লন্ডন, ২১ ডিসেম্বর : গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এই অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি লিডার ময়নুল চৌধুরী হেলাল।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. অরুপ রতন চৌধুরী। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় সংগীত ও বিজয়ের গান পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সভায় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সহ সভাপতি অলি উদ্দিন শামীম ,কাউন্সিলার ফয়জুর রহমান, চীফ ট্রেজারার ডঃ রফিকুল হায়দার, আব্দুল ওদুদ দিপক, শামীম আহমেদ,মোস্তাক আহমদ, বাংলাদেশ থেকে যোগদান করেন ইউনিটের সাধারন সম্পাদক ইন্জিনিয়ার মুহিব উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যাংকার জনতা ব্যাংকের সাবেক জি এম শামীম আলম কোরেশী
ও ইকবাল হোসেন, ফ্যান্স থেকে যোগদান করেন সভাপতি ফয়ছল উদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল বাসিত, পর্তুগাল শাখার সভাপতি লায়ন আবুল হাসনাত ও আমেরিকার নিউইয়র্ক বাফলো থেকে যোগদান করেন শাম্মী আক্তার হেপী প্রমুখ ।
অনুষ্ঠানে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপাচ্য, ইংল্যান্ড, ইতালী, বাংলাদেশ, অস্টেলিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অংশগহন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট মুহিবুর রহমান মুহিব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর আশু সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এই দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।
গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক ময়নুল চৌধুরী হেলাল বলেন, এই ‘দিনটি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক, স্বাধীনতার চূড়ান্ত সাফল্যের স্মারক। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা যোগদান করেছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিরতরে শেষ করে দিতে বর্বরতার পথ বেছে নেয় পশ্চিমের শাসকেরা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার সেনারা নিরীহ নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ট্যাংক, কামান, মেশিনগানের মতো ভয়ংকর সমরাস্ত্র নিয়ে গণহত্যায় মেতে ওঠে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরুর পর থেকেই বাংলার বীর সন্তানেরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতার জন্য মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষ ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও বিপুল সম্পদহানির ভেতর দিয়ে আসে চূড়ান্ত বিজয়।এ বিজয় আমাদের অহংকার বলে উল্লেখ করে
বক্তারা তাদের বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

মোহাম্মদ সাফওয়ান মনসুর :