আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইসিই নিয়ে আবারও সিটি কাউন্সিলে টেলরের কঠোর মন্তব্য রোমুলাসে আইসিই আটক কেন্দ্র প্রস্তাবে আপত্তি বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার গ্রেপ্তার নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা জানলেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের আই-৯৪ সংস্কার প্রকল্প শুরু হচ্ছে মিশিগানে ডেট্রয়েটে আইসিই সীমাবদ্ধতার পথ খুঁজছেন কাউন্সিল সদস্যরা ডেটা সেন্টার স্থাপনে স্থগিতাদেশ জারি করল স্টার্লিং হাইটস হাজেল পার্কে আইসিই অভিযানে ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক গ্রেপ্তার পার্টি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্টার্লিং হাইটস ভাড়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনা করছে ওয়ারেনে স্বামী হত্যার অভিযোগে নারী অভিযুক্ত, আদালতে অভিযোগ গঠন আয়ে অগ্রগতি কিছু শহরে, তবে রাজ্যজুড়ে পিছিয়ে মিশিগান ডেটা সেন্টার অনুমোদনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে স্টার্লিং হাইটস প্লট দুর্নীতি : হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা-ববির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড একুশের গানেই শুরু হলো ভাষার মাস ষড়যন্ত্র করে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে ডেট্রয়েটে বাড়ির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা মেয়র শেফিল্ডের ক্লিনটন টাউনশিপে পারিবারিক বিবাদে গুলিতে এক নারী নিহত যারা গুপ্ত ছিল, তারাই আজ ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বলছে : ডা: শফিকুর রহমান ‘দেখামাত্র বলবেন—গুপ্ত তোমরা’ : সিরাজগঞ্জে তারেক রহমান

বাংলাদেশে ৫০ বছরে ৫শ নদী বিলীন

  • আপলোড সময় : ২৭-০৫-২০২৩ ০৯:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৫-২০২৩ ০৯:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশে ৫০ বছরে ৫শ নদী বিলীন
ঢাকা, ২৭ মে : রিস্ক বাড়ছে, বাংলাদেশ কি সত্যিই এবার নদীশূন্য হয়ে যাবে? কোন বিপর্যয় নেমে আসতে চলেছে বাংলাদেশের বুকে? কোন কোন দিক দিয়ে কতটা ভুগতে হবে বাংলাদেশকে? পর পর প্রায় ৫০০ নদীর মৃত্যু। কিন্তু এত এত নদী মরে যাওয়ার পেছনে কারণটা কি? কোথাও কি বড় দায় থেকে যাচ্ছে ভারতের? এভাবে দখল, দূষণ আর ভরাট চলতে থাকলে, বাঁচবে কি করে নদীশূণ্য বাংলাদেশ? গবেষকরা যা বলছেন তা শুনলে রীতিমতো মাথায় হাত পড়বে, নদীর এই মৃত্যু ঠেকানো না গেলে বাংলাদেশের জলবায়ু, জনজীবন ও অর্থনীতিতে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি বাংলাদেশ হয়ে যেতে পারে নদীশূন্য। সেক্ষেত্রে একটা বিরাট বড় প্রশ্ন উঠছে, নদী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে কি করে?
রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের তথ্য মতে, গত ৫০ বছরে প্রায় ৫০০ নদীর মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু,এতো এতো নদী মৃত্যুর কারণ কি? গবেষণায় উঠে আসছে নদীর জল ও পলিপ্রবাহে ক্রমাগত বাধা, নদী বেদখল হয়ে যাওয়া। তাছাড়া আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর জল সরিয়ে নেওয়াও একটা বড় ফ্যাক্টর। এরসাথে রয়েছে ষ অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যাপক দূষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব। তবে কোথাও গিয়ে এক্ষেত্রে দায় থেকে যাচ্ছে কি ভারতেরও?
ঢাকা অভিযোগ করছে বাংলাদেশে নেমে আসা নদীগুলোর ওপর শত সহস্র বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওই বাঁধের কারণেই এত বছরে, বিশেষত শুষ্ক মৌসুমে, নদীগুলোর জলপ্রবাহ ভয়াবহ মাত্রায় বাধা পেয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত আরও ছোট-বড় নদীর জলপ্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলাফল বহুমাত্রিক বিপর্যয়। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে রীতিমতো মরুময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুধু যে এসব নদী অববাহিকায় জীবন, জীবিকা, ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা তো নয়, জীবনমান, স্বাস্থ্য, প্রাণবৈচিত্র্যও বিপদে পড়ে, পড়ে চলেছে। যার আর্থিক মূল্য বের করা কিন্তু কঠিন। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির দায় বাংলাদেশ ভারতের উপরেই চাপিয়েছে।
এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করে দিতে হয়, ভারত এবং বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা ৫০ এর ও বেশি, যার মধ্যে শুধু গঙ্গা নদীর জলবণ্টন চুক্তি রয়েছে। কিন্তু, এই যে পাঁচ শতাধিক নদী বিলীন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে রীতিমতো মরু পরিস্থিতি তৈরি হওয়া, গবেষণা বলছে এটার প্রধান কারণ কিন্তু আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পলিপ্রবাহ কমে যাওয়া‌। এর ক্ষতিকর প্রভাবে বড় নদীগুলোর শাখা নদী মৃত্যুর পথে। এমনকি পদ্মার মতো তেজি নদীর আয়তনও কমেছে প্রায় অর্ধেক। এরজন্য অনেকাংশে দায়ী সেই বাঁধ নির্মাণ। একের পর এক বাঁধ নির্মাণের গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পলিপ্রবাহ বাড়বে তো নাই, বরং বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ কমবে‌। আর, পলিপ্রবাহ যত কমবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।
না আমরা বলছি না, বলছে গবেষণা। তাই বলে কি একেবারে নদী শূন্য হওয়ার পথে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ? ‘জিওমরফিক চেঞ্জ ইন দ্য গ্যাঞ্জেস-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ডেলটা’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উজানে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ ও আন্তঃনদীসংযোগ তৈরির মাধ্যমে জল প্রত্যাহার করা হলে চলতি শতকের শেষে জিবিএম অববাহিকার নদীগুলোয় পলিপ্রবাহ হ্রাস পেতে পারে ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত। ১ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অববাহিকায় ১৭ কোটি মানুষের জনজীবন শঙ্কায় পড়বে। বিশেষত বাংলাদেশে বাড়বে লবণাক্ততা। ফলে রোগবালাই সহ নানান সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি দেশ হতে পারে নদীশূন্য। এত এত নদী মৃত্যুর পেছনে আরো একটা কারণ আছে জল বন্টনের জটিলতা এবং অসম প্রত্যাহার।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগে সরব যে, জলবণ্টন নিয়ে ভারত একাই সব সিদ্ধান্ত নেয়। তেমনই জল সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ভারতের পাশাপাশি তাঁরা এবার চীনের দিকেও আঙুল তুলছে। ভারত চীনের এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে জল প্রত্যাহার করা হলে তা বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে। পলি জমা হওয়ার হারে আসবে নাটকীয় পরিবর্তন। পরিবর্তন আসবে ব-দ্বীপ এলাকার গঠনগত ভারসাম্যে। না, এখানেই শেষ নয়।পলিপ্রবাহ হ্রাস ও জল প্রত্যাহারের কারণে যখন নদীগুলো আধমরা হয়ে যায়, তখন সেসব নদী গিলে খায় দখলদার ও শিল্পকারখানার বর্জ্য। মরে যাওয়া নদী ছাড়াও জীবিত নদীগুলোকে তিল তিল করে বেদখল করছে প্রভাবশালীরা। সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের মন্তব্য টা এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছিলেন সরকারি দলের লোকেরাই নদী দখল করে আর, ঠিক এসব কারণেই বাংলাদেশ নদীশূন্য হওয়ার পথে। এখন যেসব নদী আছে, সেগুলো সবই খালের সমান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স