ঢাকা, ৩১ আগস্ট : সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আরও যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করতে নবম জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে, যা ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বেতন বেড়েছে ১০০ শতাংশ।
নিচের গ্রেডে বেশি বেতন বৃদ্ধি
নতুন বেতনস্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে বৃদ্ধি ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ এবং ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ।
১৭তম গ্রেডে মূল বেতন ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক কম আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।
নতুন স্কেলে ১০ম গ্রেডের বেতন ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসরগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে OROP পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যবর্তী সময়ে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়বে।
এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিটি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন কেবল ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকার স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ভাতাগুলো ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। সরকারের মতে, পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ প্রশমিত করা সম্ভব হবে।
বিচার বিভাগে পৃথক বেতনস্কেল
জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। এ বেতনস্কেলও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এর জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থ বিভাগ জারি করবে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিধান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে, যা ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বেতন বেড়েছে ১০০ শতাংশ।
নিচের গ্রেডে বেশি বেতন বৃদ্ধি
নতুন বেতনস্কেলে ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেডে বৃদ্ধি ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ এবং ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ।
১৭তম গ্রেডে মূল বেতন ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক কম আয়ের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।
নতুন স্কেলে ১০ম গ্রেডের বেতন ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসরগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে OROP পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যবর্তী সময়ে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়বে।
এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিটি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন কেবল ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকার স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ভাতাগুলো ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। সরকারের মতে, পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ প্রশমিত করা সম্ভব হবে।
বিচার বিভাগে পৃথক বেতনস্কেল
জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। এ বেতনস্কেলও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এর জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থ বিভাগ জারি করবে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিধান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।