আমেরিকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপার পেনিনসুলা তুষারঝড়ে বিপর্যয়, অচল রাস্তা ও বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ ডেট্রয়েটে ভাঙা বোতলে নৃশংস হত্যা, দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন স্নোপ্লাওয়ে ধাক্কা, দ্বিতীয় সংঘর্ষে নিহত ফার্মিংটনের বাসিন্দা ক্লিনটন টাউনশিপে গুলিতে নারী-পুরুষ নিহত, তদন্তে পুলিশ ডেট্রয়েটে ভয়াবহ গাড়ি  দুর্ঘটনায় তিন ওয়েইন স্টেট  শিক্ষার্থী নিহত, আহত ১ প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ সোজা পথে চলবে : ডা. শফিকুর রহমান ক্লিনটন টাউনশিপে পুলিশের ধাওয়া এড়াতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২ ধর্মীয় নেতাদের সম্মানি প্রদান : প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন পাইলট প্রকল্প মিশিগানে সিনাগগে হামলা, সদস্যরা ভয়কে জয় করে একত্রিত মিশিগানে সিনাগগে গাড়ি নিয়ে ঢুকে গুলি, বন্দুকযুদ্ধের পর হামলাকারীর আত্মহত্যা হামলায় আহত সিনাগগ প্রহরী: অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা দমকা হাওয়ার তাণ্ডব : ওয়ারেনে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় জরুরি সতর্কতা সিনাগগ হামলার পর গভর্নরের বার্তা : ইহুদিবিদ্বেষ সহ্য করা হবে না সিনাগগে ট্রাক হামলার সময় শ্রেণিকক্ষে ছিল ১০৩ শিশু মিশিগানের সিনাগগে হামলার মূল উদঘাটনের প্রতিশ্রুতি দিলেন  ট্রাম্প মিশিগানে ট্রাক নিয়ে সিনাগগে ঢুকে গুলি, বন্দুকধারী নিহত মেট্রো ডেট্রয়েটে উচ্চ বাতাসের সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের দূষিত স্থানের তালিকায় অ্যান আরবারের সাবেক কারখানা
রথ যাত্রার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য

হ্যামট্রাম্যাকে সনাতন সংঘের রথযাত্রা ৭ জুলাই

  • আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৪ ১১:৫৪:৪২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৪ ১১:৫৪:৪২ পূর্বাহ্ন
হ্যামট্রাম্যাকে সনাতন সংঘের রথযাত্রা ৭ জুলাই
হ্যামট্রাম্যাক, ৬ জুলাই : আগামী রবিবার (৭ই জুলাই) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মীয় মহা-উৎসব রথযাত্রা। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। 
রথ যাত্রা হল একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু ধর্মীয় উৎসব যা ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরীতে জগন্নাথ মন্দিরে উদযাপিত হয়। এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হল বিশাল রথে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর ভাই বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার রথে করে মামার বাড়ি যাত্রা। রথ যাত্রা একটি প্রাচীন উৎসব এবং এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরোনো।
রথ যাত্রার উৎস ইতিহাসের অতি প্রাচীন। এর উৎপত্তি প্রায় ৫০০০ বছর আগে মহাভারতের যুগে বলে মনে করা হয়। কিংবদন্তি অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রা একবার রথে চড়ে তাদের মামা কংসের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাটি স্মরণে রেখে এই উৎসবটি পালিত হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি ১২০০ শতাব্দীতে নির্মিত হয় এবং তখন থেকেই এই রথ যাত্রা অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
রথ যাত্রা উপলক্ষে তিনটি বিশাল রথ প্রস্তুত করা হয়। প্রতিটি রথ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে সাজানো হয় এবং এতে এক একটি দেবতার মূর্তি স্থাপন করা হয়। জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ যার চাকা সংখ্যা ১৬টি, উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট রং লাল এবং হলুদ। বলভদ্রের রথ রথের নাম তালধ্বজ, চাকার সংখ্যা ১৪ টি উচ্ছতা প্রায় ৪৪ ফুট রং সবুজ এবং লাল।
সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন (বা পদ্মরথ) চাকা সংখ্যা ১২টি, উচ্চতাসপ্রায় ৪৩ ফুট, রং কালো এবং লাল। এই রথগুলি কাঠের তৈরি এবং বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। রথ তৈরির কাজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয়। দক্ষ কারিগররা বিশেষ কাঠ ব্যবহার করে রথগুলি তৈরি করেন । প্রতিটি রথ অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে সাজানো হয় এবং ভক্তদের দ্বারা পূজা করা হয় এবং প্রতি বছর নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
রথ যাত্রার দিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে সমবেত হন। তারা জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথ টেনে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যান। এই মন্দিরটি জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে রথের রশি টানলে তাদের পাপ মোচন হয়। এই রশি টানার কাজে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত পুণ্যকর বলে মনে করা হয়।
গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছানোর পরে দেবতারা প্রায় এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করেন। এই সময়টিকে "গুণ্ডিচা যাত্রা" বলা হয়। এই সময়ে ভক্তরা মন্দিরে এসে দেবতাদের দর্শন করে এবং পূজা করে।
রথ যাত্রার পঞ্চম দিনে সুভদ্রার একটি বিশেষ যাত্রা হয় যা "হেরা পঞ্চমী" নামে পরিচিত। এই দিনে সুভদ্রা একটি ছোট রথে করে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন।
রথ যাত্রার সমাপ্তি হয় "বাহুডা যাত্রা" নামক আরেকটি যাত্রার মাধ্যমে। এই যাত্রায় দেবতারা পুনরায় তাদের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই সময়ে "সুনা বেসা" নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় যেখানে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা সোনার গহনা পরেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
রথ যাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বহন করে। এই উৎসবের সময় পুরী শহর একটি মেলায় পরিণত হয় এবং হাজার হাজার পর্যটক এখানে সমবেত হন। রথ যাত্রার মাধ্যমে ভক্তরা ভগবানের প্রতি তাদের ভক্তি প্রকাশ করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেন। এই উৎসবের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের ঐক্য এবং সম্প্রিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান সময়ে ইস্কন রথযাত্রাকে সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলে। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ বড় শহরগুলিতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। 
রথ যাত্রা হিন্দু ধর্মের অন্যতম বৃহত্তম ও মহিমান্বিত উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে ভক্তরা ভগবানের আশীর্বাদ লাভ করেন এবং তাদের জীবনকে আরো অর্থবহ করে তোলেন।
এদিকে গতবছরের ন্যায় এই বছরও হ্যামট্রাম্যাক সিটির বেলমন্ট সনাতন সংঘের আয়োজনে আগামী ৭ই জুলাই রবিবার বিকাল ৫টায় বের হবে  রথযাত্রা। রথযাত্রাটি বেলমন্ট ও গ্যালাগার পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সিটির বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হ্যামট্রাম্যাক সিটি অফিসের সামনে শেষ হবে।  রথযাত্রা শেষে হ্যমট্রাম্যাক সিটি মেয়রসহ অঅমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। প্রাচীন রীতি মেনে কীর্তন ও বিভিন্ন বাদ্য বাজনায় জমে উঠবে এবারের রথযাত্রা। আয়োজকরা আশা করছেন এবারের রথযাত্রাটি সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কুকুরকে নির্যাতনের অভিযোগে সেন্ট ক্লেয়ার শোরসের বাসিন্দা অভিযুক্ত

কুকুরকে নির্যাতনের অভিযোগে সেন্ট ক্লেয়ার শোরসের বাসিন্দা অভিযুক্ত