আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
I-696-এ স্বস্তি, ১২ অক্টোবর খুলছে পশ্চিমমুখী প্রায় সব র‍্যাম্প অটো শ্রমিকদের দূত হলেন ট্রাম্প-সমর্থক প্যানেবেকার ডেট্রয়েটে অরক্ষিত বন্দুকের গুলিতে ১১ বছরের শিশু আহত ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে স্মরণ ও বিক্ষোভ নানা পাটেকর আর নেই : শেষ হলো বলিউডের এক বর্ণময় অধ্যায় মর্টগেজ ও ট্যাক্স জালিয়াতিতে ওয়ারেনের নারীকে ৫১ মাসের কারাদণ্ড মিশিগানে চার সপ্তাহের শিশুর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন : বাবার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে বড় উল্লম্ফন, ৬ সপ্তাহে ৪০ জন মিশিগানে আগাম ভোটের জোয়ার, অ্যাবসেন্টি ব্যালট ২ লাখ ছাড়াল অ্যান আরবারের দুই স্কুলে বোমা হামলার হুমকি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি এল-সায়েদ-বেনসনের প্রচারণায় ডেট্রয়েটে আসছেন বারাক ওবামা ডেট্রয়েটে নিরাপদ গ্রীষ্ম, অপরাধের হার নিম্নমুখী মিশিগানে ভোটের মাঠে ফের নামছেন ট্রাম্প ইকরসে ট্রেনের ধাক্কায় শিশু নিহত, হাসপাতালে মা-মেয়ে মদ্যপ অবস্থায় ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে সংঘর্ষ,  ডেট্রয়েট পুলিশ কর্মকর্তার  বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন সমৃদ্ধির অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বার্মিংহামে নিজের গাড়ির নিচে  চাপা পড়ে শ্রমিক নিহত স্টার্লিং হাইটসে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন, নারী গ্রেপ্তার : উদ্দেশ্য খুঁজছে পুলিশ

৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে স্মরণ ও বিক্ষোভ

  • আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে স্মরণ ও বিক্ষোভ
অ্যান আরবারে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের বহু শিক্ষার্থী মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তারা ইসরায়েলকে বয়কট এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ প্রত্যাহারের দাবি জানান/Katy Kildee, The Detroit News 

অ্যান আরবার, ৮ অক্টোবর: ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বুধবার ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অ্যান আরবার ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী ও ইসরায়েলপন্থী শিক্ষার্থীরা। একদিকে ফিলিস্তিনপন্থীরা ইসরায়েল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের (ডিভেস্টমেন্ট) দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন, অন্যদিকে ইহুদি ও ইসরায়েলপন্থী শিক্ষার্থীরা হামলায় নিহতদের স্মরণে মিছিল ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
বুধবার বিকেলে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের সাউথ ইউনিভার্সিটি এভিনিউয়ের বাসভবনের বাইরে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজনের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা এবং অনেকের পরনে ছিল কেফিয়াহ। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ নীতি পরিবর্তন এবং ইসরায়েল থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পরে বুধবার সন্ধ্যায় ইহুদি শিক্ষার্থীরা অ্যান আরবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে স্মরণ-মিছিল করেন। এরপর র‍্যাকহাম ভবনের বাইরে আয়োজিত একটি স্মরণ অনুষ্ঠানে তারা অংশ নেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলা চালায়। ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাটি ইসরায়েলি সমাজে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষত তৈরি করে এবং এর পরই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক এবং কতজন হামাসের সদস্য ছিলেন, তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সর্বসম্মত হিসাব নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘাত কমিয়ে আনলেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, হামাসের অস্ত্রধারণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ পুরোপুরি নিরসন হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীতে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ-মিছিলে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। তাদের অনেকের হাতেই ছিল ইসরায়েলের ছোট পতাকা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার’ এবং ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ৭ অক্টোবরের হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অনুভূতি ও মতামত তুলে ধরেন।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পদযাত্রা ও স্মরণসভায় প্রায় ২০০ মানুষ অংশ নেন। মিশিগানের অ্যান আরবারে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ‘স্টুডেন্টস সাপোর্টিং ইসরায়েল’সহ কয়েকটি ইহুদি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে/Katy Kildee, The Detroit News 

ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘স্টুডেন্টস সাপোর্টিং ইসরায়েল’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি ড্যান ভিডারম্যান বলেন, হামলার পর ইসরায়েলের সমর্থনে কথা বলার সময় তার নিজের সহপাঠীরাই তার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার সহপাঠীরাই আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।”
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্টদের উদ্দেশে স্লোগান ওঠে, “রিজেন্টস, রিজেন্টস, আপনারা লুকাতে পারবেন না।” এর পাল্টা জবাবে অন্য পক্ষ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়, “আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নিয়া হলসহ বেশ কয়েকজন বক্তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট খাত থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
নিয়া হল বলেন, “আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার পক্ষে কথা বলাটাও কোনোভাবে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমার সঙ্গে একই ক্যাম্পাসে থাকা লোকজন আমাকে হেনস্থা ও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং মানুষের মর্যাদা থেকেও নিচে নামিয়ে আমার সঙ্গে আচরণ করেছে—শুধুমাত্র এ কারণে যে, আমি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছিলাম।” জনতার হর্ষধ্বনির মধ্যে তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলি বর্ণবাদ ও দখলদারিত্ব থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেসন মার্কাস দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-কে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা স্মরণ এবং এর প্রতি সংহতি জানাতে তিনি অন্যদের সঙ্গে ওই স্মরণসভায় অংশ নেন।
তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এটি ছিল পুরোদস্তুর একটি সন্ত্রাসী হামলা। আর আজ সবাই এখানে যেভাবে একত্রিত হয়েছে, তা আমাদের দৃঢ়তারই প্রমাণ।”
ক্যাম্পাসকে ঘিরে চলমান বিভাজন ও মতবিরোধের মধ্যে এবারের কর্মসূচিগুলো সর্বশেষ সংযোজন। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি তাঁবু-শিবির স্থাপন করে ইসরায়েল এবং সামরিক অস্ত্র-সংশ্লিষ্ট খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
প্রায় এক মাস পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিবিরটি সরিয়ে দেয়। পরে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেলের কার্যালয় কয়েকজন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যায়।
নেসেল পরে জানান, তার কার্যালয়ের আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা অপরাধ করেছেন কি না, সে সম্পর্কে বিচারকের সামনে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি বা ‘সম্ভাব্য কারণ’ (probable cause) প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশও দেওয়া হয়নি।
নেসেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি পরবর্তী সময়ে “তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু” হয়ে উঠেছিল।
ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এসব বিক্ষোভ ক্যাম্পাসে একটি বৈরী পরিবেশ তৈরি করেছে এবং তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রিজেন্টস এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি বারবার নাকচ করেছেন। তাদের যুক্তি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা বিনিয়োগের পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক এনডাউমেন্ট বা তহবিলের তুলনায় খুবই সামান্য।
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নিয়া হল জানান, ২০২৩ সালের শরৎকাল থেকেই তিনি ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, তার প্রতিবাদেই আমি আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেয়েছিলাম।”
Source & Photo: http://detroitnews.com
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটির জাতীয় সম্মেলন : কার্ডিফে প্রস্তুতি সভা

গ্রেটার সিলেট কমিউনিটির জাতীয় সম্মেলন : কার্ডিফে প্রস্তুতি সভা