আমেরিকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক মিশিগানের অধিকাংশ ভোটার ট্রাম্পের কানাডা শুল্কের বিপক্ষে ১লা নভেম্বর ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে দুর্ঘটনায় মিশিগানের শীর্ষে ১৮½ মাইল-ভ্যান ডাইক সংকটে এমইডিসি, ছাঁটাই হচ্ছে ১৫% পর্যন্ত কর্মী গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ১৫৮ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তার যুবক সবুজ পেরিয়ে মিশিগানে এখন শরতের রঙের মেলা মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত মিশিগানে জ্বালানির দামে বড় উল্লম্ফন ওয়াটারফোর্ডে গুলিতে ২০ বছরের তরুণ নিহত, গ্রেপ্তার ২ অনলাইন জুয়ার ফাঁদে মিশিগান পন্টিয়াকে গুলিতে ৩ বছরের শিশু নিহত যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি উৎপাদন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ইউএডব্লিউ প্রেসিডেন্ট ভিন্নমত থাকবে, দেশের স্বার্থে ঐকমত্যও থাকতে হবে : রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি  মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ‘ফ্লক’ ক্যামেরা নিয়ে মেট্রো ডেট্রয়েটে বাড়ছে মতভেদ মিশিগানে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ১১ জন ৭ ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু ১২ নভেম্বর বাইডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্গমন বিধি বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন

মিশিগানের অধিকাংশ ভোটার ট্রাম্পের কানাডা শুল্কের বিপক্ষে

  • আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ১১:১১:০৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ১১:১১:০৫ পূর্বাহ্ন
মিশিগানের অধিকাংশ ভোটার ট্রাম্পের কানাডা শুল্কের বিপক্ষে
ওয়াশিংটন, ১৮ সেপ্টেম্বর : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের বিরোধিতা করছেন মিশিগানের ৬০ শতাংশের বেশি সম্ভাব্য ভোটার। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও শার স্কুলের নতুন এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রায় ৮০০ জনের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, শুল্ক ইস্যুতে দলীয় বিভাজনও স্পষ্ট। মিশিগানের ৮৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এই শুল্কের বিরোধিতা করছেন। বিপরীতে, ৫৬ শতাংশ রিপাবলিকান শুল্ককে সমর্থন করছেন।
স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও শুল্কের বিরোধিতা প্রবল। তাদের ৬৮ শতাংশ কানাডীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বিরোধিতা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বার্ষিক প্রায় ৭১৫ বিলিয়ন ডলারের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের প্রায় ৬ শতাংশ এই শুল্কের আওতায় পড়ছে। তবে মিশিগানে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজ্যের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের সঙ্গে কানাডার, বিশেষ করে অন্টারিওর, গভীরভাবে সংযুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে।
জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এপ্রিল ২০২৫-এ ট্রাম্পের আরোপ করা ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের জবাবে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়। এর আওতায় পড়ে অ্যালকোহল, দুগ্ধজাত পণ্যসহ কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য।
এর প্রতিক্রিয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক, কাগজজাত পণ্য ও বিভিন্ন গৃহস্থালি সরঞ্জাম। এর পরপরই ট্রাম্প ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কিছু কানাডীয় অ্যালকোহল, মোটরসাইকেল, মোলাসেস (গুড়ের সিরাপ) এবং অন্যান্য পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন।
মিশিগান গত বছর কানাডার সঙ্গে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বাণিজ্য করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, নাট-বোল্ট, স্টিয়ারিং হুইলের রডসহ বিভিন্ন ছোট যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপ করায় মিশিগানের বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তাও তৈরি হতে পারে।
মিশিগানের অটোমোবাইল শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘মিশ-অটো’ (MichAuto)-এর নির্বাহী পরিচালক গ্লেন স্টিভেনস বলেন, “এটি এমন এক উত্তেজনা বৃদ্ধি, যা আমাদের অর্থনীতিকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার চেয়ে দেশটির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করলেই আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী হব।”
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “মিশিগানের মতো আমেরিকার শিল্পপ্রধান রাজ্যগুলো কানাডাসহ অন্যান্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্যনীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ কারণেই এসব রাজ্যে তিনি বিপুল সমর্থন পেয়েছেন।”
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির শার স্কুলের জনমত জরিপেও মিশিগানের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর গুরুত্ব উঠে এসেছে। রাজ্যের প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে তাদের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের ভোটারদের কাছেই এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জীবনযাত্রার ব্যয়কে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা ভোটারদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৩৭ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
৩ নভেম্বর মিশিগানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কংগ্রেসনাল নির্বাচনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন অন্যতম। এই নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট’-এর বিশ্লেষণে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) চারটি আসনকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মিশিগানের সেক্রেটারি অব স্টেট ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জসেলিন বেনসন এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান জন জেমসের মধ্যে গভর্নর পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
নির্বাচনের আর মাত্র ছয় সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে, মিশিগানের সম্ভাব্য ভোটারদের ২৩ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তাদের আর্থিক বা সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিপরীতে, ৪৪ শতাংশ বলেছেন, তাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি।
রাজনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র বা ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। তাদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তারা আগের তুলনায় ভালো অবস্থায় নেই। বিপরীতে, ২০ শতাংশ বলেছেন, তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
চলতি বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য সফর করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরেছেন। এসব সাফল্যের মধ্যে রয়েছে আয়কর হ্রাস, শিশুদের জন্য নতুন বিনিয়োগ হিসাব এবং ব্যবসায়ী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, ওভারটাইম বেতন ও বকশিশের (টিপস) ওপর কর ছাড়। গত সপ্তাহে ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে আর্থিক ও অন্যান্য সব দিক বিবেচনায় এটিই ছিল সবচেয়ে সফল দুই বছর।”
তবে সাম্প্রতিক ভোক্তা জরিপগুলোতে অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের সেপ্টেম্বরের ভোক্তা জরিপে গ্রীষ্মে সাময়িক উন্নতির পর আবারও ভোক্তা আস্থা কমেছে। বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগামী এক বছরে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে ভোক্তাদের প্রত্যাশাও দুর্বল হয়েছে। অর্থনীতির বিষয়ে ভোক্তাদের আস্থা এখন ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম—অর্থাৎ ইরানের সাথে ট্রাম্পের সংঘাত শুরুর আগের সময়ের চেয়েও নিচে।
Source : http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
ঢাকায় মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক

ঢাকায় মসজিদে গোপন বৈঠক, ২৩ জন আটক