সঙ্গে করে যা আনবেন, সঙ্গে করেই নিয়ে যান

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিকচার্ড রকসে আবর্জনা নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা

আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস এই সপ্তাহে চ্যাপেল বিচ ব্যাককান্ট্রি বাথরুমে ফেলে রাখা আবর্জনার এই ছবি শেয়ার করেছে/ National Park Service

মুনিসিং/গ্র্যান্ড মারাইস, ৩১ আগস্ট : ‘পিকচার্ড রকস ন্যাশনাল লেকশোর’-এর কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে ক্যাম্পার ও হাইকারদের কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, লেকশোর এলাকায় তারা যে আবর্জনা তৈরি করবেন, তা অবশ্যই সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।
গত ২১ আগস্ট ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে ‘চ্যাপেল বিচ’-এর একটি পিট টয়লেটের (গর্তভিত্তিক শৌচাগার) ভেতরে পার্ক ব্যবহারকারীদের ফেলে যাওয়া আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়।
ফেসবুক পোস্টে এনপিএস জানায়, “সঙ্গে করে যা কিছু নিয়ে আসবেন, দয়া করে তা সঙ্গে করেই নিয়ে যাবেন।” সংস্থাটি আরও বলেছে, চলে যাওয়ার সময় খাবারের মোড়ক, বোতল, ফলের খোসা এবং অন্যান্য আবর্জনা অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে টয়লেট ভবনের ভেতরে ক্যান, প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিকের ব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, আবর্জনার স্তূপটি ছিল ঠিক সেই সতর্কবার্তা-সংবলিত সাইনবোর্ডের নিচে, যেখানে লেখা ছিল—“সঙ্গে করে যা কিছু নিয়ে আসবেন... তা সঙ্গে করেই নিয়ে যাবেন।” একই সঙ্গে সাইনবোর্ডে টয়লেটের ভেতরে আবর্জনা না ফেলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
পার্ক কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার এবং নিজেদের তৈরি আবর্জনা সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকা (ব্যাককান্ট্রি) হওয়ায় এসব স্থানে কর্মী ও বিভিন্ন পরিষেবার সুযোগ সীমিত। ফলে, “আপনি যা ফেলে যান, তার প্রভাব এখানে অনেক বেশি পড়ে।” চ্যাপেল বিচসহ এ ধরনের দুর্গম এলাকায় শৌচাগারগুলোতে টয়লেট পেপার বা আবর্জনা ফেলার পাত্র (ডাস্টবিন) রাখারও ব্যবস্থা নেই।
পার্ক কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘ভল্ট’ বা ‘পিট’ টয়লেটে কোনো ধরনের আবর্জনা ফেলা উচিত নয়। কারণ, এসব শৌচাগার কেবল মানুষের মলমূত্র বা মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, “আবর্জনা পাম্পিংয়ের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ব্যাহত করার পাশাপাশি ক্ষতিও করতে পারে। এতে রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা তৈরি হয়।”
কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, “বন্যপ্রাণীকে বন্যই থাকতে দিন। আপনার খাবার নিরাপদে সংরক্ষণ করুন এবং সব ধরনের বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ করুন।”
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “আগাম পরিকল্পনা করে এবং ‘লিভ নো ট্রেস’—অর্থাৎ প্রকৃতিতে কোনো চিহ্ন না রাখার—এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি আমাদের দুর্গম এলাকার শৌচাগারগুলো খোলা, সচল এবং সবার ব্যবহারের উপযোগী রাখতে সহায়তা করবেন।”

'পিকচার্ড রকস' (Pictured Rocks) কোথায় অবস্থিত?
লেক সুপিরিয়রের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বেলেপাথরের সুউচ্চ ক্লিফই ‘পিকচার্ড রকস ন্যাশনাল লেকশোর’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। আপার পেনিনসুলার মুনিসিং (Munising) থেকে গ্র্যান্ড মারাইস (Grand Marais) পর্যন্ত বিস্তৃত এই লেকশোরে রয়েছে বালিয়াড়ি, অভ্যন্তরীণ হ্রদ, গভীর বন, জলপ্রপাত, সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিকভাবে অক্ষত উপকূলরেখা। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে ক্যাম্পিং, হাইকিং, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনসহ নানা ধরনের বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। লেকশোরের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাস বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।
‘পিকচার্ড রকস’ ভ্রমণতালিকায় অন্যতম আকর্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১৫টি দর্শনীয় স্থানের তালিকায় ‘পিকচার্ড রকস ন্যাশনাল লেকশোর’ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। বাড়ি ও পোষ্য পরিচর্যা-ভিত্তিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাস্টেডহাউসসিটার্স’ (TrustedHousesitters) পরিচালিত এক র‍্যাঙ্কিংয়ে এ স্থান পেয়েছে পিকচার্ড রকস।
‘ট্রাস্টেডহাউসসিটার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পাঁচটি স্থানের মধ্যে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে গুগল সার্চের সংখ্যার দিক থেকে পিকচার্ড রকস ছিল সবচেয়ে নিচে—প্রায় ৪০,৫০০ বার। তবে ‘ইয়েলপ’ (Yelp)-এ ৫-এর মধ্যে ৪.৮ রেটিং এবং ১০০-এর মধ্যে ৫৫.৫ চূড়ান্ত স্কোর পাওয়ায় সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসে।

পার্কটির নাম কেন 'পিকচার্ড রকস' রাখা হয়েছে?
লেক সুপিরিয়রের দক্ষিণ তীরজুড়ে প্রায় ১৫ মাইল বিস্তৃত বহু রঙের বেলেপাথরের পাহাড় বা খাড়া ক্লিফ থেকেই পার্কটির ‘পিকচার্ড রকস’ নামকরণ হয়েছে। পাহাড়ের গায়ে বিভিন্ন খনিজের রেখা ও স্তর রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি করেছে নানা রঙের মনোমুগ্ধকর আবহ।
লেক সুপিরিয়রের জলপথে নৌকা বা কায়াক (kayak) থেকে এসব বেলেপাথরের ক্লিফ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। তবে স্থলভাগের বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থান থেকেও এর কিছু অংশ উপভোগ করা সম্ভব।
‘গ্র্যান্ড সেবল ব্যাংকস’ (Grand Sable Banks) প্রায় ৪ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত একটি চিত্তাকর্ষক বালিয়াড়ি। ধারণা করা হয়, প্রায় ১০ হাজার বছর আগে শেষ হিমবাহ যুগের সময় এটি গঠিত হয়। এই মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যের পাশাপাশি এখানে রয়েছে অভ্যন্তরীণ হ্রদ, নয়নাভিরাম জলপ্রপাত এবং মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বালুময় সৈকত।

'পিকচার্ড রকস'-এ প্রবেশের পাসের মূল্য কত?
সাধারণ পাসের মূল্য ১৫ থেকে ২৫ ডলার।
বার্ষিক পাসের মূল্য ৪৫ ডলার এবং 'আমেরিকান দ্য বিউটিফুল' (American the Beautiful) পাসের ক্ষেত্রে মূল্য বিনামূল্যে থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

অনলাইনে পাস কেনার পাশাপাশি, স্থানীয় যেসব দোকানে এই পাস পাওয়া যায় সেগুলো হলো:
আলজার কাউন্টি হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি (Alger County Historical Society) – ১৪৯৬ ওয়াশিংটন স্ট্রিট, মুনিসিং • ৯০৬-৩৮৭-৪৩০৮
ডাউন উইন্ড স্পোর্টস মুনিসিং (Down Wind Sports Munising) - ১১৪ এলম এভিনিউ, মুনিসিং • ৯০৬-৩৮৭-৮০২০
এক্সপ্লোর মুনিসিং ভিজিটর সেন্টার - ৫০১ ই. স্টেট হাইওয়ে এম-২৮, মুনিসিং • ৯০৬-৩৮৭-৫৭১০
গ্র্যান্ড ম্যারেইস আউটফিটার্স - এন১৪২৭৭ লেক এভিনিউ, গ্র্যান্ড ম্যারেইস • ৯০৬-৪৯৪-৩৩৩৩
পিকচার্ড রকস ইন্টারপ্রিটিভ সেন্টার - ১০০ ডব্লিউ. মুনিসিং এভিনিউ, মুনিসিং • ৯০৬-৩৮৭-১৯০০
সাউথ বে আউটফিটার্স - ১২০ ই. সুপিরিয়র স্ট্রিট, মুনিসিং • ৯০৬-৩৮৭-৪০০৪
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

সম্পাদকীয় :

চিনু মৃধা : সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

সম্পাদক ও প্রকাশক : চিন্ময় আচার্য্য, নির্বাহী সম্পাদক : কামাল মোস্তফা, সহযোগী সম্পাদক : আশিক রহমান,

বার্তা সম্পাদক : তোফায়েল রেজা সোহেল, ফিচার এডিটর : সৈয়দ আসাদুজ্জামান সোহান, স্টাফ রিপোর্টার : মৃদুল কান্তি সরকার।

অফিস :

22021 Memphis Ave Warren, MI 48091

Phone : +1 (313) 312-7006

Email : [email protected]

Website : www.suprobhatmichigan.com