ওয়ারেন, ২৭ আগস্ট : প্রেম ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি কেবল বাংলার নয়, সমগ্র মানবতার হৃদয়ে এক অনবদ্য প্রভাব রেখে গেছেন। তাঁর কবিতা ও গান—যেগুলো বিদ্রোহী উদ্দীপনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় পূর্ণ, আজও আমাদের মনকে স্পর্শ করে। তার জন্মভূমি চুয়াডাঙ্গা বা বড়াইগ্রাম নয়, বরং তার কাব্য ও সঙ্গীতের অসীম শক্তি আজ সমগ্র বাংলাভাষী জনগণকে অনুপ্রাণিত করে।
নজরুল ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা, যিনি বিদ্রোহের চেতনা ও প্রেমের উদ্দীপনা একত্রিত করে সমাজ ও সংস্কৃতির পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তাঁর কাব্য, গান ও প্রবন্ধে দেখা যায় শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা, সাম্যের প্রতি আগ্রহ এবং মানুষের প্রতি অন্তহীন ভালোবাসা। তিনি শুধু সাহিত্যের অঙ্গনে নয়, মানুষের জীবনে প্রতিটি স্তরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও স্বাধীনচেতা মনন স্থাপন করেছেন।
নজরুলের কবিতা আমাদের শিখিয়েছে অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং প্রেম ও সৌন্দর্যের পথে অদম্য চেষ্টাই মানবতার প্রকৃত শক্তি। তাঁর গানে বিদ্রোহের সুর ও ভালোবাসার স্পন্দন আমাদের প্রতিদিনের জীবনে প্রতিফলিত হয়। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, যে কোনো দুঃসময়ে সাহসী চেতনা ও অন্তরের গভীর ভালোবাসা মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারে।
আজকের মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের জন্য শুধুই শোকের দিন নয়। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিদ্রোহ ও ভালোবাসা কখনও হারায় না, এবং যে মানুষ তার জীবনকে অন্যায়, অবিচার ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসর্গ করে, তার কাজ চিরজীবী হয়ে থাকে। নজরুল ইসলামের কাব্যিক ও সঙ্গীতময় চেতনা আমাদের সমাজে ন্যায়, মানবিকতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা হিসেবে চিরকাল জ্বলতে থাকবে।
নজরুল শুধু কবি নয়, তিনি মানবতার এক দৃষ্টান্ত, যিনি আমাদের দেখিয়েছেন কিভাবে হৃদয়ে ভালোবাসা এবং বুকে বিদ্রোহ জাগিয়ে সমাজে পরিবর্তন আনা যায়। “তাঁর জীবন ও কর্ম চিরকাল আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। সেই চেতনা আমাদের শেখায় অধিকারের জন্য লড়াই কর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসীভাবে দাঁড়াও, এবং ভালোবাসার শক্তিকে কখনো ভুলে যেও না।
১৩৮৩ সনের এই দিনে (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের প্রতীক কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর পর সামরিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।
বিদ্রোহী কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেশব্যাপী নানা স্মরণীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কবির জীবন ও সাহিত্যকে স্মরণ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সকাল ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি।
বাংলা একাডেমি কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নজরুলের মৌলচেতনা অদ্বৈতবাদী সমন্বয়ের’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক।
আলোচনায় অংশ নেবেন নজরুল গবেষক ড. সৈয়দা মোতাহেরা বানু এবং কবি ও প্রাবন্ধিক কাজী নাসির মামুন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করবেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলগীতি পরিবেশন করবেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ এবং তানভীর আলম সজীব।
এছাড়া, রাজধানীসহ দেশব্যাপী নানা আয়োজনে জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কবির মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাজানো এসব আয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan