ডেট্রয়েট, ৫ সেপ্টেম্বর : শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে ‘ডেট্রয়েট নিউজ’-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিশিগানের হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা গত বছরের তুলনায় এ বছর ‘স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট’ (SAT)-এ কম নম্বর পেয়েছে।
গত বসন্তে SAT পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জুনিয়র শিক্ষার্থীদের (সাধারণত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী) রাজ্যব্যাপী গড় সম্মিলিত স্কোর এ বছর প্রায় ৯ পয়েন্ট কমে ৯৪৫.১-এ নেমে এসেছে। গত বছর স্কোর কমার ধারায় সাময়িক বিরতি দেখা গেলেও, কয়েক বছর ধরেই মিশিগানে গড় SAT স্কোর নিম্নমুখী।
রাজ্যটির গড় সম্মিলিত স্কোর ২০২২ সালে ৯৫৯.৯, ২০২৩ সালে ৯৫৮.৪, ২০২৪ সালে ৯৪৫ এবং ২০২৫ সালে ৯৫৪ ছিল। জাতীয়ভাবে স্বীকৃত এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের গণিত, পঠন ও লিখন দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। SAT-এর সর্বোচ্চ সম্ভাব্য স্কোর ১,৬০০।
মিশিগানের শিক্ষার্থীরা গণিতের তুলনায় পঠন ও লিখন অংশে তুলনামূলক ভালো করেছে। ২০২৬ সালে রাজ্যের গড় ইংরেজি স্কোর ছিল ৪৮৫, যা গত বছরের ৪৯০.১-এর চেয়ে প্রায় পাঁচ পয়েন্ট কম। একই সময়ে গণিতে গড় স্কোর ৪৬০.১, যা ২০২৫ সালের ৪৬৩.৮-এর চেয়ে প্রায় চার পয়েন্ট কম।
কোভিড-১৯ মহামারির পর মিশিগানের SAT স্কোরে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০১৯ সালে, মহামারির আগে, রাজ্যব্যাপী গড় সম্মিলিত স্কোর ছিল ৯৮৫.১। ২০২৬ সালের স্কোরের তুলনায় এটি প্রায় ৪০ পয়েন্ট বেশি।
২০১৬ সালে SAT পুনর্গঠনের পর থেকেই মিশিগানের গড় স্কোর জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে। ২০২৫ সালে জাতীয় গড় স্কোর ছিল ১,০২৯, যেখানে মিশিগানের গড় ছিল ৯৫৪—অর্থাৎ দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৭৫ পয়েন্ট।
SAT পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কলেজ বোর্ড’ এখনও ২০২৬ সালের জাতীয় গড় স্কোর প্রকাশ করেনি। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গড় প্রকাশ করে। মিশিগানের মতো গত এক দশকে জাতীয় পর্যায়েও SAT-এর সম্মিলিত গড় স্কোর কমেছে।
সর্বোচ্চ স্কোরকারী হাই স্কুলসমূহ
রাজ্যের সর্বোচ্চ SAT স্কোরধারী দুটি হাইস্কুলই মেট্রো ডেট্রয়েট এলাকায় অবস্থিত। দুটিই ‘ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি’র অন্তর্ভুক্ত—একটি ওকল্যান্ড কাউন্টিতে এবং অন্যটি ম্যাকম্ব কাউন্টিতে। টানা চতুর্থ বছরের মতো স্কুল দুটি যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। তবে উভয় স্কুলেরই এ বছর সম্মিলিত গড় স্কোর কমেছে।
ওকল্যান্ড স্কুলস-এর ইন্টারমিডিয়েট ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি (ট্রয়) ১,৩০১.৮ স্কোর নিয়ে আবারও রাজ্যের শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। তবে গত বছরের ১,৩৩৫.৩ স্কোরের তুলনায় এ বছর তাদের গড় স্কোর ৩৩.৫ পয়েন্ট কমেছে।
অন্যদিকে, চিপ্পেওয়া ভ্যালি স্কুলস-এর অন্তর্ভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ম্যাকম্ব ১,২৪১.৮ স্কোর নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। গত বছর স্কুলটির গড় স্কোর ছিল ১,২৮৭.৭; অর্থাৎ এ বছর স্কোর কমেছে ৪৫.৯ পয়েন্ট।
‘নভি কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত নভি হাই স্কুল ১,১৮৭.৪ গড় সম্মিলিত স্কোর নিয়ে এ বছর রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। গত বছর স্কুলটির অবস্থান ছিল অষ্টম।
ওয়াশটেনাও ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল ১,১৮৫.৭ গড় সম্মিলিত স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। গত বছর পঞ্চম অবস্থানে থাকা স্কুলটি এবার এক ধাপ এগিয়েছে।
শীর্ষ ১০-এর বাকি স্কুলগুলো হলো—ট্রয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ট্রয় হাই স্কুল (১,১৮৪.৬), গ্র্যান্ড র্যাপিডস পাবলিক স্কুলের সিটি হাই মিডল স্কুল (১,১৭৯.৭), সাগিনাও স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সাগিনাও আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস একাডেমি (১,১৭৮.৭), ফরেস্ট হিলস পাবলিক স্কুলের সেন্ট্রাল হাই স্কুল (১,১৫৮.৭), ইস্ট গ্র্যান্ড র্যাপিডস পাবলিক স্কুলের ইস্ট গ্র্যান্ড র্যাপিডস হাই স্কুল (১,১৫৬.১) এবং অ্যান আরবার পাবলিক স্কুলের পাইওনিয়ার হাই স্কুল (১,১৫২.৩)।
জনমিতিগত পার্থক্য
জাতীয় পর্যায়ের মতো মিশিগানেও শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয়, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে SAT স্কোরে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। সবচেয়ে বড় ব্যবধান দেখা গেছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। তারা রাজ্যের সামগ্রিক গড় স্কোরের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০০ পয়েন্ট কম পেয়েছে।
আর্থিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের গড় স্কোরও রাজ্যের সামগ্রিক গড়ের তুলনায় ৮৫.৬ পয়েন্ট কম ছিল।
মিশিগানে আমেরিকান ইন্ডিয়ান/আলাস্কা নেটিভ এবং নেটিভ হাওয়াইয়ান/প্যাসিফিক আইল্যান্ডার শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যান্য সব জাতি ও জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত SAT স্কোর এ বছর কমেছে। এর বিপরীতে, আমেরিকান ইন্ডিয়ান/আলাস্কা নেটিভ শিক্ষার্থীদের গড় স্কোর প্রায় ৮ পয়েন্ট এবং নেটিভ হাওয়াইয়ান/প্যাসিফিক আইল্যান্ডার শিক্ষার্থীদের গড় স্কোর প্রায় ৩ পয়েন্ট বেড়েছে।
কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক, আমেরিকান ইন্ডিয়ান/আলাস্কা নেটিভ, নেটিভ হাওয়াইয়ান/প্যাসিফিক আইল্যান্ডার এবং একাধিক জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের গড় সম্মিলিত স্কোর এখনও রাজ্যের সামগ্রিক গড়ের নিচে। বিপরীতে, শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় শিক্ষার্থীরা রাজ্যের গড় স্কোরের তুলনায় যথাক্রমে ৩১ ও ১৮১.৯ পয়েন্ট বেশি পেয়েছে।
সম্মিলিত SAT পরীক্ষায় মেয়েরা গড়ে ছেলেদের চেয়ে প্রায় ১১ পয়েন্ট এবং রাজ্যের সামগ্রিক গড়ের চেয়ে প্রায় ৫ পয়েন্ট বেশি স্কোর করেছে। তবে মেয়েদের ও ছেলেদের মধ্যে এই ব্যবধান ঐতিহাসিক মাত্রার তুলনায় কমেছে। ২০১৯ সালে মেয়েদের গড় সম্মিলিত SAT স্কোর ছেলেদের চেয়ে ২০ পয়েন্ট বেশি ছিল।
রাজ্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য
২০১৯ সালে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যের কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৬০ শতাংশের কোনো না কোনো ধরনের পোস্ট-সেকেন্ডারি ডিগ্রি বা সনদ থাকবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কলেজ শিক্ষার ব্যয় কমাতে রাজ্য-সমর্থিত বেশ কয়েকটি বৃত্তি কর্মসূচিও চালু করা হয়।
তবে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত SAT পরীক্ষার ফলাফলে ক্রমাগত নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে (English Language Arts) ‘দক্ষ’ হিসেবে বিবেচিত শিক্ষার্থীর হার গত বছরের ৫৫.৪ শতাংশ থেকে কমে এ বছর ৫২.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—৩.৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। অন্যদিকে, গণিতে ‘দক্ষ’ শিক্ষার্থীর হার কমলেও সেই পতন পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।
গত বছর একাদশ শ্রেণির ২৬.৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ও গণিত—উভয় বিষয়ে ‘দক্ষ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এ বছর উভয় বিষয়ে দক্ষ শিক্ষার্থীর হার রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। তবে সামগ্রিক ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে এ হারও কমে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিয়ারবর্ন পাবলিক স্কুলের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট এবং বর্তমান রাজ্য সুপারিনটেনডেন্ট গ্লেন ম্যালিকো বলেছেন, SAT পরীক্ষা “নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ”; তবে শিক্ষার্থীদের সাফল্য মূল্যায়নের আরও অনেক মাপকাঠি রয়েছে, যেখানে মিশিগান ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ‘ডুয়াল এনরোলমেন্ট’—একই সঙ্গে হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পড়াশোনা—এবং ‘অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট’ (AP) ক্লাসের প্রসারের কথা উল্লেখ করেন।
ম্যালিকো বলেন, “পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি মাত্র মাপকাঠি। আমি সবসময় বিষয়টিকে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখি এবং সেইসব শিক্ষার্থীর দিকে নজর দিই, যারা প্রকৃতপক্ষে সফল হয়েছে। ডিয়ারবর্নে আগে ৩,৮০০ শিক্ষার্থী ডুয়াল এনরোলমেন্ট কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। তাদের সহায়তায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে তারা কলেজ পর্যায়ে অত্যন্ত সফল হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সুতরাং হ্যাঁ, আমাদের উন্নতির প্রয়োজন আছে এবং পরীক্ষার ফলাফলও সেই প্রয়োজনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আমরা এটাও জানি যে, অনেক শিক্ষার্থী কলেজে সফল হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়গুলোকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। আমি সবসময়ই বলি, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য তাদের সামনে একাধিক বিকল্প ও সুযোগ রাখা জরুরি।”
কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে মিশিগানের কোনো পাবলিক কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে SAT স্কোর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাদের SAT স্কোর জমা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃত্তির জন্যও এই স্কোর ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষা কর্মকর্তারা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan
