উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয় জনপ্রিয় বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘হারান সেন শো’ দিয়ে। পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করা এ আয়োজনে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক শিল্পী। দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে উপস্থাপকের সরস গল্প, রসিকতা ও প্রাণবন্ত কথোপকথনে শুরু থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কিশোর শিল্পী আরুশ চৌধুরী স্যাক্সোফোন বাজিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর গানের ধাঁধা ও উপস্থাপকের রসালো কৌতুকের ফাঁকে ফাঁকে সংগীত পরিবেশন করেন নন্দিতা ঘোষ, শতাব্দী সেন, পৌষি ও শিশুশিল্পী দেবব্রত দত্ত। ভায়োলিনে ‘ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে’ গানের সুর তুলে দর্শকদের মুগ্ধ করে সামান্থা চৌধুরী। মৌমিতা চৌধুরীর কৌতুকধর্মী সংবাদ পাঠ অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা।

নৃত্য পরিবেশন করে শায়ন চৌধুরী, দিয়া দত্ত ও শ্রীজিতা দেব। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সঞ্জয় দেব ও শর্মিলা দেবের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা দর্শকদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করে।
পরবর্তী সাংস্কৃতিক পর্বে বিভিন্ন শিল্পীর গান ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশনা দলীয় ধামাইল। শর্মিলা দেব শর্মির নেতৃত্বে ‘সপ্ত সুরের রাগিনী’ এবং শ্রী জিতেন গোপের পরিবার ধামাইল পরিবেশন করে। ঐতিহ্যবাহী এ পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা।
এরপর শুরু হয় প্রাণবন্ত ‘ডান্ডিয়া’ নৃত্য। শিল্পীদের ছন্দময় পদক্ষেপ ও উৎসবমুখর পরিবেশনায় মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন আবহ। ধর্মীয় আচার, লোকজ সংস্কৃতি ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে মহাষ্টমীর আয়োজন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

উৎসবের অন্যতম পবিত্র ও আবেগঘন মুহূর্ত ছিল সন্ধিপূজা। এ সময় ভক্তরা ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। প্রদীপের আলো, প্রার্থনা ও ভক্তিময় পরিবেশে মন্দিরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবেশ। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মঙ্গলকামনায় ভক্তরা অংশ নেন এ পবিত্র আয়োজনে।
সবশেষে সমবেত ধামাইল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় মহাষ্টমীর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন।

নিজস্ব প্রতিনিধি :