আমেরিকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেট্রয়েটে বাণিজ্যিক সম্পত্তির দামে বড় পতন পন্টিয়াকে অ্যাপার্টমেন্টে গুলিবর্ষণ;  নিহত একজন, আহত আরেকজন প্রথম দিনেই সাড়া ফেলল গর্ডি হাও ব্রিজের সাইকেল ও পথচারী পথ হুইটমোর লেকে ই. কোলাই বৃদ্ধি, বন্ধ ঘোষণা করা হলো সৈকত সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮, আহত ১৩ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্টের জেরে পদ হারানো এনসিপি নেতা তানভীর গ্রেপ্তার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, পাশে ছিলেন ড. ইউনূস জুলাই শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা পেয়েছি, পুনর্গঠনে সময় লাগবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বিরত থাকতে বলল সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট কমান্ডারের বৈঠক ওক পার্কে গোলাগুলিতে নিহত ২, আহত ২ শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য নিয়ে ভারতকে ঢাকার বার্তা মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে দুইজনের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভবত প্রথম ঢাকায় চীনা সাইবার গ্যাংয়ের আস্তানা, নারীসহ গ্রেফতার ৪ ‘বেল ক্যানসেল করতে পারব আশা করছি’, বেনজীর ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিশিগানে ওয়ার্ক জোন দুর্ঘটনায় দুই সড়ককর্মীর মৃত্যু, চালক অভিযুক্ত স্টেলান্টিসের সেন্টার লাইন স্থাপনায় দুর্ঘটনায় ইউএডব্লিউ সদস্য নিহত রেডফোর্ড টাউনশিপে পরিকল্পিত হামলায় এক ব্যক্তি নিহত জগন্নাথ ভক্ত মিশিগানের বর্ণাঢ্য রথযাত্রা

প্রয়াত বিশ্বের প্রবীণতম যোগসাধক শিবানন্দ

  • আপলোড সময় : ০৪-০৫-২০২৫ ১২:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০৫-২০২৫ ১২:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
প্রয়াত বিশ্বের প্রবীণতম যোগসাধক শিবানন্দ
বারাণসী, ৪ মে : প্রয়াত  বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ যোগগুরু স্বামী শিবানন্দ বাবা। শনিবার রাতে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। 
নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন স্বামী শিবানন্দ। শ্বাসকষ্টের সমস্যাতেও ভুগছিলেন। এ অবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই গত তিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন স্বামী শিবানন্দ। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাত ৯টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যোগগুরু। গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তি ছিলেন শিবানন্দ ।
মনোরোগে পিএইচডি করা স্বামী শিবানন্দ (যোগী) ১৮৯৬ সালের ৮ আগস্ট হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শ্রীনাথ গোস্বামী মাতা ভগবতী দেবী। মা ও বাবা কয়েক বছরের বড় দিদি আরতিসহ দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করতেন। চরম দারিদ্র্যতার কারণে ৪ বছর বয়সে উনাকে নবদ্বীপের বিখ্যাত সন্ন্যাসী স্বামী ওঙ্কারানন্দর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। এর দুই বছর পর, যখন তার বয়স ৬ বছর তিনি সন্ন্যাসীর সঙ্গে বাড়ীতে ফিরে এসে শোনেন তার দিদি না খেতে পেয়ে মারা গেছেন। তার বাড়িতে আসার ৭ দিন পর মা-বাবাও একই দিনে মারা যান। তিনি স্বামী ওঙ্কারানন্দের সঙ্গে বাবা-মায়ের শ্রাদ্ধ শেষ করে ১৯০১ সালে আবার নবদ্বীপে গমন করেন। 
ডক্টর স্বামী শিবানন্দের পড়াশোনা শুরু ১৯০১ সালে নবদ্বীপে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি। ১৯২৫ সালে তিনি বিদেশে যান উচ্চ শিক্ষার জন্য। তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ১৯২৫ সালে শুরু করেন বিশ্বভ্রমণ। বিদেশি ভক্ত অনুরাগীদের আমন্ত্রণে তিনি ইংল্যান্ড, গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রিয়া, ইতালি, হাঙ্গেরি, রাশিয়া, পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, বুলগেরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অর্ধশতাধিক দেশ সফর করেছেন। ৩৪ বছর টানা বিদেশ ভ্রমণ করেন তিনি।
পরবর্তীকালে ১৯৫৯ সালে গুরুর নির্দেশে কাশীধামে ফিরে সাধনজগতে ডুব দেন। যোগসাধনার পাশাপাশি নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজেও ব্রতী এই সাধক। পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। বৃন্দাবনেও কিছুদিন  ছিলেন। ১৯৭৯ সালে বারাণসী চলে আসেন। গুরু ওমকারনন্দের কাছ থেকে যোগশিক্ষা লাভ করেন। সেখানকার দুর্গাকুণ্ডেই স্বামী শিবানন্দের আশ্রম রয়েছে। গত ১০০ বছর ধরে প্রয়াগরাজ, নাসিক, উজ্জয়ন এবং হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় অংশ নেন নিয়মিত। ২০২২ সালে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে সম্মানিত করেন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। পাশাপাশি, যোগরত্ন পুরস্তাক, বসুন্ধরা রত্ন পুরস্কারও পেয়েছেন। কুষ্ঠরোগীদের সেবাতেও নিজেকে উৎসর্গ করেন স্বামী শিবানন্দ। পুরীর প্রায় ৪০০-৫০০ কুষ্ঠরোগীর সেবা করেন তিনি, যাঁরা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত দরিদ্র এলাকাতেও যাতায়াত ছিল।
বয়স ১২৯ হলেও শেষ জীবনে যথেষ্ট সক্ষম ছিলেন স্বামী শিবানন্দ। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা যোগব্যায়াম করতেন তিনি, যা তাঁর সুদীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে বলে জানা যায়। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
“কণ্ঠে ছিল গান, পথে ছিল মৃত্যু- পেহেলি ভৈরবীর করুণ বিদায়”

“কণ্ঠে ছিল গান, পথে ছিল মৃত্যু- পেহেলি ভৈরবীর করুণ বিদায়”