দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) সাম্প্রতিক উপস্থিতির প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে আর্চবিশপ এডওয়ার্ড ওয়েসেনবার্গার (বামে)। ডানদিকে, আইসিইর কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে ডেট্রয়েটের ক্লার্ক পার্কে সমবেত বিক্ষোভকারীদের একাংশ। /Francis X. Donnelly, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ৩১ অক্টোবর : দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)-এর সাম্প্রতিক উপস্থিতির প্রতিবাদে আয়োজিত ক্যাথলিকদের সাপ্তাহিক প্রার্থনা সমাবেশে (ভিজিল) অংশ নিয়েছেন ডেট্রয়েট আর্চডায়োসিসের প্রধান ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ এডওয়ার্ড ওয়েসেনবার্গার।
গতকাল আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রায় ৫০ জনের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। হিস্পানিক-অধ্যুষিত এলাকার একটি সড়কের মোড়ে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঁড়ান আর্চবিশপ। তাঁর পরনে ধর্মীয় পোশাকের বিশেষ কলার ও বুকে ঝোলানো ক্রুশ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দিচ্ছিল।
ওয়েসেনবার্গার বলেন, এ এলাকায় আইসিইর উপস্থিতি তাঁর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাঁর মতে, যারা এক ধরনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও নতুন আগতদের নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “আমি তাঁদের জীবনের গল্প জানি, তাঁদের কষ্টও বুঝি। অনেক সময় মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় অন্যদের সংহতি ও সমর্থন।”
গত বছর আইসিই কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশেও অংশ নিয়েছিলেন ওয়েসেনবার্গার। তিনি জানান, এই ফেডারেল সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।
আর্চবিশপের অভিযোগ, আইসিই দাবি করে তারা বিপজ্জনক অপরাধীদের খুঁজে বের করছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ পরিবার বিচ্ছিন্ন করার দিকে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সংস্থাটির অভিযানে বাবা-মায়েরা সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন।
ওয়েসেনবার্গার আরও অভিযোগ করেন, অশ্বেতাঙ্গদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং অভিবাসীদের হেয়প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে আইসিই দেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় আইসিই এজেন্টদের মুখোশ পরার বিষয়টিরও সমালোচনা করেন তিনি।
উইসেনবার্গার বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি, আমার জীবদ্দশায় এমন দৃশ্য দেখতে হবে—মুখোশের আড়ালে থাকা ব্যক্তিরা মানুষকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।”
তাঁর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘Todos somos familia’, যার বাংলা অর্থ—‘আমরা সবাই এক পরিবার’। ক্লার্ক পার্কের কাছে একটি সড়কের মোড়ে বিক্ষোভকারীরা সম্মিলিত প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার আগে তাঁদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আর্চবিশপ।
বক্তব্যে তিনি ১৯৯৫ সালে ওকলাহোমা সিটির ফেডারেল ভবনে বোমা হামলার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সে সময় উদ্ধারকর্মীদের জন্য চ্যাপলেইন (ধর্মীয় পরামর্শদাতা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর উপস্থিতি ও সমর্থন তাঁদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। কারণ, এর মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁরা একা নন।
আর্চবিশপ বলেন, অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও বিক্ষোভকারীরা একই ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের উপস্থিতি ও সংহতির মাধ্যমে অধিকারবঞ্চিত মানুষদের এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, তাঁরা একা নন।
তিনি বলেন, “তাই এই ভালো কাজ চালিয়ে যান। আপনাদের শুধু উপস্থিত থাকাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা ঠিক সেটাই করছেন, আর এর গুরুত্ব অনেক।”
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘স্ট্রেঞ্জার্স নো লঙ্গার’ (Strangers No Longer) নামের একটি ক্যাথলিক অভিবাসী সংহতি সংগঠনসহ আরও কয়েকটি দল অংশ নেয়। বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক বিল ও’ব্রায়েন আর্চবিশপের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
তিনি একটি স্কুলের পরামর্শদাতার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুদের সহায়তায় তাঁর সংগঠন কী করতে পারে। তিনি বলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন, এমন কোনো ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হয়, যেখানে কয়েকজন মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে শিশুদের বোঝাতে পারবেন যে তাঁরা তাদের পাশে আছেন। এটিই তাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।” এরপর ওই সংগঠন ও গির্জার অন্য সদস্যরা মিলে প্রতি সপ্তাহে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন শুরু করেন, যাতে শিশুরা বুঝতে পারে, তারা একা নয়।
৪০ মিনিটের এই বিক্ষোভ চলাকালে অনেক গাড়িচালক হর্ন বাজিয়ে তাঁদের সমর্থন জানান। তবে তাঁরা যে একজন আর্চবিশপের উদ্দেশে হর্ন বাজাচ্ছেন, তা জানতেন কি না, সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :