর্গান তাঁর সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১১ সালের অক্টোবরে তিনি সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন।
ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে আগতরা মত প্রকাশ করেন, রডরি মর্গানের এই ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর অবদান স্মরণ করিয়ে দেবে। একই সঙ্গে ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওয়েলসের কার্ডিফ বে-তে সেনেড (পার্লামেন্ট) ভবন ও পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মাঝামাঝি স্থানে স্থাপিত রডরি মর্গানের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য এখন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ১১ জুলাই দুপুর ১২টায় ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক মন্ত্রী জেইন এলিজাবেথ হাটের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, রডরি মর্গানের পরিবার-পরিজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়েলস পার্লামেন্টের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, সেনেড সদস্য হিউ টমাস, লেবার এমএস শাভ, লুইড হিউ ইরাঙ্কা-ডেভিস, কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল এবং রডরি মর্গান ট্রাস্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর দিলওয়ার আলীসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
এই মহতী অনুষ্ঠানে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর ও কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও মহিলা নেত্রী তাহমিনা খান, ‘রুপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়ান ফয়সাল, সৈয়দ জুয়েল রহমান, ভিপি সেলিম আহমেদ, আবুল কালাম মুমিনসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে দেখা যায় তাঁর প্রিয় কুকুর টেলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেনেডের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সাধারণ পোশাকে এবং মাটির কাছাকাছি স্থাপন করা এই ভাস্কর্যটি তাঁর জনঘনিষ্ঠ ও অনাড়ম্বর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিচ্ছবি বহন করছে।
অনুষ্ঠানে রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান বলেন, ভাস্কর্যটি কোনো উঁচু মঞ্চে নয়, বরং মাটির সমতলে স্থাপন করা হয়েছে; কারণ তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন নেতা।
সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড ভাস্কর্যটিকে “ডিভলিউশনের জনক”-এর স্থায়ী স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রডরি মর্গানের অবদান ছাড়া সেনেড আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারত না।
ওয়েলসের পার্লামেন্টের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, ওয়েলশ ডিভলিউশনের শুরুর দিকের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রডরি মর্গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার এবং এই পদে দীর্ঘ নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়েলসের ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স বলেন, এটি শুধু ওয়েলসের জন্য নয়, মর্গান পরিবারের জন্যও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
লেবার এমএস শাভ তাজ রডরি মর্গানকে “শ্রমজীবী মানুষ ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের একজন প্রকৃত বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ল্লুইড হিউ ইরাঙ্কা-ডেভিস বলেন, “যারা কখনো রডরির সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি, তারাও তাকে একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতোই অনুভব করতেন।”
রডরি মর্গান ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী বলেন, অবশেষে রডরি মর্গানের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্ভব হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, “আমরা ছোট ছোট অনুষ্ঠান, ডিনার এবং পুরো ওয়েলস থেকে আসা অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছি। এই উদ্যোগে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মানুষও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”
দীর্ঘ আট বছরের পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের পর অবশেষে ব্রিটেনের ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার ও “ডিভলিউশনের জনক” রডরি মর্গানের ভাস্কর্য কার্ডিফে স্থাপিত হয়েছে। এ জন্য রডরি মর্গান ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস বাংলা নিউজের সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিটির ছিল গভীর সম্পর্ক—যেন এক আত্মার আত্মীয়তা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। আমৃত্যু তিনি ওয়েলসবাসীর জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাহমিনা খান বলেন, রডরি মর্গান সবার সঙ্গে সমানভাবে আচরণ করতেন। “তিনি ছিলেন মানুষের মানুষ। তাঁর এই ভাস্কর্য কার্ডিফ বে-এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেবে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন।”
‘রুপসী ওয়েলসের কোলে ছোট এক বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক দেওয়ান ফয়সাল বলেন, “মানুষ রডরি মর্গানকে তাঁর চুল ও কণ্ঠস্বর দেখেই চিনতে পারত। অনেক সময় দেখা যেত, মানুষ রাস্তা পার হয়ে তাঁর কাছে এসে কথা বলছে। এটি ছিল তাঁর সঙ্গে সাধারণ মানুষের এক গভীর প্রাণের সম্পর্ক।”
রডরি মর্গানের ভাস্কর্যটি নকশা করেছেন জনপ্রিয় শিল্পী অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস, যার ওয়েলসের সঙ্গে রয়েছে গভীর শিকড়ের সম্পর্ক। তিনি এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে লিভারপুল ওয়াটারফ্রন্টে স্থাপিত হাঁটতে থাকা বিটলস ব্যান্ডের চার সদস্যের ভাস্কর্য, মোটরহেড ব্যান্ডের লেমির ভাস্কর্য এবং ১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বড়দিনে শত্রুপক্ষের সৈন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের স্মারক ভাস্কর্য। রডরি মর্গানের এই ভাস্কর্যটি পাউইসের লানরহায়াডর-ইম-মখনান্টে অবস্থিত ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে নির্মাণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি সেনেডের (তৎকালীন নতুন ওয়েলশ অ্যাসেম্বলি) সদস্য হন। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়েলসের জন্য পৃথক নীতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রডরি মর্গান তাঁর “ক্লিয়ার রেড ওয়াটার” নীতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। এই নীতির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় ওয়েলসকে নিজস্ব নীতি ও পথ অনুসরণে উৎসাহিত করেন। ১৯৯৯ সালে অল্প ব্যবধানে জনগণ ডিভলিউশনের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর নবগঠিত সেনেডকে স্থিতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করা রডরি মর্গান তাঁর সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১১ সালের অক্টোবরে তিনি সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন।
ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে আগতরা মত প্রকাশ করেন, রডরি মর্গানের এই ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর অবদান স্মরণ করিয়ে দেবে। একই সঙ্গে ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।