২৪ জুলাই মিশিগানের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আটজনের প্রাণহানির ঘটনায় ঘটনাস্থলে সাড়া দেয় স্থানীয় দমকল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/WOOD-TV
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ, ২৪ জুলাই : পশ্চিম মিশিগানের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রিভারসাইড ট্রেইলের ১৪৯০০ ব্লকের একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বাড়ির ভেতর থেকে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস জানান, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বাড়িতে প্রবেশ করে দমকলকর্মী ও তদন্তকারীরা আটজনকেই মৃত অবস্থায় পান। স্পার্কস বলেন, “নিহতদের কয়েকজনের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি বলেন, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার (মার্ডার-সুইসাইড) ঘটনা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, নিহতরা সবাই ওই বাড়ির বাসিন্দা। তবে প্রত্যেকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার কাজ এখনও চলছে।
আগুনের উৎস সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। স্পার্কস গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছি।" পাশাপাশি, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা তাও খতিয়ে দেখছেন। স্পার্কস বলেন, "পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের ধারণা, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছি না।"
পুলিশ বাইরের কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস জানান, বর্তমানে এমন কোনো সন্দেহভাজন নেই। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের প্রথমে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের ১৪৮তম এভিনিউ ও মার্কারি ড্রাইভ সংলগ্ন রিভারসাইড ট্রেইল এলাকায় পাঠানো হয়। তবে সে সময় তারা আগুনের কোনো উৎস খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন।
পরে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রিভারসাইড ট্রেইলের একটি বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার বিষয়ে একাধিক জরুরি ফোনকল আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরুরি সেবার যোগাযোগ রেকর্ডে বাড়িটিকে "ধোঁয়ায় পূর্ণ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি জানালা দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হতে দেখা যাওয়ার তথ্যও নথিভুক্ত রয়েছে। ঘটনার তদন্তে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশের অগ্নিকাণ্ড তদন্তকারী দলও সহায়তা করছে।
ক্যাপ্টেন স্পার্কস জানান, তার বিভাগের সদস্যরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘটনাস্থলে তদন্তে ব্যয় করেছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "যেকোনো এলাকাতেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ট্র্যাজেডি। এখানে দায়িত্ব পালন করা জরুরি সেবাকর্মীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড, গুলির ঘটনা এবং আটজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপ, ২৪ জুলাই : পশ্চিম মিশিগানের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের পর একই পরিবারের আট সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের কয়েকজনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রিভারসাইড ট্রেইলের ১৪৯০০ ব্লকের একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বাড়ির ভেতর থেকে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস জানান, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন বাড়িতে প্রবেশ করে দমকলকর্মী ও তদন্তকারীরা আটজনকেই মৃত অবস্থায় পান। স্পার্কস বলেন, “নিহতদের কয়েকজনের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি বলেন, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার (মার্ডার-সুইসাইড) ঘটনা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, নিহতরা সবাই ওই বাড়ির বাসিন্দা। তবে প্রত্যেকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার কাজ এখনও চলছে।
আগুনের উৎস সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। স্পার্কস গণমাধ্যমকে বলেন, "আমরা বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করছি।" পাশাপাশি, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা তাও খতিয়ে দেখছেন। স্পার্কস বলেন, "পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের ধারণা, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছি না।"
পুলিশ বাইরের কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন জেক স্পার্কস জানান, বর্তমানে এমন কোনো সন্দেহভাজন নেই। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের প্রথমে গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপের ১৪৮তম এভিনিউ ও মার্কারি ড্রাইভ সংলগ্ন রিভারসাইড ট্রেইল এলাকায় পাঠানো হয়। তবে সে সময় তারা আগুনের কোনো উৎস খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন।
পরে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রিভারসাইড ট্রেইলের একটি বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার বিষয়ে একাধিক জরুরি ফোনকল আসে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরুরি সেবার যোগাযোগ রেকর্ডে বাড়িটিকে "ধোঁয়ায় পূর্ণ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একটি জানালা দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হতে দেখা যাওয়ার তথ্যও নথিভুক্ত রয়েছে। ঘটনার তদন্তে অটোয়া কাউন্টি শেরিফ বিভাগের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশের অগ্নিকাণ্ড তদন্তকারী দলও সহায়তা করছে।
ক্যাপ্টেন স্পার্কস জানান, তার বিভাগের সদস্যরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘটনাস্থলে তদন্তে ব্যয় করেছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "যেকোনো এলাকাতেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ট্র্যাজেডি। এখানে দায়িত্ব পালন করা জরুরি সেবাকর্মীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড, গুলির ঘটনা এবং আটজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com