আমেরিকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৫ হাজার বাসিন্দা গণনার বাইরে, আদালতে যাচ্ছে ডেট্রয়েট সিটি প্রাথমিক শুনানি ছাড়াই বিচারে যাচ্ছে  হ্যামট্রাম্যাকের কিশোরী অপহরণ মামলা মিশিগানে সিনেট প্রার্থীর অফিসে ইট নিক্ষেপ ও গালিগালাজ : তদন্তে পুলিশ মিশিগানে যুব ক্রীড়াকে ঘিরে  ৩ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প মিশিগানের শপিং মলে মুসলিমদের লক্ষ্য করে হুমকি, অভিযুক্ত কারাগারে টানা তৃতীয় বছর বাড়ল ডেট্রয়েটের জনসংখ্যা মিশিগানে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোয় ফেডারেল বিচারকের দণ্ড ডেট্রয়েটে তরুণদের অপরাধমুক্ত  রাখতে  ‘অকুপাই দ্য সামার’ কর্মসূচি জার্সি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে মিশিগান স্টাইকার্স এফসির যাত্রা শুরু মার্টিনকে মিশিগান ফেডারেল বিচারক পদে মনোনীত করলেন ট্রাম্প ডেট্রয়েট সুপারমার্কেটে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার রোমুলাসে বিবাদের জেরে গোলাগুলি : নিহত ১, আহত ১ হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ : হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হ্যামট্রাম্যাকে কুরআন পোড়ানোর হুমকি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে মা দিবস আজ যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ইউএসএফ শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা  পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস, প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর শপথ মাউন্ট ক্লেমেন্সে ডাককর্মীকে  লক্ষ্য করে হুমকির অভিযোগ
রথ যাত্রার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য

হ্যামট্রাম্যাকে সনাতন সংঘের রথযাত্রা ৭ জুলাই

  • আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৪ ১১:৫৪:৪২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৪ ১১:৫৪:৪২ পূর্বাহ্ন
হ্যামট্রাম্যাকে সনাতন সংঘের রথযাত্রা ৭ জুলাই
হ্যামট্রাম্যাক, ৬ জুলাই : আগামী রবিবার (৭ই জুলাই) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মীয় মহা-উৎসব রথযাত্রা। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। 
রথ যাত্রা হল একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু ধর্মীয় উৎসব যা ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরীতে জগন্নাথ মন্দিরে উদযাপিত হয়। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হল বিশাল রথে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার রথে করে মামার বাড়ি যাত্রা। রথ যাত্রা একটি প্রাচীন উৎসব এবং এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরোনো।
রথ যাত্রার উৎস ইতিহাসের অতি প্রাচীন। এর উৎপত্তি প্রায় ৫০০০ বছর আগে মহাভারতের যুগে বলে মনে করা হয়। কিংবদন্তি অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রা একবার রথে চড়ে তাদের মামা কংসের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাটি স্মরণে রেখে এই উৎসবটি পালিত হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি ১২০০ শতাব্দীতে নির্মিত হয় এবং তখন থেকেই এই রথ যাত্রা অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
রথ যাত্রা উপলক্ষে তিনটি বিশাল রথ প্রস্তুত করা হয়। প্রতিটি রথ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে সাজানো হয় এবং এতে এক একটি দেবতার মূর্তি স্থাপন করা হয়। জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ যার চাকা সংখ্যা ১৬টি, উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট রং লাল এবং হলুদ। বলভদ্রের রথ রথের নাম তালধ্বজ, চাকার সংখ্যা ১৪ টি উচ্ছতা প্রায় ৪৪ ফুট রং সবুজ এবং লাল।
সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন (বা পদ্মরথ) চাকা সংখ্যা ১২টি, উচ্চতাসপ্রায় ৪৩ ফুট, রং কালো এবং লাল। এই রথগুলি কাঠের তৈরি এবং বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। রথ তৈরির কাজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয়। দক্ষ কারিগররা বিশেষ কাঠ ব্যবহার করে রথগুলি তৈরি করেন । প্রতিটি রথ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে সাজানো হয় এবং ভক্তদের দ্বারা পূজা করা হয় এবং প্রতি বছর নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
রথ যাত্রার দিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে সমবেত হন। তারা জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথ টেনে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যান। এই মন্দিরটি জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে রথের রশি টানলে তাদের পাপ মোচন হয়। এই রশি টানার কাজে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত পুণ্যকর বলে মনে করা হয়।
গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছানোর পরে দেবতারা প্রায় এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করেন। এই সময়টিকে "গুণ্ডিচা যাত্রা" বলা হয়। এই সময়ে ভক্তরা মন্দিরে এসে দেবতাদের দর্শন করে এবং পূজা করে।
রথ যাত্রার পঞ্চম দিনে সুভদ্রার একটি বিশেষ যাত্রা হয় যা "হেরা পঞ্চমী" নামে পরিচিত। এই দিনে সুভদ্রা একটি ছোট রথে করে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন।
রথ যাত্রার সমাপ্তি হয় "বাহুডা যাত্রা" নামক আরেকটি যাত্রার মাধ্যমে। এই যাত্রায় দেবতারা পুনরায় তাদের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই সময়ে "সুনা বেসা" নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যেখানে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা সোনার গহনা পরেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
রথ যাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বহন করে। এই উৎসবের সময় পুরী শহর একটি মেলায় পরিণত হয় এবং হাজার হাজার পর্যটক এখানে সমবেত হন। রথ যাত্রার মাধ্যমে ভক্তরা ভগবানের প্রতি তাদের ভক্তি প্রকাশ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন। এই উৎসবের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের ঐক্য এবং সম্প্রিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান সময়ে ইস্কন রথযাত্রাকে সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলে। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ বড় শহরগুলিতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। 
রথ যাত্রা হিন্দু ধর্মের অন্যতম বৃহত্তম ও মহিমান্বিত উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে ভক্তরা ভগবানের আশীর্বাদ লাভ করেন এবং তাদের জীবনকে আরো অর্থবহ করে তোলেন।
এদিকে গতবছরের ন্যায় এই বছরও হ্যামট্রাম্যাক সিটির বেলমন্ট সনাতন সংঘের আয়োজনে আগামী ৭ই জুলাই রবিবার বিকাল ৫টায় বের হবে  রথযাত্রা। রথযাত্রাটি বেলমন্ট ও গ্যালাগার পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সিটির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হ্যামট্রাম্যাক সিটি অফিসের সামনে শেষ হবে।  রথযাত্রা শেষে হ্যমট্রাম্যাক সিটি মেয়রসহ অঅমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। প্রাচীন রীতি মেনে কীর্তন ও বিভিন্ন বাদ্য বাজনায় জমে উঠবে এবারের রথযাত্রা। আয়োজকরা আশা করছেন এবারের রথযাত্রাটি সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ