আমেরিকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পন্টিয়াকে গুলিতে ৩ বছরের শিশু নিহত যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি উৎপাদন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইউএডব্লিউ প্রেসিডেন্ট ভিন্নমত থাকবে, দেশের স্বার্থে ঐকমত্যও থাকতে হবে : রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি  মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ‘ফ্লক’ ক্যামেরা নিয়ে মেট্রো ডেট্রয়েটে বাড়ছে মতভেদ মিশিগানে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ১১ জন ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু ১২ নভেম্বর বাইডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্গমন বিধি বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন দুর্গোৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে : রাষ্ট্রপতি ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ রচেস্টারে স্কুল ক্যাম্পাসে ই-বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ওয়াটারফোর্ডে নারীর সামনে অশ্লীল আচরণ, স্টার্লিং হাইটসের ব্যক্তি গ্রেপ্তার মিশিগানে কবে নামবে প্রথম তুষার? জানুন সম্ভাব্য তারিখ মিশিগানে দেখা মিলেছে বিরল ‘ওয়ান্ডারিং ট্যাটলার’ এমএসইউর সাবেক চিকিৎসক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে ফেরানোর চেষ্টা চলছে : গোলাম পরওয়ার শ্রদ্ধা ও স্মরণে মেট্রো ডেট্রয়েটে ৯/১১-এর ২৫ বছর ডেট্রয়েটে একই দিনে দুই হত্যাকাণ্ড: অভিযুক্ত খালাস

এই গল্পের শেষ নেই, ফোবানার পরের অধ্যায় হিউস্টনে

  • আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ১১:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন
এই গল্পের শেষ নেই, ফোবানার পরের অধ্যায় হিউস্টনে
লস অ্যাঞ্জেলেস, ১৬ সেপ্টেম্বর : গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা। ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি আকারের কক্ষে বসেছিল ফোবানা অ্যালামনাইয়ের মিলনমেলা। আগের রাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে সকালে অনেকেরই ঘুম ভাঙতে কিছুটা দেরি হচ্ছিল। ফলে অ্যালামনাইয়ের চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সাত্তারের মধ্যেও ছিল কিছুটা উৎকণ্ঠা—কেমন হবে সকালের এই আয়োজন, কতজনই বা সময়মতো উপস্থিত হবেন?
আগের দিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাশতার অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আমার দেখা। বললেন, “নাশতা এখন থেকেই নিচ্ছি।” আমি বললাম, “নেন, ভালোই হবে।” তিনি তখন বললেন, “নিউজ করেন।” তাঁর অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সবাইকে অনুষ্ঠানের খবর জানানো হলো।
শনিবার সকাল পৌনে ১০টা। সবাই সময়মতো আসার কথা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত হতে বেশির ভাগেরই কিছুটা দেরি হলো। শেষ পর্যন্ত সকাল ১০টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ফোবানা অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অ্যালামনাইয়ের চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সাত্তার। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ে মাহবুব রহিমের ওপর। সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটিকে জমিয়ে তোলেন।
একপর্যায়ে সবাই নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ—রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ড. জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল, ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ ও মিসেস নার্গিস।
মঞ্চের বাইরেও হলরুমের বিভিন্ন প্রান্তে ফোবানার সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ অ্যালামনাইয়ের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মাহবুব রহিমের সহজ-সরল, প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর।
এরপর শুরু হয় ফোবানায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকা সদস্যদের স্মৃতিচারণ। যারা ৩৩-৩৪ বছর ধরে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত, প্রথমে তাদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর ৩২ বছর, ৩০ বছর—এভাবে সিনিয়র সদস্যরা একে একে তুলে ধরতে থাকেন ফোবানার সঙ্গে তাদের দীর্ঘ পথচলার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও নানা স্মৃতির গল্প।
ফোবানার সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন ডিউক খান ও দিলু মওলা। একইসঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির ও নুরুল আমিন নুরু।
কথা বলেন মিসেস নুরু ও নাহিদা নাসের ইয়ামিন। নাহিদা নাসের ইয়ামিন বলেন, ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার শক্তি জোগায়। ফোবানার সবাই তাকে যে সম্মান ও ভালোবাসা দেন, সেটিই তাকে সবসময় ফোবানার সঙ্গে থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
ডিউক খান বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকাকালীন ফোবানার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শুরু। বর্তমানে আটলান্টায় বসবাস করলেও ফোবানার সঙ্গে তার সম্পর্কের বয়স সাড়ে তিন দশকের। জসিম উদ্দিনও তুলে ধরেন ফোবানার সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা এবং আটলান্টায় একাধিক ফোবানা আয়োজনের স্মৃতি।
হাসমত মোবিন স্মৃতিচারণ করেন কীভাবে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও ফোবানার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
নুরুল আমিন নুরু বলেন, তিনি সবসময় পরিবার নিয়ে ফোবানার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একসময় রাতে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় তার স্ত্রী ও মিসেস করিম কীভাবে বাড়ি থেকে ভাত-তরকারি রান্না করে নিয়ে আসতেন, সেই স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। তাদের এই অবদানের কথা মাহবুব রহিমও অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেন। পরে মিসেস নুরু ও মিসেস করিম নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাদের সম্মানিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এদিকে ফোবানা অ্যালামনাইয়ের এই গেট-টুগেদারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলে অবস্থানরত ফোবানার অনেকেই হলরুমে এসে যোগ দেন। একসময় বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ারও পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেককে দাঁড়িয়ে থেকেই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ত সঞ্চালক মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনকে ঘিরে চলমান উত্তাপের প্রসঙ্গও রসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেন। তার কথায় হাসির রোল পড়ে যায় পুরো হলরুমে।
শিকাগোর মকবুল আলী, যাকে ফোবানার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তিনিও স্মৃতিচারণ করেন। তিনি কীভাবে সফলভাবে ফোবানা আয়োজন ও কনভেনশন সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফোবানার সঙ্গে তিনি আছেন, ফোবানাকে ভালোবাসেন—তবে কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশা তার নেই।
এরই মধ্যে ঘড়ির কাঁটা দুপুর ১২টা পেরিয়ে যায়। তখনও নাশতা এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু এতে কারও আগ্রহে ভাটা পড়েনি। ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুই ও তিন দশক ধরে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা একের পর এক তাদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা বলে যাচ্ছিলেন।
আটলান্টার আরেফিন বাবুলও তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বছরের পর বছর এজিএমে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নিজের বক্তব্যে কোনো ভুল হয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
দীর্ঘ আট বছর পর ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে ফোবানা অ্যালামনাই আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠায় উপস্থিত সবাই তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের মতে, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আবারও একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের মিসেস নার্সিস আহমেদ এবং নিউজার্সির ফারুক আহমদও ফোবানার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণ করেন। তাদের কথায় উঠে আসে ফোবানার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা আনন্দ-বেদনা, বন্ধুত্ব, সাংগঠনিক পথচলা এবং প্রবাসজীবনের অসংখ্য স্মৃতি।
নাশতার সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু গল্প থামে না। মাহবুব রহিম যেন ছিলেন এই আড্ডার প্রাণ। রসিকতা আর মজার মজার কথায় তিনি সবাইকে আটকে রাখেন। সবার জন্য ছিল চায়ের ব্যবস্থা। আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্ট থেকে নাশতা আসতে দেরি হচ্ছিল, আর সেই ফাঁকে কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।
ফোবানার বর্তমান চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল এবং নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহিরও তুলে ধরেন তাদের পথচলার গল্প। নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবির আলমগীর জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তিনি ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অবশেষে সোয়া ১২টার দিকে ড. আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাশতা এসে পৌঁছায়। তখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০০ জন। সবাইকে টেবিলে নাশতা পরিবেশন করা হয়। তবে নাশতা পরিবেশন শুরু হলেও স্মৃতিচারণ থেমে থাকেনি।
সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন ফোবানার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মাত্র দুই বছর। তাকে কিছু বলতে অনুরোধ করা হলে তিনি হেসে জানান, এখন কিছু বলার সুযোগ নেই—কারণ সবাই নাশতার অপেক্ষায় ছিলেন, কথা বললে কেউ আর শুনবেন না! তার এই রসিকতায় আবারও হাসিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
এভাবেই একের পর এক স্মৃতির নাটক চলতে থাকে। কথার ভাঁজে ভাঁজে উঠে আসে ফোবানাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আনন্দ-বেদনা এবং ভালোবাসার নানা গল্প। সেই আড্ডায় যেন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে ফোবানার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের দীর্ঘদিনের এক অটুট বন্ধন।
৪১তম ফোবানার আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান পাবেল আহমদ। তিনি ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষণাও দেন এবং ১০০ ডলার করে পরিশোধ শুরু করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে ৪১তম ফোবানায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
মাহবুব ভূঁইয়া উপস্থিত সবাইকে বিজনেস লাঞ্চে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
সমাপনী বক্তব্যে ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানার কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ফোবানাকে ঘিরে ইতিবাচক সংবাদ ও প্রচারণা সংগঠনটিকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে ফোবানা অ্যালামনাই আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ ফোবানার ভবিষ্যৎ পথচলায় সহায়ক হবে।
প্রায় দুই ঘণ্টার এই অ্যালামনাই ব্রেকফাস্ট মিটিং শেষ পর্যন্ত কেবল একটি নাশতার আয়োজন হয়ে থাকেনি; বরং তা পরিণত হয়েছিল স্মৃতিরোমন্থন, হাসি-আড্ডা, পুরোনো সম্পর্কের পুনর্মিলন এবং ফোবানাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার এক আবেগঘন আয়োজনে।
সবাই যেন একই সুরে বলেন—ভালোবাসেন ফোবানাকে। ফোবানার সঙ্গে পথ চলতে চলতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে উঠেছে; তারাও এখন বাবা-মায়ের হাত ধরে ফোবানার অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেছে। এ যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ভালোবাসা ও সম্পৃক্ততার উত্তরাধিকার।
ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম বলেন, “ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। অনেকেই এসেছেন, আবার অনেকেই চলে গেছেন। কিন্তু আমরা ফোবানাকে ভালোবেসেই আছি।”
ফোবানার একাধিক কনভেনশনের কনভেনর জি আই রাসেলও তুলে ধরেন তার দীর্ঘদিনের পথচলার কথা। রাসেল বলেন, বিভিন্ন কারণে গত পাঁচ বছর তাকে ফোবানার কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হলেও তিনি কখনোই মূল ফোবানা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। কেন তাকে বাইরে রাখা হয়েছিল, তার কারণ তিনি জানেন না। তবে এখন আর সেটি জানতেও চান না। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশেই থাকতে চান এবং ফোবানার সঙ্গেই থাকতে চান।
প্রায় ৪০ বছরের ফোবানার পথচলায় এখনও এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা ৩৩ কিংবা ৩৪টি কনভেনশনে অংশ নিয়েছেন। তাদের স্মৃতির ভাণ্ডার যেন অফুরন্ত। সেই সময় উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আজকের মতো এত মানুষ বা সংগঠন ছিল না। কিছু স্বপ্নবান মানুষকে নিয়েই শুরু হয়েছিল ফোবানার পথচলা। তাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এই অ্যালামনাই মিটিংয়ের কক্ষে। তাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে সেই শুরুর দিনের নানা গল্প , আনন্দ, বন্ধুত্ব, সাফল্য, অভিমান আর ভালোবাসা। চার দশকের এই পথচলার সুখ-দুঃখের গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়।
আটলান্টার ডা. মানিক ও মিসেস মানিকও লস অ্যাঞ্জেলেস কমিউনিটির সবাই এবং ফোবানা পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন। তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং বিশেষ করে তাদের ছেলের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ জানান। মিসেস মানিক ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
ফোবানার কনভেনর ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে আছি। কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, ফোবানাকে ভালোবাসি বলেই আছি।” তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেসে চারটি ফোবানা আয়োজনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সবসময় সবাইকে নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, ফোবানার সবসময় ভালো চান। বিভাজনে বিশ্বাস করেন না; বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ফোবানার পথচলা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন।
ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একজন চ্যান্সেলর, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একসময় ফোবানার স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন ফোবানা পরিবারেরই একজন। তিনি বলেন, ফোবানা অনেক সুন্দর ও গুণী মানুষের মিলনমেলা। তিনি ফোবানার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
ফোবানা অ্যালামনাইয়ের গেট-টুগেদার ব্রেকফাস্টে আরও উপস্থিত ছিলেন নাহিদুল খান সাহেল, ড. প্রিয়লাল কর্মকার, খালেদ রউফ, মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান, মিম খান, সাম রিয়া, শামসুদ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর, এস আই জুয়েল, আবু রুমি, করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, আজমল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভূঁইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত, রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল, আব্দুল মোমিনসহ আরও অনেকে।
সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক ফোবানা সদস্য এই গেট-টুগেদারে অংশ নেন। অনেক পরিচিত মুখ সেখানে উপস্থিত থাকলেও সবার নাম এই মুহূর্তে মনে করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও জমজমাট।
অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সবার নাম জানা সম্ভব না হওয়ায় এ প্রতিবেদনে সবার নাম উল্লেখ করা যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের নাম ও পরিচয় যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রত্যাশা রইল।
দুই ঘণ্টার এই আয়োজন শেষ হলেও গল্প যেন শেষ হয়নি। চার দশকের ফোবানাকে ঘিরে জমে থাকা অসংখ্য স্মৃতি, না-বলা কথা আর অমীমাংসিত গল্প রয়ে গেল সেদিনের আড্ডায়। শেষ পর্যন্ত যেন একটি কথাই থেকে গেল—এই গল্পের বাকিটা শোনা হবে হিউস্টনে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
কমিউনিটির সেবায় অনুদান দিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র

কমিউনিটির সেবায় অনুদান দিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র