২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট গ্রেলিংয়ে অনুষ্ঠিত আর্টিলারি বা কামানের গোলাবর্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ক্যাম্প গ্রেলিংয়ের ওপর দিয়ে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্থগ’ (A-10 Warthog) যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছে/Alexis Rankin, Special To The Detroit News
ওয়াশিংটন, ৮ আগস্ট : মার্কিন সেনাবাহিনী মিশিগানের ‘ক্যাম্প গ্রেলিং’-কে একটি শীর্ষস্থানীয় সামরিক পরীক্ষামূলক কেন্দ্র (টেস্ট রেঞ্জ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুক্রবার সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল ঘোষণা করেন, ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরীক্ষার জন্য বেসরকারি অংশীদারদের কাছে কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা হবে।
মিশিগানের কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের দ্বিদলীয় প্রচেষ্টার পর গত ফেব্রুয়ারিতে পেন্টাগন উত্তর মিশিগানের ‘ন্যাশনাল অল-ডোমেইন ওয়ারফাইটিং সেন্টার’ (NADWC)-কে ড্রোন পরীক্ষার জন্য একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ঘোষিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী একটি ওয়েবসাইট চালু করছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে ড্রোনের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষণা, পরীক্ষা ও উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।
শুক্রবার ক্যাম্প গ্রেলিং পরিদর্শনের সময় ড্রিসকল এক বিবৃতিতে বলেন, “কোনো কোম্পানির কাছে ভালো কোনো ধারণা বা উদ্ভাবন থাকলে, তাদের সরঞ্জামটি কার্যকর—এটি প্রমাণ করার জন্য যেন একদল আইনজীবী নিয়োগ করতে বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির (প্রোগ্রাম অব রেকর্ড) ওপর নির্ভর করতে না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তাই আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি। এখন একটি মাত্র প্রবেশপথ বা ‘ফ্রন্ট ডোর’ রয়েছে—testrange.army.mil। সেখানে একজন প্রকৃত ব্যক্তি আপনাকে সহায়তা করবেন। আর এর অপর প্রান্তে রয়েছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিবেশ—যেমন প্রতিকূল আকাশসীমা (contested airspace), ব্যাহত সংকেত বা সিগন্যাল এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা।”
এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো নতুন প্রযুক্তি, সিস্টেম ও সরঞ্জাম পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত পরিবেশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ন্যাশনাল গার্ড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্যাম্প গ্রেলিংয়ে অবস্থিত। গ্রেট লেকসের বিশাল উন্মুক্ত জলভাগের কাছাকাছি এর কৌশলগত অবস্থানও কেন্দ্রটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নতুন এই উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত পাঁচটি স্থানের মধ্যে মিশিগানের ক্যাম্প গ্রেলিং অন্যতম। অন্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউটাহর ‘ডাগওয়ে প্রুভিং গ্রাউন্ড’, অ্যারিজোনার ‘ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ড’-এর আওতাধীন ‘ওয়েস্ট সিবোলা রেঞ্জ’ এবং মরক্কোর ‘আফ্রিকান মাল্টিডোমেইন ট্রেনিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টেশন সেন্টার’।
ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখার লক্ষ্যে পেন্টাগন একটি উদ্যোগ নেওয়ার পর মিশিগানের কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে দেশের নতুন ‘আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম’ (চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন) পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে ন্যাশনাল অল-ডোমেইন ওয়ারফাইটিং সেন্টারকে (NADWC) সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ওয়াটারসমিটের রিপাবলিকান মার্কিন প্রতিনিধি জ্যাক বার্গম্যান—যার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত ক্যাম্প গ্রেলিং—ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। শুক্রবার ঘোষিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মিশিগানের হলি এলাকার বাসিন্দা ও ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিসা স্লটকিন। এক বিবৃতিতে স্লটকিন বলেন, “এটি মিশিগানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়। সারা দেশের মাত্র চারটি স্থানের একটি হিসেবে আমাদের এই স্থানটি নির্বাচিত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরীক্ষা ও উৎপাদনে মিশিগানের ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
“ক্যাম্প গ্রেলিংকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রমের জন্য উন্মুক্ত করার অর্থ হলো—বিভিন্ন আকারের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও প্রকৌশলীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি মিশিগানে আসবে এবং তাদের প্রযুক্তি ও সিস্টেমগুলো এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করতে পারবে, যা বর্তমানে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে আমেরিকান সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) ও আমেরিকান কর্মীদের মাধ্যমেই।”
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে 'গ্রেট লেকস স্টেট' বা মিশিগানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে স্লটকিন বরাবরই জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের কয়েকজন কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন; এছাড়া ফোর্ড মোটর কোম্পানি ও জেনারেল মোটরস কোম্পানির মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com
ওয়াশিংটন, ৮ আগস্ট : মার্কিন সেনাবাহিনী মিশিগানের ‘ক্যাম্প গ্রেলিং’-কে একটি শীর্ষস্থানীয় সামরিক পরীক্ষামূলক কেন্দ্র (টেস্ট রেঞ্জ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুক্রবার সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল ঘোষণা করেন, ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরীক্ষার জন্য বেসরকারি অংশীদারদের কাছে কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করা হবে।
মিশিগানের কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের দ্বিদলীয় প্রচেষ্টার পর গত ফেব্রুয়ারিতে পেন্টাগন উত্তর মিশিগানের ‘ন্যাশনাল অল-ডোমেইন ওয়ারফাইটিং সেন্টার’ (NADWC)-কে ড্রোন পরীক্ষার জন্য একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করে। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ঘোষিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী একটি ওয়েবসাইট চালু করছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে ড্রোনের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষণা, পরীক্ষা ও উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।
শুক্রবার ক্যাম্প গ্রেলিং পরিদর্শনের সময় ড্রিসকল এক বিবৃতিতে বলেন, “কোনো কোম্পানির কাছে ভালো কোনো ধারণা বা উদ্ভাবন থাকলে, তাদের সরঞ্জামটি কার্যকর—এটি প্রমাণ করার জন্য যেন একদল আইনজীবী নিয়োগ করতে বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির (প্রোগ্রাম অব রেকর্ড) ওপর নির্ভর করতে না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “তাই আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি। এখন একটি মাত্র প্রবেশপথ বা ‘ফ্রন্ট ডোর’ রয়েছে—testrange.army.mil। সেখানে একজন প্রকৃত ব্যক্তি আপনাকে সহায়তা করবেন। আর এর অপর প্রান্তে রয়েছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরিবেশ—যেমন প্রতিকূল আকাশসীমা (contested airspace), ব্যাহত সংকেত বা সিগন্যাল এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা।”
এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো নতুন প্রযুক্তি, সিস্টেম ও সরঞ্জাম পরীক্ষার জন্য বিশেষায়িত পরিবেশ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ন্যাশনাল গার্ড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্যাম্প গ্রেলিংয়ে অবস্থিত। গ্রেট লেকসের বিশাল উন্মুক্ত জলভাগের কাছাকাছি এর কৌশলগত অবস্থানও কেন্দ্রটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নতুন এই উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত পাঁচটি স্থানের মধ্যে মিশিগানের ক্যাম্প গ্রেলিং অন্যতম। অন্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউটাহর ‘ডাগওয়ে প্রুভিং গ্রাউন্ড’, অ্যারিজোনার ‘ইউমা প্রুভিং গ্রাউন্ড’-এর আওতাধীন ‘ওয়েস্ট সিবোলা রেঞ্জ’ এবং মরক্কোর ‘আফ্রিকান মাল্টিডোমেইন ট্রেনিং অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টেশন সেন্টার’।
ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখার লক্ষ্যে পেন্টাগন একটি উদ্যোগ নেওয়ার পর মিশিগানের কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে দেশের নতুন ‘আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম’ (চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন) পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে ন্যাশনাল অল-ডোমেইন ওয়ারফাইটিং সেন্টারকে (NADWC) সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ওয়াটারসমিটের রিপাবলিকান মার্কিন প্রতিনিধি জ্যাক বার্গম্যান—যার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত ক্যাম্প গ্রেলিং—ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। শুক্রবার ঘোষিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মিশিগানের হলি এলাকার বাসিন্দা ও ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিসা স্লটকিন। এক বিবৃতিতে স্লটকিন বলেন, “এটি মিশিগানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়। সারা দেশের মাত্র চারটি স্থানের একটি হিসেবে আমাদের এই স্থানটি নির্বাচিত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরীক্ষা ও উৎপাদনে মিশিগানের ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
“ক্যাম্প গ্রেলিংকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রমের জন্য উন্মুক্ত করার অর্থ হলো—বিভিন্ন আকারের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ ও প্রকৌশলীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি মিশিগানে আসবে এবং তাদের প্রযুক্তি ও সিস্টেমগুলো এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করতে পারবে, যা বর্তমানে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে আমেরিকান সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) ও আমেরিকান কর্মীদের মাধ্যমেই।”
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে 'গ্রেট লেকস স্টেট' বা মিশিগানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে স্লটকিন বরাবরই জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানের কয়েকজন কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন; এছাড়া ফোর্ড মোটর কোম্পানি ও জেনারেল মোটরস কোম্পানির মতো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করেছে।
Source & Photo: http://detroitnews.com